লিয়াকতগঞ্জ স্কুল অ্যান্ড কলেজের এডহক কমিটি তিন দিনের মাথায় পরিবর্তন

এফএনএস (একে কুদরত পাশা; দিরাই, সুনামগঞ্জ) : | প্রকাশ: ২ জুন, ২০২৬, ০২:৩৫ পিএম
লিয়াকতগঞ্জ স্কুল অ্যান্ড কলেজের এডহক কমিটি তিন দিনের মাথায় পরিবর্তন

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার লিয়াকতগঞ্জ স্কুল অ্যান্ড কলেজের এডহক কমিটি অনুমোদনের মাত্র তিন দিনের মাথায় নতুন কমিটি অনুমোদন দেওয়াকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে চলছে তীব্র আলোচনা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২১ মে হাবিবুর রহমানকে সভাপতি করে নিয়ম অনুযায়ী একটি এডহক কমিটি অনুমোদন দেয় সিলেট শিক্ষা বোর্ড। তবে মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে ২৪ মে আগের কমিটি বাতিল করে নতুন একটি এডহক কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। নতুন কমিটিতে সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজারকে।

জানা গেছে, উভয় কমিটিই সিলেট শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক শেখ মো. নজরুল ইসলামের স্বাক্ষরে অনুমোদিত হয়। অল্প সময়ের ব্যবধানে কমিটি পরিবর্তনের ঘটনায় এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, মাত্র তিন দিনের মধ্যে এমন সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা কী ছিল এবং এর পেছনে প্রকৃত কারণ কী।

চকবাজার এলাকার বাসিন্দা আবু সুফিয়ান বলেন, “রাজনৈতিক অদৃশ্য শক্তির প্রভাবে রাতারাতি কমিটি পরিবর্তন করা হয়েছে। বিষয়টি আমাদের হতাশ করেছে। হাবিবুর রহমান একজন শিক্ষিত ও যোগ্য ব্যক্তি। তাকে বাদ দিয়ে অন্য একজনকে কেন দায়িত্ব দেওয়া হলো, তা আমরা জানি না।”

এদিকে কয়েকজন অভিভাবক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটি নিয়ে এমন অস্থিরতা শিক্ষার পরিবেশ ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তারা বিষয়টির স্বচ্ছ ব্যাখ্যা দাবি করেন।

বাতিল হওয়া এডহক কমিটির সভাপতি হাবিবুর রহমান বলেন, “আমি বিষয়টি সম্পর্কে কিছুই জানি না। ফেসবুকের মাধ্যমে নতুন কমিটির কপি দেখে জানতে পারি, সেখানে আমার নামের জায়গায় অন্য একজনের নাম রয়েছে। কীভাবে এবং কেন এটি হলো, সে বিষয়ে আমাকে বোর্ড বা প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ কেউ কিছু জানায়নি। কোনো চিঠিও পাইনি। নতুন কমিটির কপি দেখে আমি নিজেই হতবাক হয়েছি।”

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে সিলেট শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক শেখ মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “আগের কমিটি অনুমোদনের পর জন-অসন্তোষের বিষয়টি আমাদের জানানো হয়। সংসদ সদস্য মহোদয় এ বিষয়ে ডিও লেটার দেন। সেই ডিও লেটারের প্রেক্ষিতে আগের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে নতুন কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।”

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে