সৈয়দপুরে প্রতি বছর বেগুন চাষে আগ্রহ বাড়ছে চাষিদের

এফএনএস (ওবায়দুল ইসলাম; সৈয়দপুর, নীলফামারী) :
| আপডেট: ৬ মে, ২০২৬, ০১:০৯ পিএম | প্রকাশ: ৬ মে, ২০২৬, ০১:০৯ পিএম
সৈয়দপুরে প্রতি বছর বেগুন চাষে আগ্রহ বাড়ছে চাষিদের

নীলফামারীর সৈয়দপুরে প্রতি বছর বেগুন চাষে আগ্রহ বাড়ছে চাষিদের। স্বল্প খরচ এবং লাভ বেশি হওয়ায় চাষিরা বেগুন আবাদে ঝুকছে। কাশিরাম বেলপুকুর ইউনিয়নের সিপাইগঞ্জ বাজার এলাকার কৃষক আফজাল হোসেন বলেন, বছরে বেগুন চাষ দুইবার করা যায়। শীতকালীন বেগুন চাষ করা হয় শ্রাবন মাসের মাঝামাঝি সময় হতে আশ্বিন মাস পর্যন্ত। অপরপাশে বর্ষাকালীন চাষ করা হয় চৈত্র পুরো মাস ধরে। ওই সময় বীজ বপন এবং চারা রোপন কাজ চলে।

বীজতলা তৈরী করা হয় বালি, কমপোস্ট ও মাটি সমপরিমাণ মিশিয়ে। সবল চারা পেতে প্রথমে বীজতলায় বীজ বুনতে হয়। চারা গজানোর ৮ থেকে ১০ দিনের মধ্যে তুলে তা রোপন করতে হয়। 

দোআঁশ, বেলে দোআঁশ এবং এটেল মাটিতে বেগুন চাষ ভাল হয়। তবে পানি জমে থাকে না এমন জমিতে বেগুন চাষ করতে হবে। পানি জমে থাকা জমিতে বেগুন চাষ করলে তা পঁচে গিয়ে নষ্ট হয়ে যায়।

নীলফামারী জেলার সৈয়দপুরে বেশি বেগুনের আবাদ হয়ে থাকে বোতলাগাড়ী ইউনিয়নে। এ ইউনিয়নে একটি আদর্শ সবজী গ্রাম রয়েছে। এ গ্রামে সকল প্রকার সবজী চাষ হয়ে থাকে।

এ গ্রামের চাষি রবিউল ইসলাম জানান, তিনি প্রতি বছর বেগুন চাষ করেন। এ বছর তিনি এক বিঘা জমিতে বেগুন আবাদ করেছেন। এতে তার ব্যয় হয়েছে মোট সাত হাজার টাকা। তবে তিনি ব্যয় বাদে আয় করবেন ৫০ হাজার টাকা। তিনি বলেন, কয়েক বছরের মধ্যে গত বছর বেগুনের দাম ছিল অনেক বেশি। তিনি গত বছর বেগুনের কেজি বিক্রি করেছেন ৮০ টাকা পর্যন্ত। এ বছরও তিনি ভাল দাম পাবেন এমন আশা করছেন।

ওই গ্রামের আরেক চাষি মোখলেছুর রহমান জানান, তিনিও এ বছর দুই বিঘা জমিতে বেগুন আবাদ করেছেন। খরচ বাদে তিনি লাভ করবেন ৫০ হাজার টাকা। এমন আশা নিয়ে বেগুন ক্ষেত পরিচর্যা করছেন।

 উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের কৃষক ফজু জানান,তিনি ১০ শতক জমিতে বেগুন আবাদ করেছেন। ফলনো বেশ ভাল হয়েছে। খরচ বাদে লাভ হবে তার ১০ হাজার টাকা। বাঙ্গালীপুর ইউনিয়নের লক্ষণপুর গ্রাম। এ গ্রামের কৃষক দেলোয়ার হোসেন জানান, তিনি এ বছর ৩০ শতক জমিতে বেগুন চাষ করেছেন। তার জমিতে বেগুনের ফলন হয়েছে বেশ ভাল। ভাল একটা লাভ পাবেন এমন আশা করেন। 

সৈয়দপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ধীমান ভুষন জানান,গত বছরের তুলনায় এ বছর সৈয়দপুরে বেগুনের চাষ বেশি হয়েছে। তিনি বলেন,বর্তমানে দেশে বিভিন্ন জাতের বেগুন চাষ হয়ে থাকে। তার মধ্যে হাইব্রিড, দেশী, ডোপা। জমির পাশাপাশি এখন টবেও বেগুন চাষ করা যায়। অনেকে তা করছেও।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে