এই গাছটি আমার’, ‘আমার গাছ আমার প্রাণ’-এই অনন্য স্লোগানকে বুকে ধারণ করে কলারোয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক অভিনব ও অনুপ্রেরণামূলক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। আগামীকাল ১৭ জুন, ২০২৬ (বুধবার) বিদ্যালয়ের একদল ক্ষুদে প্রকৃতিপ্রেমী শিক্ষার্থী সক্রিয়ভাবে এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে নিজেদের চারাগাছ রোপণ করবে। পরিবেশ রক্ষায় বড়দের পাশাপাশি ছোটদেরও যে সমান দায়বদ্ধতা রয়েছে, ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের এই আয়োজন যেন সেই বার্তাই মনে করিয়ে দিচ্ছে। এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য শুধু গাছ লাগানোই নয়, বরং রোপণের পর প্রতিটি চারাগাছের সঠিক যত্ন ও রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা। এ লক্ষ্যে প্রতিটি গাছের মালিকানা ও দায়িত্ব নির্দিষ্ট করে শিক্ষার্থীদের নাম, শ্রেণি, রোল নম্বর এবং রোপণ করা গাছের জাত ও তারিখ সংবলিত সুদৃশ্য পরিচয়পত্র বা প্ল্যাকার্ড ইতিমধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে। বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উদ্বোধনী দিনে বিভিন্ন শ্রেণির প্রথম রোলধারী শিক্ষার্থীরা ভিন্ন ভিন্ন জাতের ফলজ ও ঔষধি চারা রোপণের মাধ্যমে এই কর্মসূচির সূচনা করবে। এদের মধ্যে রয়েছে-মোছাঃ মারিয়াম তাবাসসুম (শ্রেণি: তৃতীয়, রোল: ০১)-আম গাছ (হিমসাগর), রাইসা সুলতানা (শ্রেণি: প্রথম, রোল: ০১)-লিচু গাছ, রাইসা আহম্মেদ (শ্রেণি: দ্বিতীয়, রোল: ০১)-কাঁঠাল গাছ, আমিনা সিদ্দীকা (শ্রেণি: চতুর্থ, রোল: ০১)-গাব গাছ, সাবিহা ইসলাম (শ্রেণি: পঞ্চম, রোল: ০১)-কামরাঙা গাছ। গাছ ও প্রকৃতির প্রতি কোমলমতি শিশুদের এই আগ্রহ ও নিষ্ঠা ইতিমধ্যে শিক্ষক ও অভিভাবকদের মাঝে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। সচেতন মহল মনে করছেন, এটি কেবল একদিনের আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং জলবায়ু পরিবর্তনের এই চ্যালেঞ্জিং সময়ে নতুন প্রজন্মকে প্রকৃতিপ্রেমী হিসেবে গড়ে তোলার এবং পরিবেশ সুরক্ষায় দূরদর্শী করে তোলার একটি চমৎকার দীর্ঘমেয়াদী পদক্ষেপ।আগামীকালকের এই চারা রোপণ উৎসবে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন উপজেলা শিক্ষা অফিসার। এছাড়াও উপস্থিত থাকবেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ সকল সহকারী শিক্ষক, শিক্ষার্থীবৃন্দ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। ব্যতিক্রমী ও দূরদর্শী এই কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনায় আয়োজক ও শিক্ষার্থীরা সকলের আন্তরিক সহযোগিতা ও শুভকামনা প্রত্যাশা করেছেন।