ইউনিয়ন পরিষদ

নির্বাচনকে সামনে রেখে পোষ্টারে পোষ্টারে ছেঁয়ে গেছে সাটুরিয়া

এফএনএস (মোঃ মোতালেব হোসেন; সাটুরিয়া, মানিকগঞ্জ) : | প্রকাশ: ৩ জুন, ২০২৬, ০৪:৫৭ পিএম
নির্বাচনকে সামনে রেখে পোষ্টারে পোষ্টারে ছেঁয়ে গেছে সাটুরিয়া

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীরা পোষ্টার ব্যানার ও ফেস্টুন সাটিয়ে দোয়া ও সমর্থন চেয়েছেন। ঈদুল আযহার এক সপ্তাহ আগে থেকেই সম্ভাব্য প্রার্থীরা জানান দিয়ে মাঠে ময়দানে সমর্থন পেতে ঘুরে বেড়াচ্ছে হাট বাজার, চায়ের দোকান ও ভোটারদের দুয়ারে। চেয়ারম্যান প্রার্থীদের দোয়ার পোষ্টারে পোষ্টারে ছেঁয়ে গেছে। তবে বিএনপির প্রার্থীর মাঠে থাকলেও অন্যান্য দলের প্রার্থীরা এখনো পোষ্টার ব্যানার ও ফেস্টুন সাটিয়ে দোয়া দোয়া ও সমর্থন চাননি।

এদিকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ঘোষনা দিয়েছেন আগামী সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর মাসের মধ্যে স্থানীয় নির্বাচন সম্পর্ণ করা হবে। এ ঘোষনা আসার পর থেকেই প্রার্থীরা দলীয় সমর্থন ও ভোটরের সমর্থন পেতে চষে বেড়াচ্ছে। এদিকে গ্রামে গ্রামে চলছে ওঠান বৈঠক। ময় মরুব্বির দোয়া ও ভোটারদের কাছে টানতে নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে তারা। 

সাটুরিয়া উপজেলা সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, পবিত্র ঈদুল আযহার দুই সপ্তাহ আগে থেকেই অভিনন্দন,শুভেচ্ছা দোয়া ও সমর্থন চেয়ে রাস্তাঘাট, বিদ্যুতের খুঁটি,গাছপালা,দেয়ালে দেয়ালে বিএনপির প্রার্থীরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও বেসরকারি বিমান পরিবহন ও পযর্টনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতার ছবি সংবলিত পোষ্টারে পোষ্টারে ছেয়ে গেছে সাটুরিয়া উপজেলার গাছপালা,অলিগলি ও প্রধান সড়কগুলো। এমনকি প্রার্থীরা বাড়ি বাড়ি গিয়েও পোষ্টার সার্টিয়ে ভোটারদের জানান দিয়েছেন তারা। 

সাটুরিয়া উপজেলার ফুকুরহাটি ইউনিয়ন। এ ইউনিয়নে ভোটার সংখ্যা ১৫ হাজার। এ ইউনিয়ন থেকে বিএনপির বিভিন্ন পদধারী নেতারা ১৫ থেকে ২০ জন ইউপি নির্বাচনে প্রার্থী হবেন। তারা ইতিমধ্যেই দোয়া ও সমর্থন চেয়ে পোষ্টারের মাধ্যমে দোয়া ও সমর্থন চেয়েছেন। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীও রয়েছে বিএনপি থেকে। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বিএনপির দলীয় চেয়ারম্যান ও মন্ত্রীর ছবি ব্যবহার না করলেও তারা বিএনপির সমর্থক বলে জানা গেছে। 

ফুকুরহাটি ইউনিয়ন থেকে বিএনপি যেসব প্রার্থী দোয়া ও সমর্থন চেয়েছেন তারা হলেন, ফুকুরহাটি বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সামনুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. নূরে আলম শাহীন, সাবেক যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মো. আশরাফল আলম আশরাফ, কৃষকদলের সাবেক সভাপতি মো. আব্দুর রশিদ,সাবেক সহসভাপতি মো. জাহাঙ্গীর আলম,বিএনপির মনোনীত সম্বাব্য প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার আব্দুর রহিম (নাহিন) উপজেলা বিএনপির নেতা এ্যাডভোকেট মতিয়ার রহমান,বিএনপির কর্মী মো. মনিরুজ্জামান (তোফাজ্জল),বিএনপির সদস্য হাজী আবুল কালাম, মো. শাহজাহান সিরাজ, মো.আলমগীর হোসেন মিল্টন,সাধারণ সম্পাদক ফুকুরহাটি ইউনিয়ন যুব উন্নয়ন একতা মো. মোতালেব হোসেন,ফুকুরহাটি ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. রাইসুল ইসলাম রায়হান, মো. রেজাউল করিম মোল্লা,বিএনপির নেত্রী রিনা আফরোজ ও ছাত্রদলে সাংগঠনিক সম্পাদক মো. তোফায়েল হোসেন মাষ্টার। এ ইউনিয়নে নারীসহ আরো ৫/৬জন চেয়ারম্যান প্রার্থী রয়েছে বলে জানা গেছে।  এই ইউনিয়ন ছাড়াও একই চিত্র বালিয়াটি,সাটুরিয়া,তিল্লি,হরগজ,দিঘলিয়া,দরগ্রাম,বরাইদ ও ধানকোড়া ইউনিয়নে বিএনপির প্রার্থী রয়েছে ১০ থেকে ১৫ জন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাটুরিয়া উপজেলায় নয় ইউনিয়নে মোট ৮১ টি ওয়ার্ড রয়েছে। প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে বিএনপির দলীয় প্রার্থী একটি ওয়ার্ড থেকে ২ থেকে ৩ জন প্রার্থীর রয়েছে। প্রার্থী হয়ে তারা দোয়া ও সমর্থন চেয়েছেন। তবে বিএনপির প্রার্থীর ছড়াছড়ি দেখে ভোটাররা মনে করছেন, নেতা হলেই চেয়ারম্যন হওয়া যায় না। চেয়ারম্যান হতে হলে একজন প্রার্থীকে সব ধরণের গুণান্বিত হতে হয়। এসব পোষ্টার ব্যানার ও ফেস্টুন দেখে ভোটাররা মনে করছেন, যোগ্য ব্যক্তিকেই ভোট দেবে ভোটাররা।

এদিকে প্রার্থীরা ঈদের নামাজ আদায় করেই তারা বাড়ি বাড়ি বিভিন্ন হাট বাজার ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বের হন ভোটারদের সাথে আলিঙ্গন করতে দেখা গেছে। ভোটাররাও দোয়া দিয়েছেন। এসব প্রার্থীদের গুনগান নিয়ে চায়ের দোকানে জমজমাট প্রচার প্রচারনা মুখর ভোটাররা। ৫ আগষ্টের পর থেকে কোন নেতা কি করেছে,কার কি দোষ তা নিয়ে শুরু হয়ে গেছে ভোটারদের মধ্যে আলোচনা ও সমালোচনা। এদিকে সাটুরিয়া উপজেলা জামায়তে ইসলামী নয়টি ইউনিয়নে একজন করে প্রার্থী দিবে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

কথা হয় বিএনপির কয়েকজন ত্যাগী নেতাকর্মীদের সঙ্গে। তারা জানান, বিএনপি একটি বড় দল। এত প্রার্থীর ছড়াছড়ি দেখে কে কাকে দোয়া দিবে, কাকে ভোট দিবে এ নিয়ে ভোটারদের মধ্যে চলছে চুলছেড়া বিশ্লেষণ। ত্যাগী নেতাকর্মীরা মনে করছেন, দলীয় শৃঙ্খলা না থাকায় যোগ্যদের সাথে অযোগ্যরাও দোয়া চেয়েছেন। দলের নীতি নির্ধারকরা যাকে নিধারণ করবে তাকে নিয়েই ভাববে ভোটাররা। 

এদিকে বিএনপির এত প্রার্থীর ছড়াছড়িতে স্বস্থিতে আছেন অন্য দলের প্রার্থীরা। বিশেষ করে আওয়ামীলীগ পন্থি চেয়ারম্যান প্রার্থীরা নির্বাচনে সুযোগ পেলে তাদেরই জয়জয়কার হওয়ার সম্ভবনা বেশি বলে এমনটাই মনে করছেন তৃণমূলের ভোটাররা। বর্তমানে সাটুরিয়া উপজেলায় নয়টি ইউনিয়নের মধ্যে ৮ জনই আওয়ামীলীগের চেয়ারম্যান দায়িত্ব পালন করছেন। ৮ টির মধ্যে দুটি ইউনিয়নে প্রশাসক দিয়ে চালানো হচ্ছে। বিএনপির প্রার্থী যত বেশি হবে আওয়ামীলীগসহ অন্যন্য দলের প্রার্থীদের বিজয়ী হওয়ার সুযোগ বেশি থাকবে বলে মনে করছেন খোদ বিএনপি সমর্থিত ভোটারা।

এ বিষয়ে কথা হয় সাটুরিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার সরকারের সঙ্গে। তিনি বলেন, নির্বাচন আসলেই অনেকেই দোয়া চেয়ে পোষ্টার সার্টিয়ে দেয়। দলীয়ভাবে দোয়া পাবে একজনই। দল যাকে নির্বাচন করবে তাকেই ভোট দিয়ে নির্বাচিত করা হবে। তিনি বলেন, দলের দুঃসময়ে যারা পাশে থেকে কাজ করেছে এবং ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে জেল জুলুম খেটেছে আমি মনে করি দল তাদেরকেই মূল্যয়ন করবে। এছাড়া এলাকায় জনসমর্থন আছে সেই প্রার্থীকেই দলের নীতি নির্ধারকরা মূল্যায়ন করবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে