এমপি মোশাররফ হোসেনের আশ্বাসে কলাপাড়ার কৃষকরা স্বস্তিতে

এফএনএস (কুয়াকাটা, পটুয়াখালী) : | প্রকাশ: ১০ মে, ২০২৬, ০৩:১৪ পিএম
এমপি মোশাররফ হোসেনের আশ্বাসে কলাপাড়ার কৃষকরা স্বস্তিতে

পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া-রাঙ্গাবালী) আসনের সংসদ সদস্য এবিএম মোশাররফ হোসের আশ্বাসের প্রেক্ষিতে কলাপাড়ার পাঁচ গ্রামের কৃষকের মনে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তারা এখন ফের সবজিসহ ধানের আবাদের ভরসা পেলেন। ভরসার আশ্রয়স্থল থেকে দৃঢ় মনোবল নিয়ে তারা গ্রামে ফিরে কৃষিকাজে মনোনিবেশ করলেন। জীবন-জীবিকার একমাত্র অবলম্বন নাওভাঙা-নিজকাটা খালের পানি কৃষিকাজে ১২ মাস ব্যবহারের নিশ্চয়তা পেয়ে মানুষগুলো যারপরনাই খুশি হয়েছেন। মানুষগুলো তাঁদের অভিব্যক্তি প্রকাশ করার মতো যুৎসই কথাও বলতে পারছিলেন না। 

গত ২৮ এপ্রিল থেকে টানা বৃষ্টিতে বোরো ধানের ফলন নষ্ট হওয়ায় ন্যায্যদাম না পেয়ে অন্তত পাঁচ শত কৃষক পরিবারে নেমে আসে এক অমানিশার কালো ছায়া। একেতো ধানের ন্যায্য দাম মেলেনি। লোকসানের ধকলে নুয়ে পড়েছেন। কোমর সোজা করতে করলাসহ সবজির ক্ষেত তৈরি করছিলেন। এরই মধ্যে দুঃসংবাদ নেমে এসেছিল মিঠাপানি ব্যবহারের খালটি একটি মহল অপেশাদারী লোকজন মাছ চাষের নামে লিজ নিয়েছে। সংবাদটি গুটাবাছা, নাওভাঙা, চাঁদপাড়া, নিজকাটা ও পাখিমারার একাংশের কৃষকের মাথায় বাঁজ পড়ার অবস্থা হয়েছিল। এই খালের পানির ওপর নির্ভর করে পাঁচ শতাধিক কৃষক পরিবারের ধানসহ কৃষি উৎপাদনের কাজ জীবীকা নির্বাহ করে আসছিল। তারা এই পানি শুকিয়ে সেচ সংকট মোকাবেলা করতে পারেনি এবছর। তার উপরে লিজের খবরে চরম উৎকন্ঠায় পড়েন। 

কৃষক ইব্রাহিম খান জানান, বোরো ধানের দাম জোটেনি। লাখ টাকার লোকসান হয়েছে। তার উপর অর্ধলক্ষ টাকা খরচ করে করলার আবাদ শুরু করেছেন। তারপরও এমপি সাহেবের নির্দেশে খালের পানি ব্যবহারের সুযোগ পাওয়ায় এখন স্বস্তিতে আছেন। মিলন তালুকদার জানান, ৪০ বিঘায় হাইব্রিড (বোরোর) আবাদ করে অন্তত দুই লাখ টাকা লোকসান হয়েছে। দাম পাইনি। গেল বছরের চেয়ে মণ প্রতি ৪০০ টাক কমে ৭০০ টাকায় বিক্রি করতে হয়েছে। তারপরও সেচের খালটির লিজের খবরে আগামি বছরে বোরোসহ সবজি চাষাবাদে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছিল। 

