সড়ক নিরাপত্তা

গতি নিয়ন্ত্রণে জরুরি নীতিগত হস্তক্ষেপ

এফএনএস | প্রকাশ: ৫ মে, ২০২৬, ০৪:০৫ পিএম
গতি নিয়ন্ত্রণে জরুরি নীতিগত হস্তক্ষেপ

বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনা দীর্ঘদিন ধরেই এক নীরব মহামারির রূপ নিয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০২১ সালের তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতিবছর সড়ক দুর্ঘটনায় ৩১ হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটে-যা শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়, বরং হাজারো পরিবারের অপূরণীয় ক্ষতির প্রতিচ্ছবি। সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, প্রতি এক হাজার কিলোমিটার সড়কে গড়ে ৬৭ জন মানুষের মৃত্যু ঘটে, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতাকে আরও স্পষ্ট করে তোলে। এই সংকটের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে বারবার উঠে এসেছে অতিরিক্ত গতি ও বেপরোয়া যান চালনা। গবেষণার তথ্যনুযায়, দেশে প্রায় ৮০ শতাংশের বেশি সড়ক দুর্ঘটনার পেছনে এই দুটি কারণ সরাসরি দায়ী। উচ্চগতির কারণে দুর্ঘটনা ঘটলে তার তীব্রতাও বেড়ে যায়, ফলে প্রাণহানির ঝুঁকি বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। বিশেষ করে পথচারী, সাইকেল আরোহী ও মোটরসাইকেল চালকেরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন, যারা মোট মৃত্যুর অর্ধেকেরও বেশি। বিশ্ব পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর অধিকাংশই ঘটে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে, যেখানে আইন প্রয়োগ, অবকাঠামো এবং সচেতনতার ঘাটতি বিদ্যমান। বাংলাদেশও সেই বাস্তবতার বাইরে নয়। তরুণ ও কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী এই দুর্ঘটনার প্রধান শিকার হওয়ায় এর সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব আরও গভীর। এ পরিস্থিতিতে গতি নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে একটি কার্যকর নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি। যানবাহনে ‘স্পিড গভর্নর’ বাধ্যতামূলক করা, সড়কভিত্তিক গতিসীমা নির্ধারণ এবং তা কঠোরভাবে প্রয়োগ করা-এসব পদক্ষেপ দুর্ঘটনা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে শুধু আইন প্রণয়নই যথেষ্ট নয়; তার কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করাও সমান জরুরি। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ব্যবস্থা চালু করা এ ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে। একই সঙ্গে গণমাধ্যমের ভূমিকাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সচেতনতা বৃদ্ধি, দায়িত্বশীল রিপোর্টিং এবং নিয়মিত জনমত তৈরি-এসবের মাধ্যমে সড়ক নিরাপত্তা ইস্যুকে জাতীয় অগ্রাধিকারে পরিণত করা সম্ভব। সড়ক নিরাপত্তা আইন দ্রুত প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন, নিরাপদ যানবাহন নিশ্চিতকরণ এবং চালকদের প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার উন্নয়নও সমানভাবে প্রয়োজন। সড়ক দুর্ঘটনা কোনো অনিবার্য বাস্তবতা নয়; এটি প্রতিরোধযোগ্য। সঠিক নীতি, কঠোর প্রয়োগ এবং সামাজিক সচেতনতার সমন্বয় ঘটাতে পারলে প্রাণহানির এই মিছিল অনেকাংশে থামানো সম্ভব। এখন প্রয়োজন তাৎক্ষণিক ও সমন্বিত উদ্যোগ, যাতে সড়ক আর মৃত্যুর ফাঁদ হয়ে না থাকে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে