আন্ডারওয়ার্ল্ডের পুনরুত্থান

আইনশৃঙ্খলার জন্য সতর্কবার্তা

এফএনএস | প্রকাশ: ৫ মে, ২০২৬, ০৪:০৪ পিএম
আইনশৃঙ্খলার জন্য সতর্কবার্তা

রাজধানী ঢাকার অপরাধ জগত একসময় যেমন ভয়াবহ রূপ নিয়েছিল, তেমনি দীর্ঘ সময়ের কঠোর আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার কারণে তা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ ইঙ্গিত দিচ্ছে, আন্ডারওয়ার্ল্ড আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রকাশ্য খুনোখুনির ঘটনা জনমনে নতুন করে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে, যা নগর জীবনের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য গভীর উদ্বেগজনক। পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত তথ্য থেকে জানা গেছে, ২০২৪ সালের পর থেকে রাজধানীতে আন্ডারওয়ার্ল্ডের তৎপরতা ক্রমশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শন, ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংঘর্ষ, এমনকি দিনের আলোয় হত্যাকাণ্ড-এসব ঘটনা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। সাম্প্রতিক কয়েকটি হত্যাকাণ্ড, বিশেষ করে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের মধ্যে দ্বন্দ্বের জেরে সংঘটিত ঘটনা, প্রমাণ করে যে অপরাধী চক্রগুলো আবার সংগঠিত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। উদ্বেগের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, এসব অপরাধের পেছনে দেশ-বিদেশে অবস্থানরত প্রভাবশালী সন্ত্রাসীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ। প্রযুক্তির সুবিধা নিয়ে দূর থেকে অপরাধ পরিচালনার এই প্রবণতা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। একই সঙ্গে অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। খোয়া যাওয়া অস্ত্র উদ্ধার না হওয়া এবং সেগুলো সন্ত্রাসীদের হাতে যাওয়ার আশঙ্কা নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। অতীত অভিজ্ঞতা বলছে, রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও ধারাবাহিক অভিযান থাকলে আন্ডারওয়ার্ল্ডকে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। একসময় তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার, বিচার এবং নজরদারির মাধ্যমে পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছিল। কিন্তু সেই কঠোরতা শিথিল হলে বা নজরদারিতে ফাঁক তৈরি হলে অপরাধী চক্রগুলো পুনরায় সক্রিয় হওয়ার সুযোগ পায়। বর্তমান পরিস্থিতি সেই বাস্তবতারই প্রতিফলন। এ অবস্থায় প্রয়োজন সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি কৌশল। শুধু বিচ্ছিন্ন অভিযান নয়, বরং গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার, অবৈধ অস্ত্রের উৎস বন্ধ, এবং অপরাধী নেটওয়ার্কের আর্থিক প্রবাহ শনাক্ত করে তা বন্ধ করা জরুরি। পাশাপাশি জামিনে মুক্তি পাওয়া চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের ওপর কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে। বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা ও ফাঁকফোকরও অনেক সময় অপরাধীদের পুনরায় সক্রিয় হওয়ার সুযোগ করে দেয়-এই দিকেও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। আন্ডারওয়ার্ল্ডের পুনরুত্থানকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি নগর ব্যবস্থাপনা, আইনশৃঙ্খলা ও বিচারব্যবস্থার সমন্বিত সক্ষমতার একটি পরীক্ষা। সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যেতে পারে। তাই এখনই প্রয়োজন দৃঢ় অবস্থান, যাতে রাজধানী আবারও অতীতের অন্ধকার অধ্যায়ে ফিরে না যায়।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে