চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার পাহাড়তলী, পূর্ব গুজরা ও বাগোয়ান ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগমাধ্যম রাউলী সড়কের ফারিকুল বাজার খালের ওপর নির্মাণাধীন সেতুর কাজ তিন বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। প্রায় পাঁচ বছর আগে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হলেও এক বছরের মাথায় তা থেমে যায়। ফলে দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগে পড়েছেন তিন ইউনিয়নের হাজারো বাসিন্দা।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এর অধীনে ৪৮ মিটার দৈর্ঘ্যরে আরসিসি গার্ডার সেতু নির্মাণের জন্য প্রায় ৩ কোটি ৮ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। নির্মাণকাজের দায়িত্ব পায় এ. আলী দিদারুল এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তবে নানা জটিলতায় কাজটি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে।
স্থানীয় মাদ্রাসার শিক্ষক নাসির উদ্দিন এবং এনসিপি নেতা আরমান হোসাইনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, খালের ওপর সেতুটির নির্মাণকাজ প্রায় তিন বছর ধরে স্থবির হয়ে আছে। ফলে এলাকাবাসী চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
স্থানীয় স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা জানান, সেতু না থাকায় তাদের যাতায়াতে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। পুরোনো সেতুটি আংশিক ভেঙে ফেলার কারণে বর্তমানে চলাচলের জন্য প্রায় ১০ কিলোমিটার ঘুরপথ ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে সময় ও অর্থ দুটিই বেশি ব্যয় হচ্ছে। জরুরি চিকিৎসাসেবা গ্রহণের ক্ষেত্রেও ভোগান্তি বেড়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার ফারিকুল বাজার খালের ওপর সেতুর প্রায় অর্ধেক কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে গেছে। নির্মাণাধীন কাঠামো খালের পানিতে পড়ে আছে। পাশাপাশি পুরোনো সেতুটিও আংশিক ভেঙে ফেলা হয়েছে, ফলে সরাসরি পারাপার বন্ধ হয়ে গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও বিএনপি নেতা মো. জয়নাল বলেন, “সেতুর অর্ধেকের বেশি কাজ শেষ হয়েছিল। কিন্তু গত তিন বছর ধরে কাজ বন্ধ থাকায় তিন ইউনিয়নের মানুষ সীমাহীন দুর্ভোগে রয়েছেন।”
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মনোনীত রাউজান উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী ও উপজেলা সংগঠক মো. জাহেদুল করিম বাপ্পী বলেন, “সেতুর নির্মাণকাজ শুরুর সময় কিছু অনিয়ম ও ভূমি অধিগ্রহণসংক্রান্ত জটিলতা ছিল বলে আমরা জেনেছি। এসব কারণে কাজ বন্ধ রয়েছে। সেতুটি নির্মিত হলে পাহাড়তলী, পূর্ব গুজরা ও বাগোয়ান ইউনিয়নের কোনো গ্রাম আর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকবে না।”
এ বিষয়ে ঠিকাদার মো. রাশেদ বলেন, “নির্মাণস্থলটি অনুমোদিত ডিজাইনের জন্য উপযুক্ত ছিল না। পরে নতুন ডিজাইনের প্রয়োজন দেখা দেয়। সংশোধিত ডিজাইন অনুমোদন পেলে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।”
উপজেলা প্রকৌশলী আবুল কালাম জানান, “সেতু নির্মাণস্থলের মাটি নরম হওয়ায় পূর্বের ডিজাইন কার্যকর হয়নি। তাই ডিজাইনে পরিবর্তন আনার প্রয়োজন হয়েছে। মন্ত্রণালয় থেকে সংশোধিত ডিজাইন অনুমোদন হয়ে এলে পুনরায় কাজ শুরু করা হবে। বিষয়টি দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।”
এদিকে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা সেতুর নির্মাণকাজ এবং এলাকাবাসীর দুর্ভোগ সরেজমিনে দেখতে মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জেলা ও উপজেলা শাখার নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন এনসিপি নেতা ও রাউজান উপজেলা পরিষদের এনসিপি-সমর্থিত প্রার্থী মোহাম্মদ জাহেদুল করিম বাপ্পী, উত্তর জেলা এনসিপির দপ্তর সম্পাদক আরমান হোসাইন, লোকমান, বিএনপি নেতা জয়নাল, মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, মোহাম্মদ ইকবাল, কৃষক মেহরাজ, কৃষক সেকানদর, শিক্ষক নাসির উদ্দিন, মোহাম্মদ তারেকসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।