দুইশ' টাকার জন্য খুলে নেয়া হয় অক্সিজেন মাস্ক, অতঃপর রোগীর মৃত্যু

এফএনএস (বরিশাল প্রতিবেদক) : | প্রকাশ: ১৪ মে, ২০২৬, ০৩:৪০ পিএম
দুইশ' টাকার জন্য খুলে নেয়া হয় অক্সিজেন মাস্ক, অতঃপর রোগীর মৃত্যু

মাত্র দুইশ' টাকার জন্য  তীব্র শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তিরত এক রোগীর অক্সিজেন মাস্ক খুলে নিয়েছে হাসপাতালের এক কর্মচারী। এতে মুহুর্তের মধ্যে ওই রোগীর মৃত্যুর পর বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালজুড়ে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পরে। পরবর্তীতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করেছেন।

মৃত দিপালী সিকদার (৪০) মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার পূর্ব খরকি গ্রামের বাসিন্দা শংকর সিকদারের স্ত্রী। বুধবার (১৩ মে) বিকেলে হাসপাতালের ওপিডি ভবনের মেডিসিন বিভাগে এ ঘটনা ঘটেছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে অভিযুক্ত কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্তের সত্যতা স্বীকার করে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. একেএম মশিউল মুনীর বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর অভিযুক্ত সোহেল নামের একজন কর্মচারীকে তাৎক্ষণিকভাবে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি তার বেতন বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আজ বৃহস্পতিবার ঘটনায় তদন্তে কমিটি গঠন করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

মৃতের স্বজনরা জানিয়েছেন, বুধবার বিকেল তিনটার দিকে তীব্র শ্বাসকষ্ট নিয়ে দিপালীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে দ্রুত মেডিসিন বিভাগে স্থানান্তর এবং টানা অক্সিজেন দেওয়ার নির্দেশ দেন। তবে শয্যা সংকট ও অক্সিজেন পয়েন্টের সমস্যার কারণে তাকে ট্রলিতে রেখেই অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছিল।

দিপালীর ভাই মিলন হাওলাদার বলেন, মেডিসিন ইউনিট-১ এর কর্মচারী সোহেল পাশের আরেক রোগীর স্বজনের কাছ থেকে ২০০ টাকা নিয়ে ট্রলি সরিয়ে নিতে চান। এ সময় তিনি দিপালীর অক্সিজেন লাইন খুলে দেন। পরিবারের সদস্যরা অনুরোধ করলেও তিনি তা শোনেননি। অক্সিজেন বিচ্ছিন্ন করার কয়েক মিনিটের মধ্যেই দিপালীর মৃত্যু হয় বলে তিনি দাবি করেন।

রোগীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্বজনরা ক্ষুব্ধ হয়ে অভিযুক্ত কর্মচারীকে আটক করে মারধর করেন। পরে হাসপাতালের অন্যান্য স্টাফ ঘটনাস্থলে আসলে উভয়পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে কিছু সময়ের জন্য হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা ব্যহত হয় এবং রোগী-স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পরে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হাসপাতালের নিরাপত্তায় নিয়োজিত আনসার সদস্যরা হস্তক্ষেপ করেন। দায়িত্বরত আনসার সদস্য নিঠুর রঞ্জন জানান, উত্তেজিত স্বজনরা সোহেলকে মারধর করছিলেন। পরে আনসার সদস্যরা তাকে উদ্ধার করেন। ঘটনার পর অভিযুক্ত কর্মচারী হাসপাতাল ত্যাগ করেন।

এ ঘটনায় দিপালীর পরিবার হাসপাতাল পরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি আল মামুন উল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। মৃতের স্বজনদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে