চট্টগ্রামের গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকত এলাকায় পর্যটকদের ওপর হামলার ঘটনার পর অবশেষে নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। দীর্ঘদিন ধরে দখল, বিশৃঙ্খলা ও বখাটেদের দৌরাত্ম্যে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে ওঠা দেশের অন্যতম জনপ্রিয় এই পর্যটনকেন্দ্রে রবিবার চালানো হয়েছে সাঁড়াশি অভিযান। এ সময় সৈকত এলাকায় গড়ে ওঠা একাধিক অবৈধ দোকানপাট ও স্থাপনা উচ্ছেদ করে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, দুপুরের দিকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করে গুলিয়াখালী বিচ এলাকায় অবৈধভাবে গড়ে ওঠা দোকানপাট সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে সরকারি জায়গার ওপর নির্মিত বিভিন্ন অস্থায়ী দোকান ও স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। অভিযানে অংশ নেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও। সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফখরুল ইসলাম বলেন, গুলিয়াখালী বিচ সরকারি সম্পত্তি। সেখানে অনুমোদনহীনভাবে গড়ে ওঠা সব দোকান ও স্থাপনা অবৈধ। পর্যটন স্পটটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য রক্ষা, শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। গুলিয়াখালীকে কোনোভাবেই অপরাধীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হতে দেওয়া হবে না। অভিযানকালে সীতাকুণ্ড সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ আল মামুন, সীতাকুণ্ড মডেল থানার ওসি মহিনুল ইসলাম সহ উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সৈকত এলাকায় একশ্রেণির প্রভাবশালী ব্যক্তি ও বখাটে যুবকের দৌরাত্ম্য বেড়ে যায়। পার্কিং, দোলনা, বসার স্থান ও খাবারের বিলকে কেন্দ্র করে প্রায়ই পর্যটকদের সঙ্গে বিরোধ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছিল। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও প্রশাসনিক নজরদারি না থাকায় পরিস্থিতি দিন দিন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছিল। এ সময় সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিনুল ইসলাম স্থানীয় সাংবাদিকদের বলেন, গত শনিবার পর্যটকদের ওপর হামলার ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত শনিবার ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা কয়েকজন পর্যটকের সঙ্গে স্থানীয়দের সংঘর্ষের ঘটনায় এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীসহ কয়েকজন আহত হন। দোলনায় বসাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিরোধ একপর্যায়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়। পরে ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন জাতীয় ও আঞ্চলিক পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর প্রশাসন সৈকত এলাকায় অভিযান ও নিরাপত্তা জোরদারের উদ্যোগ নেয়।