বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলমকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে পূর্ণাঙ্গ শাটডাউনের কর্মসূচি দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। একই সাথে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছে আন্দোলনরত শিক্ষকরা। এদিকে ইতোমধ্যে দুই গুরুত্বপূর্ণ পদে পদত্যাগ ও অব্যাহতি নিয়েছে ২ শিক্ষক। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন সহযোগী অধ্যাপক ড. রাহাত হোসাইন ফয়সাল। একই দিনে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে সিন্ডিকেট সদস্য পদ থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেছেন সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তানভীর কায়ছার।
রবিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বরাবর জমা দেওয়া এক পদত্যাগপত্রে ড. রাহাত হোসাইন ফয়সাল প্রক্টর পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত জানান। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক। এর আগে ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অফিস আদেশে তাকে প্রক্টরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। অপরদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তানভীর কায়ছার ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলমের কাছে লিখিতভাবে অব্যাহতির আবেদন জমা দিয়েছেন। এর আগে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের পদোন্নতির দাবিকে কেন্দ্র করে গত ২০ এপ্রিল থেকে টানা ১০ দিন আন্দোলন চলছিল।
আন্দোলনের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে এবং ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি হয়। পরে সংকট নিরসনে উদ্যোগ নেয় প্রশাসন। বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং শিক্ষক প্রতিনিধি হিসেবে বিভিন্ন অনুষদের ডিনদের অংশগ্রহণে ৩০ এপ্রিল অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ তৈরি হয়। ওই বৈঠকের পর শিক্ষকরা কর্মসূচি শিথিল করলে বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্রুত ক্লাস-পরীক্ষা শুরু হওয়ার আশাবাদ তৈরি হয়েছিল। তবে শিক্ষক সমাজের দাবি, ৩০ এপ্রিলের বৈঠকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান আইন, নীতিমালা ও প্রচলিত চর্চা অনুযায়ী সংকট সমাধানের বিষয়ে সমঝোতা হলেও পরে সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বরং উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম একক সিদ্ধান্ত গ্রহণের পথে হাঁটছেন বলে অভিযোগ করেন তারা।