প্রত্যাশিত ভিড় নেই সিলেটের পর্যটনকেন্দ্রে, ক্ষতির শঙ্কায় উদ্যোক্তারা

এফএনএস (এইচ এম শহিদুল ইসলাম; সিলেট) :
| আপডেট: ৩১ মে, ২০২৬, ০৪:৩২ পিএম | প্রকাশ: ৩১ মে, ২০২৬, ০৪:৩২ পিএম
প্রত্যাশিত ভিড় নেই সিলেটের পর্যটনকেন্দ্রে, ক্ষতির শঙ্কায় উদ্যোক্তারা

ঈদুল আজহার দীর্ঘ ছুটিকে কেন্দ্র করে প্রতিবছর দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ভ্রমণপিপাসু মানুষের ঢল নামে সিলেট অঞ্চলের পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে। চায়ের রাজধানী ও প্রকৃতির লীলাভূমি খ্যাত সিলেটের শ্রীমঙ্গল চা বাগান, জাফলং, সাদা পাথর, টাঙ্গুয়ার হাওর, নীলাদ্রি লেকসহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে সাধারণত উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। তবে এবার সেই চিত্র অনেকটাই ভিন্ন। প্রত্যাশার তুলনায় পর্যটকের উপস্থিতি কম থাকায় হতাশা ও দুশ্চিন্তায় পড়েছেন পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

শুক্রবার ঈদের দ্বিতীয় দিন থেকে শুরু করে ছুটির সময়জুড়ে সিলেট, মৌলভীবাজার ও সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি থাকলেও আগের বছরের মতো ভিড় চোখে পড়েনি। বিশেষ করে স্থানীয় দর্শনার্থীদের উপস্থিতিই ছিল বেশি, দূরদূরান্ত থেকে আসা পর্যটকের সংখ্যা ছিল তুলনামূলক কম।

পর্যটনসংশ্লিষ্টদের মতে, দেশের বিভিন্ন এলাকায় হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ে উদ্বেগ, সড়কপথে দীর্ঘ যানজট, ট্রেনের টিকিট সংকট, ঈদের পরে ছুটি কম থাকা, যাতায়াত ব্যয় বৃদ্ধি, আবহাওয়ার বিরূপ প্রভাব ও টানা বৃষ্টির কারণে অনেকেই ভ্রমণ পরিকল্পনা বাতিল করেছেন। ফলে ঈদকে কেন্দ্র করে প্রত্যাশিত সংখ্যক পর্যটক সিলেটমুখী হননি।

শ্রীমঙ্গলে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা পর্যটক মামুন মিয়া বলেন, “ঈদের দিন কোরবানির আনুষ্ঠানিকতা শেষ করেই শ্রীমঙ্গলে চলে এসেছি। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখছি। চারদিকে সবুজের সমারোহ ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য মনকে প্রশান্ত করে। ব্যস্ত জীবনের ক্লান্তি দূর করতে শ্রীমঙ্গল সত্যিই অসাধারণ একটি জায়গা।”

বরিশাল থেকে আসা পর্যটক মিজানুর রহমান বলেন, “ঈদের আগের দিনই পরিবার নিয়ে শ্রীমঙ্গলে এসেছি। এখানে তিন দিন থাকার পরিকল্পনা রয়েছে। চা-বাগান, লেক ও বনাঞ্চল ঘুরে দেখছি। আবহাওয়া কিছুটা গরম হলেও শ্রীমঙ্গলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আমাদের মুগ্ধ করেছে।”

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল, বিভিন্ন চা-বাগান ও পর্যটনকেন্দ্রে অন্যান্য বছরের তুলনায় পর্যটকের উপস্থিতি অনেক কম বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বিকেলের দিকে কিছু স্থানীয় দর্শনার্থী এলেও দূরদূরান্ত থেকে আসা পর্যটকের সংখ্যা ছিল হাতেগোনা। অথচ ঈদ কিংবা দীর্ঘ ছুটিতে সাধারণত জেলার রিসোর্ট ও হোটেলগুলো আগাম বুকিংয়ে পূর্ণ থাকে।

রাধানগর ট্যুরিজম এন্টারপ্রেনার অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি তাপস দাশ বলেন, “ঈদ উপলক্ষে রাধানগর এলাকার হোটেল, রিসোর্ট ও কটেজগুলোতে প্রায় ৭০ শতাংশ আগাম বুকিং সম্পন্ন হয়েছিল। তবে ঈদের প্রথম দিনে পর্যটকের উপস্থিতি কিছুটা কম ছিল। পরে ধীরে ধীরে পর্যটকের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।” শ্রীমঙ্গল পর্যটন সেবা সংস্থার সাবেক সভাপতি ও গ্র্যান্ড সেলিম রিসোর্টের মালিক সেলিম আহমেদ বলেন, “হামের প্রভাব ও ঈদের পর ছুটি কম থাকায় পর্যটক কম এসেছে। আগাম বুকিংও আশানুরূপ হয়নি। আবার অনেক বুকিং শেষ মুহূর্তে বাতিল হয়েছে।”

পর্যটন সেবা সংস্থার সাধারণ সম্পাদক এস কে দাশ সুমন বলেন, “শ্রীমঙ্গলে বর্তমানে শতাধিক হোটেল, রিসোর্ট ও আবাসন সুবিধা রয়েছে। বড় ছুটিগুলোকে কেন্দ্র করেই পর্যটন ব্যবসায়ীরা সারা বছর অপেক্ষা করেন। কিন্তু এবার অন্যান্য বছরের তুলনায় পর্যটক কম। হামের প্রাদুর্ভাব, যানজট ও ট্রেনের টিকিট সংকট এর অন্যতম কারণ।” একই চিত্র দেখা গেছে সিলেটের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র জাফলং ও সাদা পাথরে। সাধারণত ঈদের ছুটিতে হাজার হাজার পর্যটকের সমাগম হলেও এবার প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম পর্যটক দেখা গেছে। ফলে হোটেল-মোটেল, রেস্টুরেন্ট, নৌকা ব্যবসায়ী ও ক্ষুদ্র দোকানিরা হতাশায় পড়েছেন।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, যাতায়াত ব্যয় বৃদ্ধি এবং টানা বৃষ্টির কারণে অনেক পর্যটক ভ্রমণ পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছেন। ফলে ঈদকে ঘিরে যে ব্যবসার আশা করেছিলেন, তা পূরণ হয়নি। তবে যারা আসছেন, তারা পাহাড়, নদী ও পাথরের অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করছেন। ঘুরতে আসা দেলোয়ার হোসেন বলেন, “সিলেটে অনেকবার এসেছি। এখানে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, চা-বাগান, পাহাড়ি পরিবেশ ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংস্কৃতি দেখতে সবসময় পর্যটকদের ভিড় থাকে। কিন্তু এবার জায়গাগুলো ফাঁকা লাগছে।” এদিকে হাওর জেলা সুনামগঞ্জেও পর্যটন ব্যবসায়

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে