ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে ‘অগ্নিযুগের বিপ্লবী উল্লাসকর দত্ত’ নামক গ্রন্থের মোড়ক উম্মোচন করা হয়েছে। ঈদ-উল-আযহার পরের দিন গত শুক্রবার বিকেলে ‘উল্লাসকর স্মৃতি পরিষদ’ এর আয়োজনে ত্রিতাল সংগীত নিকেতনের সভা কক্ষে এক অনাঢ়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে প্রকাশনা অনুষ্ঠানটি। ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতাই এই গ্রন্থ প্রকাশের মূল উদ্দীপক। বইটির রচয়িতা স্থানীয় ত্রিতাল সংগীত নিকেতনের অধ্যক্ষ লেখক গবেষক ও সাহিত্য-সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সঞ্জীব কুমার দেবনাথ। এই উপলক্ষে স্মৃতি পরিষদের আহবায়ক ও প্রেসক্লাবের সভাপতি মোহাম্মদ আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য এডভোকেট জিয়াউল হক মৃধা। প্রধান আলোচক ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের চেয়ারম্যান ডক্টর মো. এমরান জাহান। সদস্য সচিব জহিরূল ইসলাম রিপনের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন- সরাইল সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ মৃধা আহমাদুল কামাল, আইন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ন সচিব শাহিনুর ইসলাম, সাবেক শিক্ষক প্রমথ চক্রবর্তী, উপজেলা দূর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি ও সাবেক প্রধান শিক্ষক মো. আইয়ুব খান, কথা সাহিত্যিক আবুল হোসেন, প্রেসক্লাবের সম্পাদক তৌফিক আহমেদ তফছির, সহসভাপতি সৈয়দ কামরূজ্জামান ইউসুফ, সাবেক সহসভাপতি এম.এ মুসা, দেবদাস সিংহ রায়, প্রভাষক ও সাংবাদিক মোহাম্মদ মাহবুব খান, লেখক জিয়া উদ্দিন ঠাকুর, সাংবাদিক মো. শরীফ উদ্দিন, আব্দুল জব্বার প্রমূখ। রচয়িতাকে অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বক্তারা বলেন, প্রকাশিত গ্রন্থে বিপ্লবী উল্লাসকর দত্তের পারিবারিক জীবন, সংগ্রামী জীবন, বিপ্লবী কর্মকান্ড, অলিপুর বোমা হামলার ঘটনা, উল্লাসকর দত্তের ফাঁসির আদেশ, পরিবর্তিত হয়ে যাবজ্জীবন কারাদন্ড, আন্দামান দ্বীপের কারা জীবন, মানসিক অসুস্থতা, কারাগার থেকে মুক্তি, মুক্ত জীবনে পূর্ব বাংলায় বসবাস, শেষ জীবনে প্রেমিকা লীলা পালের সাথে বৈবাহিক জীবন, আসামের শিলচরের জীবন-যাপন ও মৃত্যু-এসব বিষয় পৃথকভাবে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। সঞ্জীব কুমার অসম সাহসী বীর বিপ্লবী পুরূষ সরাইল তথা জাতীর গর্ব উল্লাসকরের চেতনাকে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে জীবন্ত করার লক্ষ্যেই এ কাজটি করেছেন। রচয়িতা তার এ গ্রন্থটি স্বাধীনতা আন্দোলনের বীর সেনানী সরাইলের কৃতি সন্তান দেওয়ান মাহবুব আলী কুতুব মিয়াকে উৎসর্গ করেছেন।