কুয়াকাটায় পর্যটকের ভিড় বেড়েছে

এফএনএস (কুয়াকাটা, পটুয়াখালী) :
| আপডেট: ৩১ মে, ২০২৬, ০৪:৪১ পিএম | প্রকাশ: ৩১ মে, ২০২৬, ০৪:৪১ পিএম
কুয়াকাটায় পর্যটকের ভিড় বেড়েছে

পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটায় পর্যটক-দর্শনার্থীর ভিড় বেড়েছে। প্রকৃতির অপূর্ব সৌন্দর্যে ঘেরা একই স্থানে দাঁড়িয়ে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের মনোরম দৃশ্য অবলোকেনের এই সৈকতে ভিড় করেছেন শত শত পর্যটক। তাঁদের পদচারনায় সৈকত মুখরিত হয়ে উঠেছে। শনিবার সকাল থেকে পর্যটকের ভিড় বেড়েছে। আগতরা সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ঘুরে বেড়াচ্ছেন এখান দর্শনীয় স্পটগুলোয়। শিশু-কিশোর-যুবরা বালিয়াড়িতে আনন্দঘন মুহূর্ত কাটচ্ছেন। আগতরা উত্তাল সাগরে ঢেউয়ের সঙ্গে মিতালি করছেন। রয়েছেন গোসলে মত্ত। দীর্ঘ ১৮ কিলোমিটার সৈকতে কেউ কেউ ঘুরছেন। ঘোড়ায় চড়ছেন। কেউবা মাইলের পর মাইল সৈকতে হাঁটছেন। অনেকেই খালি পায়ে হাঁটছেন ভেঁজা বালিয়াড়িতে। সে এক ভিন্ন অনুভূতি। সাগরের নোনা জলের শিহরণে পা’সহ গোটা শরীরে এক ধরনের শিহরণ জাগছে। কেউ কেউ ঘন্টার পর ঘন্টা সৈকতের বেঞ্চিতে সময় কাটাচ্ছেন। দেখছেন নৈসর্গিক দৃশ্যাবলী। আগতরা ঘুরছেন রাখাইন পল্লীতে। সেখানে তাঁদের ভিন্নতর জীবনশৈলী জানছেন। দেখছেন তাঁদের সীমা ও শ্রীমঙ্গল বৌদ্ধবিহার। যেন জানার পরিধি সমৃদ্ধ করছেন। ঘুরছেন পর্যটনপল্লী লাল কাঁকড়ারচরখ্যাত গঙ্গামতি সৈকতে। তবে বরাবরের মতো এবারের কোরবানির ছুটিতে পর্যটকের উপচেপড়া ভিড় নেই। ব্যবসায়ীদের ভাষায় কাঙ্ক্ষিত পর্যটকের দেখা মেলেনি। হোটেল-মোটেলগুলোতে ৫০-৬০ শতাংশ কক্ষে পর্যটক উপস্থিতি ছিল। পরিপূর্ণ ছিল না। তাঁদের আকাঙ্ক্ষিত পর্যটক সমাগম ঘটেনি।

খুলনা থেকে আসা পর্যটক সাইফুল সায়েম জানান, দেশের সবচেয়ে সুন্দর ও উপভোগ্য পর্যটক কেন্দ্র কুয়াকাটা। কিন্তু ম্যাজেমেন্ট সমস্যা প্রকট রয়েছে। উদাহরণ টেনে বলেন, জিরো পয়েন্ট থেকে পুলিশ বক্স, সৈকতের ইটের ভাঙা দেয়ালসহ কংক্রিটের সকল কিছু অপসারণ করা দরকার। ব্লক পয়েন্টের বাঁধের স্লোপের ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার করা এবং ছোট ছোট স্থাপনা অপসারন করতে হবে। পৌরসভা ভবন থেকে সড়কের দুই পাশে দোকানের সামনের ছাপড়া (বর্ধিত) অপসারণ করা দরকার। ভ্যান, মোটরসাইলে ভাড়া অত্যাধিক। এটির রেটচার্ট দৃশ্যমান স্থানে স্থাপন করা প্রয়োজন। এদের নির্দিষ্ট পোশাক থাকা দরকার। বাণিজ্যিক ক্যামেরাম্যানসহ বিচের মোটরসাইকেল চালকদের নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। এছাড়া খাবার হোটেলের পরিবেশ খুব নোংরা, অথচ দাম খুব চড়া। এটি কাম্য নয়। প্লাস্টিক পলিথিনসহ বর্জ্য ব্যবস্থাপনাও বেশি ভালো না। এসব আগে একটা শৃঙ্খলায় আনতে হবে।

