বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইকেলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএসবিআরএ) নির্বাহী কমিটির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট আইনি জটিলতার অবসান ঘটিয়ে সভাপতি পদপ্রার্থী আমজাদ হোসেন চৌধুরীর প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। আদালতের এ রায়ের ফলে ৩ জুন অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ক্ষেত্রে তার সামনে আর কোনো আইনি বাধা রইল না।
১ জুন সোমবার বিচারপতি বিষ্ণুদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে নির্বাচন বোর্ড ও সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের বিরুদ্ধে কেন আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, তা জানতে চেয়ে একটি রুল জারি করেন আদালত।
আদালতের আদেশের পর আবেদনকারীর আইনজীবীরা একে ন্যায়বিচারের বিজয় হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তাদের দাবি, মনোনয়নপত্র গ্রহণে বাধা সৃষ্টি করে একটি মহল নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছিল, যা আদালতের হস্তক্ষেপে ব্যর্থ হয়েছে।
আবেদনকারীর পক্ষে শুনানিতে অংশ নেওয়া অ্যাডভোকেট মো. এনামুল হোসাইন সাংবাদিকদের জানান, আদালত আমজাদ হোসেন চৌধুরীর মনোনয়নপত্র অবিলম্বে গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি তাকে সভাপতি পদপ্রার্থী হিসেবে ব্যালট পেপারে অন্তর্ভুক্ত করে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে নির্বাচন বোর্ড ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, নির্বাচনী বিধিমালা অনুসারে একজন বৈধ প্রার্থীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করার কোনো সুযোগ নেই। আদালতের নির্দেশনার মাধ্যমে সেই সাংগঠনিক ও আইনগত অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা আরও বলেন, মনোনয়নপত্রকে ঘিরে যে জটিলতা তৈরি করা হয়েছিল তা ছিল অযৌক্তিক ও বিধিবহির্ভূত। আদালতের এ আদেশ শুধু একজন প্রার্থীর অধিকারই নিশ্চিত করেনি, বরং নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
এদিকে হাইকোর্টের রায়ের পর শিপ ব্রেকিং শিল্পসংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, নির্বাচনকে ঘিরে যে অনিশ্চয়তা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল, আদালতের নির্দেশনার ফলে তার অবসান ঘটেছে। এতে নির্বাচনী পরিবেশ আরও প্রতিযোগিতামূলক, অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য হবে।
আগামীকাল বুধবার ৩ জুন অনুষ্ঠিতব্য বিএসবিআরএ নির্বাচনকে ঘিরে ইতোমধ্যে উদ্যোক্তা ও সদস্যদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছে। হাইকোর্টের এ রায়ের পর সভাপতি পদের নির্বাচন আরও জমে উঠবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে তারা মনে করছেন, আদালতের এ নির্দেশনা বিএসবিআরএর নির্বাচনী ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির হিসেবে বিবেচিত হবে।