“নারীরা শুধু সভা-সেমিনারে অংশ নিলেই হবে না, নিজেদের কর্মমুখী ও স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে হবে। কোথাও বাল্যবিবাহ বা নারীর প্রতি সহিংসতার ঘটনা ঘটলে দ্রুত প্রশাসনকে অবহিত করুন, আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেব।”
দিরাই নারী শান্তি সহায়ক দলের আয়োজনে কন্যাশিশু ও নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধের দাবিতে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সনজিব সরকার এ কথা বলেন। বুধবার (৩ জুন) সকালে উপজেলা পরিষদ হলরুমে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
‘সংঘাত নয়, শান্তি ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ি’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দিরাই নারী শান্তি সহায়ক দল (ওয়েভ) এ আলোচনা সভা ও মানববন্ধনের আয়োজন করে। পরে উপজেলা পরিষদের সামনে একই দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
ওয়েভ দিরাইয়ের সদস্য শিক্ষিকা পারভীন আক্তারের সভাপতিত্বে এবং যুগ্ম সমন্বয়কারী লিপিকা বিশ্বাসের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা লক্ষ্ণী রানী তালুকদার, পিএফজি সমন্বয়কারী সামছুল ইসলাম সরদার খেজুর, এফজি সদস্য জুয়েল আহমদ ও সৈদুর রহমান তালুকদার, আব্দুল মতলিব স্কুল অ্যান্ড কলেজের নীলিমা আক্তার, কর্ণগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা রুবেনা আক্তার এবং তাড়ল ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য রুপিয়া আক্তার। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কুদরত পাশা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও সনজিব সরকার বলেন, নারীদের অর্থনৈতিক উন্নয়নে হাঁস-মুরগি পালন, বাড়ির আঙিনায় সবজি চাষসহ বিভিন্ন উৎপাদনমুখী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হতে হবে। তিনি বলেন, “নারীদের কর্মমুখী শিক্ষার দিকে মনোযোগ দিতে হবে। উপজেলা পর্যায়ে নারীদের জন্য যে প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হবে, সেখানে ওয়েভের সদস্যরা অগ্রাধিকার পাবেন। শুধু সংগঠনের নাম থাকলেই হবে না, কাজের মাধ্যমে নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণ করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “আপনারা গ্রামগঞ্জে কাজ করেন। কোথাও বাল্যবিবাহ বা নারীর প্রতি সহিংসতার ঘটনা ঘটলে সঙ্গে সঙ্গে আমাদের জানান। আমরা প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”
বক্তারা বলেন, নারীর প্রতি সহিংসতা দূর করতে নারীদেরই অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। পরিবার ও সমাজে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করার আহ্বান জানান তারা। কোনো বাল্যবিবাহের তথ্য পেলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, উপজেলা প্রশাসন কিংবা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশের সহযোগিতায় এবং এফসিডিও’র অর্থায়নে পরিচালিত ওয়েভ উদার, অসাম্প্রদায়িক ও মানবিক সমাজ গঠনের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। সংগঠনটি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের বিকাশ, সহিংসতা নিরসন, সামাজিক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা এবং স্থানীয় পর্যায়ে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করতে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নারী নেত্রী, সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করেন। এ সময় বক্তব্য রাখেন মজিদা খাতুন, লিলি বেগম, শাম্মি আক্তার, সুবর্ণা আক্তার ইমা, বাবলী, রুপিয়া, সুস্মিতা মল্লিক, জয়শ্রী বিশ্বাস, দূরপতি নন্দী, অপি রানী সরকার, রুপশ্রী, দিপশ্রী, ফাতেমা, সুলতানা, রুবেনা, নাদিরা, ফাবিহা, রুমা, মারিয়া, মনিরা, স্বদেশী, রুপা, শিতারা, নাদিয়া, রিয়াজুল, আবু ইউসুফ প্রমূখ।