গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ নয়, বরং স্বাধীন ও জবাবদিহিমূলক কাঠামোর মধ্যে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে চায় সরকার বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেছেন, বর্তমান বিশ্বে তথ্যপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে কোনো রাষ্ট্র টিকে থাকতে পারে না। এজন্য অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে একটি স্বাধীন ‘গণমাধ্যম কমিশন’ গঠন এখন সময়ের দাবি।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকালে রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় আয়োজিত ‘ইন্টারন্যাশনাল ক্যাবল টিভি, ব্রডকাস্টিং অ্যান্ড কমিউনিকেশন এক্সপো ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ক্যাবল অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ, কোয়াব, এ আয়োজন করে।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, “আমরা একটি স্বচ্ছ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দায়িত্ব নিয়েছি। এ নির্বাচন নিয়ে দেশে বিদেশে কেউ আঙুল তুলতে পারেনি। এই গণতান্ত্রিক ম্যান্ডেটের কারণে আমরা জনগণের কাছে দায়বদ্ধ।”
তিনি আরও বলেন, “পাওয়ার অব কমিউনিকেশন এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এখন এতটাই শক্তিশালী যে রাষ্ট্র চাইলেই সবকিছু নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে না।”
গণমাধ্যম খাতের সংস্কার প্রসঙ্গে জহির উদ্দিন স্বপন জানান, সরকার কোনো কর্তৃত্বমূলক অবস্থানে যেতে চায় না। বরং অংশীদার হিসেবে সহায়ক ভূমিকা রাখতে চায়। তার ভাষায়, “সভ্য দেশগুলোতে তথ্য মন্ত্রণালয় নয়, স্বাধীন কমিশনের মাধ্যমেই সব পরিচালিত হয়। আমরাও সেই পথেই হাঁটছি।”
গণমাধ্যম শিল্পে নির্ভরযোগ্য তথ্যের ঘাটতির কথাও তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, বর্তমানে পত্রিকার সার্কুলেশন বা টেলিভিশনের দর্শকসংখ্যা নিয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য সরকারের হাতে নেই। “মুখস্ত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়। এজন্য আমরা যৌথ স্টাডি, ডিজিটাল ডাটা কালেকশন এবং তথ্যভিত্তিক নতুন নীতিমালা তৈরির কাজ করছি,” বলেন তিনি।
তার মতে, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বিজ্ঞাপনের হার নির্ধারণ ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আসবে।
ডিজিটাল বিশ্বের ঝুঁকির বিষয়েও সতর্ক করেন তথ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা হুমকির মুখে পড়ছে। বৈশ্বিক পর্যায়ে এ নিয়ে সমন্বিত নীতিমালা না হলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে।
অনুষ্ঠানে কোয়াব সভাপতি এ বি এম সাইফুল হোসেন সোহেলের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন অ্যাসোসিয়েশন অব টেলিভিশন চ্যানেল ওনার্স, অ্যাটকো, সভাপতি অঞ্জন চৌধুরী পিন্টু। উপস্থিত ছিলেন কোয়াব সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মোশারফ আলী চঞ্চল, এক্সপোর আহ্বায়ক নিজাম উদ্দিন মাসুদসহ সম্প্রচার খাতের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিরা।
গণমাধ্যম বিশ্লেষকদের মতে, স্বাধীন কমিশন গঠনের আলোচনা বাস্তবায়নের দিকে এগোলে দেশের মিডিয়া খাতে নীতিগত পরিবর্তনের নতুন পথ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, বিজ্ঞাপন বাজার ও সম্প্রচার ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘদিনের অনিয়ম কমানোর ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।