আবাসিক হোটেল তাজওয়ার পরিচালক রণজিৎ মিত্র জানান, ঈদের পরদিন থেকে পর্যটকের তেমন চাপ ছিল না। শনিবার হোটেলের প্রায় ৮০ শতাংশ বুক্ড ছিল। আজ রবিবার আবার ফাঁকা। তার মন্তব্য সকালে আসা আবার বিকেলে কিংবা পরদিন সকালে ফেরা পর্যটক উপস্থিতি বেশি। এছাড়া সাগরপারের হোটেলগুলোতে পর্যটকের উপস্থিতি বেশি বলেও মন্তব্য তার। তবে তারকা মানের হোটেলে শুক্রবার বিকাল থেকে রবিবার দুপুর পর্যন্ত পর্যটকের উপস্থিতি অপেক্ষাকৃত বেশি ছিল।

কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স এসোসিয়েশন সভাপতি মোতালেব শরীফ জানান, কাঙ্ক্ষিত পর্যটক এবারে আসছে না। প্রচন্ড গরমের কারণে নরমাল কক্ষে কেউ থাকছে না। একারণে শীততাপ কক্ষ বুক ধরে একদিনের বেশি কেউ এখানে অবস্থান করছেন না। ব্যয় বেড়ে গেছে। উপস্থিতি অধিকাংশ হোটেলে ২০ শতাংশে পৌছেছে। পাশাপাশি ইন্টেরিম সরকারের সময় দেশে অর্থনৈতিক মন্দাভাব কাটিয়ে উঠতে পারেনি ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষ। একারণে কুয়াকাটায় পর্যটক আগমন কমেছে। এছাড়া সৈকত ব্যবস্থাপনায় নানা অব্যবস্থাপনা রয়েছে। সৈকতের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাব রয়েছে। ব্লক পয়েন্টে পর্যটকরা ঘুরতে পারছে না। সেখানে অস্থায়ী দোকানপাটে ভরে গেছে। জোয়ারের সময় গোসল করা বিপজ্জনক। কারণ কংক্রিটের ভগ্নাংশ ও শ্যাওলা ধরা জিও ব্যাগে পা পিছলে প্রতিনিয়ত আহত হচ্ছেন। তিনি জানালেন, গতকাল শনিবার কিছু পর্যটকের ভিড় ছিল আজকে বিকেল থেকে আবার কমে যাচ্ছে। সকল হোটেল মালিকরা একারণে হতাশ রয়েছেন বলেও দাবি এই পর্যটন ব্যবসায়ী নেতার। কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ হাবিবুর রহমান জানান, আগত পর্যটকের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিতে তারা সচেষ্ট রয়েছেন। কুয়াকাটা পৌরসভার প্রশাসক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কলাপাড়া সহকারী কমশিনার (ভূমি) মো: ইয়াসীন সাদেক জানান, ঝুকিপূর্ণ স্পটে জোয়ারে গোসলের জন্য সতর্কীকরণ সাইনবোর্ড পৌরসভার উদ্যোগে শীঘ্রই স্থাপন করা হবে। এছাড়া কংক্রিটের ভগ্নাংশসহ বিভিন্ন ধরনের ভাঙা দেয়াল, ফ্লোর অপসারনের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে