রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকীতে দোয়া

এফএনএস (জহিরুল ইসলাম; সীতাকুণ্ড, চট্টগ্রাম) : | প্রকাশ: ৩১ মে, ২০২৬, ১১:৪৬ এএম
রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকীতে দোয়া

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা, মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক ও স্বনির্ভর বাংলাদেশের রূপকার শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে খতমে কোরআন, দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৩০ মে) বিকেল ৪টায় উপজেলার ভাটিয়ারী ইউনিয়নের জলিল গেইট এলাকায় সংসদ সদস্য অধ্যাপক আসলাম চৌধুরী এফসিএ’র বাসভবনে সীতাকুণ্ড উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ডা. কমল কদরের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব মোহাম্মদ মোরসালিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভার শুরুতে পবিত্র কোরআন খতম, মিলাদ ও বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। পরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কর্মময় জীবন, স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন ভূমিকা, বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং দেশের উন্নয়ন-অগ্রগতিতে তাঁর অবদান নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রুহের মাগফিরাত, দেশ ও জাতির কল্যাণ, গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা এবং বাংলাদেশের শান্তি-সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। পরে উপস্থিত নেতাকর্মীদের মাঝে তবারক বিতরণ করা হয়।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির সাবেক যুগ্ম মহাসচিব ও চট্টগ্রামের জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেতা, সংসদ সদস্য অধ্যাপক আসলাম চৌধুরী এফসিএ বলেন, আপনারা হয়তো আমার শপথ নিয়ে অনেক সময় চিন্তা করছেন। শপথ দেরি হচ্ছে, দেরিতে হলেও আপনাদের আস্থা রাখতে হবে। আমার বিশ্বাস, আপনারা যাকে নির্বাচিত করেছেন মহান রাব্বুল আলামিনের কৃপায় তাঁর শপথ কেউ রুখতে পারবে না, ইনশাআল্লাহ। আপনারা যত বেশি অপেক্ষা করবেন, ততই আপনাদের জন্য ভালো কিছু অপেক্ষা করবে। আমরা সবাই মিলে আল্লাহর দেওয়া নিয়ামত ভবিষ্যতে উপভোগ করব, ইনশাআল্লাহ।

তিনি আরও বলেন, আজ স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী। বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রের জন্য তিনি নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন। দেশের মানুষের জন্য গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা, উন্নয়ন ও অর্থনীতির গতিধারা সৃষ্টি করে তিনি শাহাদাতবরণ করেন। বাংলাদেশের জন্য তিনি শুধু নিজেকেই নয়, তাঁর পরিবারকেও উৎসর্গ করেছেন।

অধ্যাপক আসলাম চৌধুরী বলেন, শহীদ জিয়ার আদর্শের ধারাবাহিকতায় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘ সংগ্রামের মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন। গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার রক্ষার সংগ্রামে তিনি আপসহীন ভূমিকা পালন করেছেন এবং মানুষের ভোটের অধিকার ফেরত দিয়েছেন। বর্তমানে তারেক রহমান বাংলাদেশের মানুষের কল্যাণে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছেন। তিনি দেশ ও জনগণের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবছেন এবং একটি আধুনিক, সমৃদ্ধ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন।

বক্তারা বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ছিলেন স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশ পুনর্গঠনের অন্যতম স্থপতি। কৃষি, শিল্প, শিক্ষা, অর্থনীতি ও স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার উন্নয়নে তাঁর গৃহীত পদক্ষেপ দেশের অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, উৎপাদনমুখী অর্থনীতি গঠন এবং জাতীয়তাবাদী চেতনা বিকাশে তাঁর অবদান ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। এসময় উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল, শ্রমিক দল, কৃষক দলসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে