রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ইউএনএইচসিআর এর স্থায়ী শেল্টার নির্মাণ

বাংলাদেশের নিরাপত্তার সার্থে কক্সবাজারে নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবী

এফএনএস (বলরাম দাশ অনুপম; কক্সবাজার) : | প্রকাশ: ১১ মে, ২০২৬, ০৩:৪৬ পিএম
বাংলাদেশের নিরাপত্তার সার্থে কক্সবাজারে নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবী

কক্সবাজার সিএসও-এনজিও ফোরাম কর্তৃক আয়োজিত "কক্সবাজারে বাংলাদেশে সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা করতে হবে, রোহিঙ্গা ত্রাণ কার্যক্রমে স্থানীয় সরকার ও জনগনের অংগ্রহণ জরুরি" শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় এনজিওরা প্রত্যাবসান ত্বরান্বিত করতে একটি রোহিঙ্গা প্রত্যাবসান কমিশন গঠন করার দাবি তোলেন। সবাদ সম্মেলনটি পরিচালনা করেন সিসিএনএফ-র কো-চেয়ার রেজাউল করিম চৌধুরী। তিনি বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তার সার্থে সীমান্তে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে । রোহিঙাদের প্রবেশ বন্ধ করতে হবে। সীমান্তে বিজিবির পাশাপাশি সেনাবাহিনীর উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। বাংলাদেশের সামরিক শক্তি বৃদ্ধিতে কাজ করতে হবে। আসিয়ান (অঝঊঅঘ) ফোরামে বাংলাদেশের রোহিঙ্গা সমস্যা ও প্রত্যাবাসন নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাওয়া এবং চাপ প্রয়োগ করতে হবে। রোহিঙ্গা ইস্যুতে আরাকান আর্মিদের সাথে আলোচনায় বসতে হবে। তিনি কক্সবাজারের সমসাময়িক ইস্যুর পাশাপাশি রোহিঙ্গা বিষয়ে এবং জাতীয় নিরাপত্তার সার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করার জন্য কক্সবাজারের সংসদ সদস্যদের প্রতি আহবান জানান। সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, ইউএনএইচসিআর ও জাতি সংঘের বেশকিছু সংস্থা তাদের কাজে স্থানীয় এনজিওদেরকে বাদ দিয়ে বিভিন্ন আর্ন্তজাতিক সংস্থাগুলোকে দিয়েছে যেমন-একশন এইড, টিডিএইচ, এক্টেড। কিন্তু এসকল আর্ন্তজাতিক সংস্থাগুলো তাদের নিজ উৎপত্তি দেশ থেকে তহবিল সংগ্রহ করে কাজ করার কথা। বক্তারা জাতি সংঘের সংস্থাগুলোর এই কার্যক্রমের তীব্র বিরোধিতা করেন। 

সিসিএনএফের সদস্য সচিব জাহাঙ্গীর আলম, , সম্প্রতি ইউএনইচসিআর ব্র্যাক ও ইনফিনিক্স এর মাধ্যমে ক্যাম্পে রোহিঙ্গাদের জন্য স্থায়ী কাঠামোর ঘর নির্মাণ করছে। যা স্থানীয় সরকার ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের সাথে কোন আলোচনা করা হয়নি। তিনি বলেন, এর ফলে স্থানীয়দের মধ্যে একটি নেতিবাচক মনোভাব তৈরি করেছে। তিনি আরো বলেন, নির্মাণে যেসব উপকরণ ব্যবহার করা হচ্ছে যা পরিবেশবান্ধব নয় (যেমন প্লাস্টিক ত্রিপল)। তিনি বলেন, সারা পৃথিবীতে শরনার্থীদের জন্য এমন কোন স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণের নজির নেই। এটা বাস্তবায়ন হলে আরো রোহিঙ্গার ঢল সামলাতে হবে। তাই তিনি এই সিদ্ধান্ত জনগন ও স্থানীয় সরকারের সাথে আলোচনা করে নিতে হবে। 

সিসিএনএফ এর সদস্য মোঃ হেলাল উদ্দিন বলেন, টঘঙঈঐঅ কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক সহায়তা হিসেবে ১৫০ মিলিয়ন তহবিল দিয়েছে। যার ৯২% জাতিসংঘ ও ৮% আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তাদের স্থানীয়করণ প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এই তহবিলের ২৫% সরাসরি স্থানীয় এনজিওকে দেওয়ার কথা। তিনি আরো বলেন, মহান সংসদে আইন করা উচিত যাতে জাতিসংঘের কোন সংস্থা স্থানীয় এনজিওর ব্যতিরেখে কোন প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে না পারে। পাশাপাশি তিনি ঔজচ কে স্থানীয় এনজিওর জন্য উন্মুক্ত করার দাবি জানান যেখানে বেশির ভাগ জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক ও জাতীয় এনজিও দখল করে আছে। 

কোস্ট ফাউন্ডেশনের সহকারী পরিচালক মোঃ শাহিনুর ইসলাম বলেন, ইজঅঈ স্থানীয় এনজিওদের জন্য একটি পুল ফান্ড বাস্তবতায় করছে। এতে মাত্র ২২% ভাগ স্থানীয় এনজিও এবং ৭৮% ভাগ জাতীয় এনজিও এই তহবিল পাচ্ছে। কিন্তু এই তহবিল তো স্থানীয় এনজিওর জন্য। তিনি বলেন, এই পুল ফান্ড স্থানীয় এনজিওর কনর্সটিয়ামের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হোক। তিনি পুল ফান্ডের কার্যকারীতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। কারণ তারা স্থানীয় এনজিওর সক্ষমতা  বৃদ্ধিতে অনেক কাজ করলেও এখনো পর্যন্ত কোন এনজিও কোন সেক্টরের দায়িত্ব নিতে পারে নি। পাশাপাশি কক্সবাজারে কর্মরত অনেক আইএনজিও ও জাতিসংঘ সংস্থায় অধিকাংশ প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তারা একটি নির্দিষ্ট দেশের নাগরিক। তিনি মনে করেন, এটি আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য উদ্বেগে এবং এরা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া বিলম্বিত করতে প্রভাবিত করতে পারে। তাই এসব গুরুত্বপূর্ণ পদে বাংলাদেশি ও কক্সবাজারে সন্তানদেরকে নিয়োগ দিতে হবে।  

সিইএইচআরডিএফ এর প্রধান নির্বাহী ও পরিবেশ আন্দোলন কর্মী মোঃ ইলিয়াস মিয়া, বলেন, রোহিঙ্গাদের জন্য ৮০০০ একর বনভূমি নষ্ট করে তাদের থাকার জন্য ক্যাম্প গড়ে তোলা হয়েছে। বনভূমির এই ধ্বংস কক্সবাজারের পরিবেশের জন্য মারাত্মক বিপর্যয় নিয়ে আসছে। পানি স্থর নিচে নেমে যাচ্ছে। তাই তিনি ভূ-গর্ভস্থ পানি উত্তোলন বন্ধ করে নাফ নদীর পানি পরিশোধন করে সরবরাহের করা এবং পুকুর খননের উপর জোর দেন।  

কোস্ট ফাউন্ডেশনের , সহকারী পরিচালক তানজির উদ্দিন রনি বলেন, কক্সবাজারে রোহিঙ্গা সংকট ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় সরকার ও জনগণের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তানজির উদ্দিন রনি। তিনি বলেন, বর্তমানে বেশকিছু সংস্থার সমন্বয়ে গঠিত হয়েছে রোহিঙ্গা কো-অর্ডিনেশন টিম (জঈঞ)। কিন্ত এতে স্থানীয় সরকার কোন প্রতিনিধি নেই। ফলে সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্থানীয় জনগণের স্বার্থ যথাযথভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে না। তিনি সংসদ সদস্যসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের এই কাঠামোতে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান।  তিনি আরও বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় কক্সবাজারবাসীর মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে জবাবদিহিমূলক একটি ‘রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন কমিশন গঠনের দাবি জানান, যারা প্রত্যাবাসন নিয়ে কাজ করবেন এবং এর অগ্রগতি জনগনের সামনে তুলে ধরবে।

কম্বাইন হিউম্যান রাইটস ওয়ার্ল্ড এর কেন্দ্রীয় বিশেষ প্রতিনিধি ইঞ্জিনিয়ার রবিউল হাসান বলেন, ক্যাম্পে এনজিও সুশীলন এর মাধ্যমে বিশ্ব খাদ্য কর্মুসচি (ডঋচ) রোহিঙাদের ভেন্ডরশিপ প্রদান করার মাধ্যমে তাদেরকে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করা হচ্ছে যা উদ্বেগজনক। এই ধরনের কার্যক্রমকে সঠিকভাবে তদারকি করা জরুরি। রাজাপালং ৯নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ইঞ্জিনিয়ার হেলার উদ্দিন বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছি রোহিঙা ক্যাম্পের বৈর্জ্য স্থানীয়দের ৩০০ একর আবাদি জমি চাষ অযোগ্য করেছে, ভূগর্ভস্থ পানির স্থর নিচে নামছে যা আমরা এখন পুরোপরি উপলব্ধি করতে না পারলেও দশ বছর পর তা পারবো। কিন্তু দুঃখজনক ব্যাপার হলো আমাদের এই কথাগুলোকে উপেক্ষা করা হচ্ছে।

রেজাউল করিম চৌধুরি প্রশ্নোত্তোর পর্বে বলেন, আমরা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে কোন ধরনের অগ্রগতি দেখি না। এমনকি এই বিষয়ে কি আলোচনা হচ্ছে, কি সিদ্ধান্ত হচ্ছে, তা আমাদেরকে জানানো হয়না। আমরা প্রত্যাবাসন বিষয়ে কোন রোড ম্যাপ দেখিনা। তিনি বলেন, উখিয়া টেকনাফ সীমান্তে কোন ধরনের নিরাপত্তা নেই, বিজিবি শক্তিশালী নয়, প্রতিনিয়ত রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। ২০১৪ সালে আমরা সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জানিয়েছি যে বাংলাদেশের কক্সবাজার অঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদার করা জরুরি। সেনাবাহিনীর সংখ্যা বাড়ানো দরকার, তাদেরকে শক্তিশালী করা দরকার। কিন্তু এইবিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের নিরাপত্তা বিষয়ক কোন জাতীয় পলিসি কিংবা পরিকল্পনা নেই। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, গতবছর সেপ্টেম্বর ড. ইউনুসের প্রচেষ্ঠার জেনেভায় রোহিঙ্গা বিষয়ক একটি কনফারেন্সের আয়োজন করা হয়েছিল। পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয় এই বিষয়ে কোন কাজ করছে কিনা আমরা সন্ধিহান।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে