নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে কৃষি জমির মাটি কেটে ইট ভাটায় বিক্রি করার অপরাধে মামলা ও অর্থদন্ড করার পরও প্রশাসনের আইনকে তোয়াক্কা না করে দেদারছে মাটি কাটা অব্যহত রয়েছে। এতে ভবিষ্যতে ফসল উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশ্বাস করে ফসলি জমি হারাচ্ছে উর্বরতা। বেগমগঞ্জ উপজেলায় ১টি পৌরসভা ও ১৬টি ইউনিয়নে অধিকাংশ এলাকায় কতিপয় স্বার্থন্বেষী মহল ও সন্ত্রাসী চক্রের সহযোগীতায় দীর্ঘদিন ধরে ফসলী জমির মাটি কেটে বেগমগঞ্জ ও আশপাশের জেলা উপজেলার ইট ভাটায় সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে আউশ-আমন সহ বিভিন্ন জাতের ধান ও রবি শস্য উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে করে উৎপাদন কম হওয়ার কারনে এই উপজেলায় সাত লক্ষাধিক মানুষের চাহিদা পূরনের বিপরীতে পার্শ্ববর্তী জেলা ও উপজেলা থেকে ধান এবং রবিশস্য জাতীয় খাদ্য সামগ্রী আমদানি করতে হবে। তাই এই উপজেলার জনগনের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত না করলে ভবিষ্যত প্রজন্ম খাদ্য ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। উপজেলার প্রায় ইউনিয়নের চলছে অবৈধ মাটিকাটা। আলাইয়ারপুর ইউনিয়নের আলাইয়ারপুর গ্রামের নুরু মিয়া ও বাহাদুরপুর গ্রামের আনোয়ার হোসেন বলেন, আলাইয়ারপুর মিয়া বাড়ী সংলগ্ন ইটের কুয়ার সাথে ও বাহাদুরপুর চাঁন্দার বাড়ী এবং হাসেম হুজুরের বাড়ীর সাথে প্রায় ২ একর জমি কমপক্ষে ১০ ফুট পর্যন্ত গভীর করে মাটি নিয়ে পার্শ্ববর্তী জেলা উপজেলা ও স্থানীয় ইট ভাটা গুলোতে দেওয়া হয়। বর্তমানে বাহাদুরপুর এলাকায় দেদারছে বেকু মেশিন দিয়ে প্রকাশ্যে মাটি কেটে নিয়ে গেলেও প্রশাসনের পক্ষে এখনও কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এই স্বার্থন্বেষী মহল ও তাদের সন্ত্রাসী বাহিনী মাটি বিক্রি করে লক্ষ লক্ষ টাকা অবৈধ উর্পাজন করেবসমাজে নানান অপকর্ম করে আসছে। অনেকে আবার অস্ত্র শস্ত্র কিনে জনগনের জানমালের ক্ষতি করার কথাও শোনা যাচ্ছে। এই প্রবনতা বেগমগঞ্জের আলাইয়ারপুর, ছয়ানী, রাজগঞ্জ, কাদিরপুর, রসুলপুর, শরীফপুর, হাজীপুর, গোপালপুর ইউনিয়নের প্রায় গ্রামে ঐ সন্ত্রাসীরা নানা রকম অপরাধ মূলক কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে মানুষ নিরুপায় হয়ে পড়ছে।
বেগমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিস সূত্রে জানা যায়, গত এপ্রিল ও চলতি মে মাসের ১ম সপ্তাহে উপজেলার কাদিরপুর, রসুলপুর, কুতুবপুর, শরিফপুর, হাজীপুর, ছয়ানী, রাজগঞ্জ এলাকায় ১৯টি মামলা ও প্রায় ২২ লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। কিন্তু কোনভাবে ফসলী জমির মাটি কাটা বন্ধ করা যাচ্ছে না। বেগমগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভ্রাম্যমান আদালতের ম্যাজিষ্ট্রেট সাদত হোসেন বলেন, যেখানে খবর পাওয়া যায় সেখানে অভিযান চালিয়ে মামলা ও জরিমানা করা হচ্ছে। কেহ ফসলি জমির মাটি কেটে ফসল উৎপাদনের ব্যহত করলে আরো জোরালো ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এব্যাপারে বেগমগঞ্জের লোকজন অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইন চালু করতে কৃষি মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।