শিশু রেশমীর মৃত্যু, পান আনতে গিয়ে প্রাণ হারাল এক নিষ্পাপ জীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক
| আপডেট: ১৪ মে, ২০২৬, ০৩:১২ পিএম | প্রকাশ: ১৪ মে, ২০২৬, ০৩:১২ পিএম
শিশু রেশমীর মৃত্যু, পান আনতে গিয়ে প্রাণ হারাল এক নিষ্পাপ জীবন

চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী এলাকার রউফাবাদ কলোনিতে সন্ত্রাসীদের গুলিতে গুরুতর আহত পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী রেশমী আক্তার সাত দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই শেষে শেষ পর্যন্ত না ফেরার দেশে চলে গেছে। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকাল পৌনে ১০টায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। একই ঘটনায় ওই সময় ঘটনাস্থলে হাসান রাজু (২৪) নামে আরও এক যুবক নিহত হন।

চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, গুলিটি রেশমীর বাঁ চোখ ভেদ করে সরাসরি মাথার ভেতরে প্রবেশ করে মস্তিষ্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশে আটকে যায়। অবস্থার জটিলতার কারণে অস্ত্রোপচার সম্ভব হয়নি। শুরুতে তাকে নিউরোসার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হলেও পরে উন্নত পর্যবেক্ষণের জন্য আইসিইউতে রাখা হয়। কয়েক দিন লাইফ সাপোর্টে থাকার পরও শেষ রক্ষা হয়নি তার।

ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত বৃহস্পতিবার রাতে রউফাবাদ এলাকার শহীদ মিনার গলি ও আশপাশের এলাকায়। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, মুখোশধারী কয়েকজন সশস্ত্র ব্যক্তি হাসান রাজুকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। প্রাণ বাঁচাতে দৌড়াতে গিয়ে তিনি ঘটনাস্থলেই গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। একই সময় মায়ের কথায় দোকান থেকে পান আনতে বের হওয়া রেশমী গুলির মধ্যে পড়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যে ঘটে যাওয়া এই সহিংসতায় এলাকা আতঙ্কে ছড়িয়ে পড়ে।

পরিবার ও স্থানীয়রা জানান, প্রায় চার থেকে পাঁচ মিনিট ধরে চলা গুলিবর্ষণের সময় রেশমী নিজেকে নিরাপদে সরাতে পারেনি। পরে গুরুতর অবস্থায় তাকে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে চমেক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসকেরা জানান, গুলিটি মস্তিষ্কে গভীরভাবে প্রবেশ করায় জীবন রক্ষা করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে।

চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন বলেন, “গুলিটি চোখ দিয়ে মাথার ভেতরে প্রবেশ করায় মস্তিষ্কে গুরুতর ক্ষতি হয়। অস্ত্রোপচারের সুযোগ ছিল না।”

এই ঘটনায় এলাকায় শোক ও ক্ষোভের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা বলছেন, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

প্রসঙ্গত, একই হামলায় নিহত হাসান রাজু বোনের বাসায় বেড়াতে এসেছিলেন বলে জানা যায়। ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা চলছে।

বিবিসি জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে নগর এলাকায় সশস্ত্র সহিংসতার ঘটনায় সাধারণ নাগরিকদের ঝুঁকি বাড়ছে, যা স্থানীয় প্রশাসনের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

রেশমীর মৃত্যুতে পরিবারসহ এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোক বিরাজ করছে। এক নিমিষেই থেমে গেল একটি শিশুর স্বপ্ন, আর একটি পরিবার হারাল তাদের সবচেয়ে ছোট সদস্যকে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে