ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধ এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় কিশোরগঞ্জ শহরজুড়ে তিন যাবত বিশেষ পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করছে জেলা প্রশাসন ও কিশোরগঞ্জ পৌরসভা । গত ৩০ ও ৩১ মে ও ১ জুন শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ও সড়কে এই পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালানো হয়।
গত শনিবার (৩০ মে) রথখলা ময়দান নূর মসজিদের সামনে থেকে অভিযানের সূচনা হয়। এ সময় কিশোরগঞ্জ সার্কিট হাউস, গাইটাল বাস টার্মিনাল, নীলগঞ্জ আশ্রম রোড, পুরান থানা, জেলা সরণি মোড় ও শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠ এলাকা থেকে যত্রতত্র ফেলে রাখা ময়লা-আবর্জনা অপসারণ করা হয়। এছাড়া মডেল থানাসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের আশপাশ ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালিত হয়। অভিযানের দ্বিতীয় দিন রবিবার (৩১ মে) শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও জনবহুল স্থানে রুটিনমাফিক পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম অব্যাহত ছিল। আজিমউদ্দিন স্কুল রোড, একরামপুর, বত্রিশের নতুনপল্লী, নীলগঞ্জ রোড, জোড়াপুকুর ও মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স সংলগ্ন এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়। এ ছাড়া পুরান থানা থেকে কালীবাবুর মোড় হয়ে সার্কিট হাউস এবং সোনালী ব্যাংক কিশোরগঞ্জ শাখা সংলগ্ন এলাকাতেও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।
পৌর কর্তৃপক্ষ জানায়, এই অভিযানে পৌরসভার ৬টি আবর্জনা বহনকারী গাড়ি ব্যবহার করা হয়েছে এবং পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ প্রায় ৭০ জন পরিচ্ছন্নতা কর্মী এই কার্যক্রমের সাথে সরাসরি যুক্ত ছিলেন। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সুবিধার্থে শহরের বিভিন্ন স্থানে নতুন ডাস্টবিন স্থাপন করা হয়েছে। কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় নতুন দুটি ডাস্টবিন বসানো হয়েছে।
তৃতীয় দিনে শহরের কাচারি বাজারে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়। চলমান কর্মসূচির অংশ হিসেবে সোমবার (১ জুন) দুপুরে শহরের কাচারিবাজার থেকে কালীবাড়ি মোড় হয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও জনসমাগমস্থলে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। সোমবারের অভিযানে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক জেবুন নাহার শাম্মী, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান মারুফ, পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলামসহ জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা। অভিযান চলাকালে সড়ক, ফুটপাত ও আশপাশের এলাকা থেকে আবর্জনা অপসারণ, নালা-নর্দমা পরিষ্কার এবং মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল ধ্বংসের কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। একই সঙ্গে সড়কের দুই পাশের দোকানিদের মাঝে বর্জ্য ফেলার জন্য বিন বিতরণ করা হয় এবং নির্ধারিত স্থানে ময়লা-আবর্জনা ফেলার বিষয়ে সচেতন করা হয়। কিশোরগঞ্জের ডিডিএলজি ও পৌর প্রশাসক জেবুন নাহার শাম্মী বলেন, শহরকে পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য রাখতে আমরা নিয়মিত কার্যক্রম হাতে নিয়েছি। শহরবাসীকে পৌরসভা কর্তৃক স্থাপিত ডাস্টবিনগুলো যথাযথ ব্যবহারেরও অনুরোধ জানান তিনি।
জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন বলেন, জেলার অন্যান্য পৌরসভা ও উপজেলাগুলোতেও আমরা এ ধরনের পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করছি। নাগরিকদের সচেতনতা ছাড়া শহরকে দীর্ঘমেয়াদে পরিষ্কার রাখা কঠিন, তাই আমরা সবাইকে নিজ নিজ এলাকার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার আহ্বান জানাচ্ছি।