বাংলাদেশে রোহিঙ্গা সংকট দিন দিন জটিল আকার ধারণ করছে। কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা শরণার্থী বসবাস করছে, যার ফলে স্থানীয় জনগোষ্ঠী সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়ছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দীর্ঘ সময় ধরে রোহিঙ্গাদের অবস্থান তাদের জীবনযাত্রা ও পরিবেশকে বিপর্যস্ত করে তুলছে। সমপ্রতি পাহাড় কেটে ইট ও লোহার কাঠামোয় শত শত ঘর নির্মাণের উদ্যোগ স্থানীয়দের মধ্যে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশন বলছে এগুলো ‘টেকসই’ ঘর, স্থায়ী নয়। কিন্তু স্থানীয়দের আশঙ্কা, এ ধরনের অবকাঠামো রোহিঙ্গাদের স্থায়ী বসতি গড়ে তোলার পথ খুলে দিতে পারে। পাহাড় কেটে সড়ক ও সমতল ভূমি তৈরির কাজ পরিবেশের জন্যও বড় ঝুঁকি তৈরি করছে। এ নিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, আইনজীবী ও রাজনৈতিক নেতারা উদ্বেগ জানাচ্ছেন। তাদের মতে, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো মানবিক সহায়তার নামে রোহিঙ্গাদের স্থায়ী করার চেষ্টা করছে। এতে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। স্থানীয় জনমত বলছে, রোহিঙ্গাদের জন্য স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণ তাদের নিজ দেশে ফেরার আগ্রহ কমিয়ে দিতে পারে। বাংলাদেশের জন্য রোহিঙ্গা সংকট কেবল মানবিক দায়বদ্ধতার প্রশ্ন নয়, বরং জাতীয় নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতারও বিষয়। প্রায় এক দশক ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দেওয়ার ফলে স্থানীয় অর্থনীতি, পরিবেশ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি চাপে পড়েছে। আন্তর্জাতিক সমপ্রদায় প্রত্যাবাসনের প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। আমাদের অবস্থান স্পষ্ট হওয়া দরকার। মানবিক সহায়তা অবশ্যই প্রয়োজন, কিন্তু তা যেন স্থায়ী বসতি গড়ে তোলার পথে না যায়। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর উচিত রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরাতে সহায়ক ভূমিকা রাখা। বাংলাদেশ সরকারকেও স্থানীয় জনমতকে গুরুত্ব দিয়ে স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণ বন্ধে দৃঢ় পদক্ষেপ নিতে হবে। রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান একমাত্র প্রত্যাবাসন। এ জন্য আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানো, আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার করা এবং মিয়ানমারকে দায়িত্ব নিতে বাধ্য করা ছাড়া বিকল্প নেই। স্থানীয় জনগোষ্ঠীর উদ্বেগ দূর করতে এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সরকারকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা দেওয়া আমাদের দায়িত্ব, কিন্তু তাদের স্থায়ী করা আমাদের ভবিষ্যতের জন্য ভয়াবহ হবে। তাই এখনই সময়, মানবিক দায়বদ্ধতা ও জাতীয় স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করে সংকট সমাধানের পথে এগোনো।