এমনকি তারা প্রধানমন্ত্রী, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিজ বাতিল করে কৃষকের হাতে খালটির নিয়ন্ত্রণ হস্তান্তরের দাবিতে আবেদন করেছিলেন। প্রয়োজনে সরকারের রাজস্ব নিজেরা চাঁদা তুলে কোষাগারে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কলাপাড়া পৌরশহরে গত সপ্তাহে মানববন্ধন করার পরিকল্পনা চুড়ান্ত করেছিলেন। এমনকি স্থানীয় সংসদ সদস্যের কাছে কষ্টের কথা বলার জন্য অর্ধশত কৃষক তার বাসায় জড়ো হয়েছিলেন। তিনি কৃষকের কষ্টের কথা আন্তরিকভাবে শুনে স্পষ্ট নির্দেশনা দিলেন কৃষকের কৃষি উৎপাদনে কোন সমস্যা তৈরি করা যাবে না। খালের নিয়ন্ত্রণ প্রকৃত কৃষকের কাছে থাকবে। যারা পানির প্রবাহ আটকে দিছে তাঁদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রতিরোধ ও ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশনার পাশাপাশি সকল ধরনের সহায়তার আশ্বাস দিলেন। 

কৃষকরা এরপর থেকে এলাকায় গিয়ে সোৎসাহে ফের কৃষিকাজে নামলেন। কেটে যায় হতাশা। যেন গ্রাম পাঁচটির কৃষকরা উদ্যমী হয়ে ফিরলেন। জীবন-জীবিকার অবলম্বন কৃষিকাজে আরো বেশি আগ্রহ নিয়ে মাঠে নেমে পড়লেন। তারা তাঁদের প্রাণের দাবি ও সন্তান সন্তুতি নিয়ে বেঁচে থাকার অবলম্বনকে আকড়ে থাকার নিশ্বয়তা পেলেন। সাহস পেলেন ইস্পাত কঠিন দৃঢ়তা নিয়ে কোমর সোজা করে মাঠে কাজ করার।  তাঁদের প্রিয় নেতার এমন ইতিবাচক ভূমিকা এখন সবজির হাবখ্যাত গোটা নীলগঞ্জ ইউনিয়নে কৃষকের জন্য সুখের বার্তা বইছে। পাশাপাশি গোটা কলাপাড়ার কৃষকদের প্রতিবন্ধকতাকারী চক্রের জন্য একটি কঠিন হুশিয়ারি বার্তা হিসেবে প্রচার পাচ্ছে। 

কুমিরমারা গ্রামের প্রবীণ কৃষক সুলতান গাজী বলেন, আমাদের এমপি মহোদয় কলাপাড়ার কৃষকের নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বস্ত অভিভাবক হিসেবে আমাদের জীবন-জীবীকার জন্য সঠিক উদ্যোগ নিলেন। এটি আমরা কখনো ভুলতে পারবো না। এমপি সাহেব খালের নিয়ন্ত্রণ কৃষকের কাছে রাখার ওয়াদা করার পাশাপাশি খনন করে মিঠা পানির ব্যবস্থার কথাও বলেছেন। এটি ছিল আমাদের প্রাণের দাবি। তিনি আমাদের মনের ভাষা বুজেছেন।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাউছার হামিদ জানান, মাননীয় জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় কৃষিকাজের স্বার্থে সকল খালের নিয়ন্ত্রণ কৃষকের কাছে ন্যস্ত করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ইতোমধ্যে এ সংক্রান্ত লিখিত প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে। এই জনপদের সংসদ সদস্য এবিএম মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘ কৃষক না বাঁচলে দেশ বাঁচবে না। কলাপাড়ার কৃষকের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হয় এমন কোন কাজ এখানে করতে দেয়া হবে না। কেউ করতে পারবে না। খালবিল জলাশয় কৃষকরা স্বস্তির সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ করবেন এটিই শেষ কথা। কৃষকের কৃষি উৎপাদন রক্ষায় তিনি সবসময় কৃষকের পাশে আছেন। থাকবেন পাশে। এটি স্পষ্ট বার্তা। এর কোন ব্যত্যয় মানা হবে না বলেও দৃঢ় মতামত ব্যক্ত করেন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে