সিলেটে কোরবানির পশুর চামড়া সংরক্ষণ ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন নানা উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম। তিনি বলেন, কেউ চামড়া বিক্রি করতে না পারলে জেলা প্রশাসনকে জানানোর জন্য। সেক্ষেত্রে স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে চামড়া সংগ্রহ করা হবে, যাতে কোনো অবস্থাতেই এই জাতীয় সম্পদ নষ্ট না হয়। মঙ্গলবার সকালে সিলেট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন জেলা প্রশাসক।
তিনি জানান, এবার সিলেট জেলায় কোরবানির পশুর প্রায় ৭০ থেকে ৮৫ হাজার চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। চামড়া সংরক্ষণে সহায়তার জন্য সরকারিভাবে ৩৪৫ টন লবণ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের বিষয় বিবেচনায় রেখে স্কুল-কলেজ, খেলার মাঠ ও পর্যটনকেন্দ্রের আশপাশে কোরবানি না দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণে সিলেট সিটি করপোরেশনকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কোরবানি শেষে সর্বোচ্চ আট ঘণ্টার মধ্যে বর্জ্য পরিষ্কারের কাজ সম্পন্ন করা হবে বলে উল্লেখ করেন জেলা প্রশাসক। এদিকে, কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক সংগঠন ‘কওমি মাদ্রাসা সংরক্ষণ পরিষদ’ বাড়ি বাড়ি গিয়ে কোরবানির চামড়া সংগ্রহ না করার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, জেলা প্রশাসনের আশ্বাসের পর তারা সেই অবস্থান থেকে সরে এসেছে। সোমবার জেলা প্রশাসকের সঙ্গে বৈঠক শেষে সংগঠনটির সদস্যসচিব মাওলানা মুশতাক আহমদ খান বলেন, সরকার নির্ধারিত দামে চামড়া বিক্রি নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিবহন ও প্রক্রিয়াজাতকরণে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন। এ কারণে তারা আগের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করেছেন।
তবে তিনি জানান, অনেক মাদ্রাসায় ইতোমধ্যে ঈদের ছুটি শুরু হওয়ায় শিক্ষার্থীরা বাড়ি চলে গেছে। এতে চামড়া সংগ্রহে জনবল সংকট তৈরি হয়েছে। তাই নগরবাসীকে নিজ উদ্যোগে নিকটস্থ মাদ্রাসায় দানের চামড়া পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
উল্লেখ্য, গত ১১ মে সংবাদ সম্মেলনে কওমি মাদ্রাসা সংরক্ষণ পরিষদ অভিযোগ করেছিল, চামড়ার ন্যায্যমূল্য না থাকায় বছরের পর বছর লোকসানের মুখে পড়ছে মাদ্রাসাগুলো। পরিবহন ব্যয় বহন করতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে বলে দাবি করে সংগঠনটি। একই সঙ্গে চামড়া শিল্পে বিদ্যমান সিন্ডিকেট ভেঙে বাজারে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকারের কার্যকর উদ্যোগের দাবি জানিয়েছিল তারা।