মহান স্বাধীনতা সংগ্রামের বীর সেনানী, ৫৪ সালে যুক্ত ফ্রন্টের নির্বাচনে জাতীয় পরিষদের কনিষ্ঠতম সংসদ সদস্য, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বিশ্ব জনমত গঠনের অগ্রনায়ক, সাধারণ মানুষের প্রাণ পুরূষ ত্যাগী নেতা প্রয়াত দেওয়ান মাহবুব আলী কুতুব মিয়ার ৫৫তম শাহাদাৎবার্ষিকী উপলক্ষে স্বরণ সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে দেওয়ান মাহবুব আলী স্মৃতি পরিষদের আয়োজনে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে সদর ইউনিয়ন পরিষদ সভা কক্ষে দেবদাস সিংহ রায়ের সভাপতিত্বে স্বরণ সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এডভোকেট জিয়াউল হক মৃধা। এর আগে স্মৃতি পরিষদ ও অতিথিবৃন্দ কুতুব মিয়ার ম্যুরালে পুস্ফস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। স্মৃতি পরিষদের সদস্য সুমন পারভেজ এর সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন জেলা উদীচীর সম্পাদক ফেরদৌস রহমান, লেখক গবেষক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সঞ্জীব কুমার দেবনাথ, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান রওশন আরা লাকী, সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল আলী, কবি খোরশেদ আলম, সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা এম.এ মুসা, বিএনপি নেতা মো. আফজাল হোসেন, সমাজ সেবক মো. মোস্তাফিজুর রহমান, প্রভাষক ও সংবাদ কর্মী মোহাম্মদ মাহবুব খান, উদীচী সরাইল শাখার সভাপতি মোজাম্মেল পাঠান, সম্পাদক মো. সিরাজুল ইসলাম, প্রভাষক জাফর আহমেদ আকছির. ন্যাপ নেতা আব্দুল জব্বার, সাবেক ছাত্রদল নেতা আবুল কাশেম, জাপা নেতা মো. উজ্জ্বল মিয়া প্রমূখ। বক্তারা বলেন, দেওয়ান মাহবুব আলী শুধু দেওয়ান পরিবার বা সরাইলের সম্পদ ছিলেন না। নির্দিষ্ট কোন দলেরও নয়। তিনি ছিলেন গোটা বাংলাদেশের সকলের সম্পদ। উনার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, সততা, কর্মদক্ষতা নিষ্ঠা সততা দ্বারা সকল শ্রেণি পেশার মানুষের মনে স্থান করে নিয়েছিলেন। সারা জীবন কাজ করেছেন মানুষ ও দেশের জন্যে। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে দেশে ও দেশের বাহিরে তিনি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছেন। স্বাধীনতার পক্ষে বিশ্ব জনমত গড়ে তোলার লক্ষে হাঙ্গেরীর বুদাপেষ্টে শান্তি সম্মেলনে দেশের পক্ষে তিনি প্রতিনিধিত্ব করেছেন। উনার ৪৫ মিনিট ইংরেজী বক্তব্যের মাধ্যমে ৮৫টি দেশের প্রতিনিধিকে কেন আমাদের স্বাধীনতা প্রয়োজন? সেটা বুঝাতে সক্ষম হয়েছিলেন। সেখান থেকে ফেরার পথে ১৯৭১ সালের ৪ জুন দিল্লী বিমানবন্দরে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তিনি মারা যান। তাঁর মরদেহ দিল্লিতেই দাফন করা হয়েছে। দীর্ঘ ৫২ বছর জাতীয় এই নেতার কোন স্মৃতি চিহৃ ছিল না সরাইলে। গত ২০২৩ সালে স্মৃতি পরিষদ ও উপজেলা পরিষদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় উনার ম্যুরাল উদ্ধোধনের মাধ্যমে কিছুটা হলেও দায়মুক্ত হয়েছেন সরাইলবাসী। কারণ মাহবুব আলীর বীরত্বগাঁথা ত্যাগের জীবনী থেকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধ, দেশপ্রেম ও স্বাধীনতার চেতনায় উজ্জীবিত করবে। দেওয়ান মাহবুব আলী স্মৃতি পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, সরাইল প্রেসক্লাব, ত্রিতাল সংগীত নিকেতন ও উদীচীসহ অন্যান্য রাজনৈতিক সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন গুলো এমন মহৎ কাজটির দাবী জানিয়ে আসছিলেন। সভায় পরবর্তী প্রজন্মকে উদ্ভূদ্ধ করার লক্ষ্যে স্থানীয় স্কুল কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের অংশ গ্রহণে দেওয়ান মাহবুব আলীসহ সরাইলের কীর্তিমান পুরূষদের জীবনীর উপর আলোচনা, রচনা/প্রবন্ধ লেখা ও কুইজ প্রতিযোগীতার আয়োজন করার প্রস্তাব করা হয়। রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় দিল্লি থেকে উনার কবরকে স্বদেশের মাটিতে নিয়ে আসার দাবীও জানানো হয়েছে বর্তমান সরকার বাহাদুরের কাছে। পরে উপস্থিত সকলে মিলে সরাইলের গর্বিত সন্তান জাতীয় এই নেতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রদর্শন ও উনার বিদেহি আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া পরিচালনা করেন বিকাল বাজার শাহী জামে (হাটখোলা) মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা শেখ মো. আমান উল্লাহ।