ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বারবাজার এলাকায় চার বছর বয়সী শিশু তাবাচ্ছুমকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষ হয়েছে। রোববার (২১ জুন) ঝিনাইদহের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আজ সোমবার (২২ জুন) বহুল আলোচিত এই মামলার রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেনে বিচারক। সরকারের বিশেষ নির্দেশনায় অত্যন্ত দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই চাঞ্চল্যকর মামলার বিচার কাজ শেষ পর্যায়ে পৌঁছানোয় আদালত, পুলিশ ও ধর্ষিতার পরিবার সন্তোষ প্রকাশ করেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সকালে উপজেলার বাদুড়গাছা গ্রামে চিপস ও জুস কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অবুজ শিশু তাবাচ্ছুমকে নিজের ঘরে ডেকে নিয়ে যায় নরপিশাচ আবু তাহের। সেখানে শিশুটির ওপর পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়। একপর্যায়ে শিশুটি যন্ত্রণায় চিৎকার করতে গেলে খুনি আবু তাহের নিজের লুঙ্গি দিয়ে তার মুখ ও নাক চেপে ধরে। কিছুক্ষণের মধ্যেই দম আটকে নিথর হয়ে পড়ে ফুটফুটে তাবাচ্ছুম। ঘটনা ধামাচাপা দিতে ওই রাতেই শিশুটির মরদেহ একটি বস্তায় ভরে পাশের আব্দুল জব্বার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে লুকিয়ে রাখা হয়। ঘটনার পর পরই খুনি পালিয়ে গেলেও পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে ওই দিন রাতেই কুষ্টিয়া শহরের একটি ভাড়া বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর আসামি আবু তাহের পুলিশের কাছে এবং পরবর্তীতে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় নিজের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জেল্লাল হোসেন গত ২৬ মে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন। এরপর দ্রুততম সময়ে মামলার ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও শুনানি শেষে রোববার যুক্তিতর্ক শেষ হয়।
মামলার একমাত্র আসামি আবু তাহের একটি সিগারেট কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিল এবং বাদেডিহি গ্রামে নিহত শিশু তাবাচ্ছুমদের বাড়ির পাশেই ভাড়া বাসায় থাকত। নিহত তাবাচ্ছুমের পিতা নজরুল ইসলাম পেশায় একটি দর্জির দোকানের কর্মচারী এবং মাতা হালিমা খাতুন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘ওয়েব ফাউন্ডেশন’-এ চাকরি করেন। একমাত্র কন্যা সন্তানকে হারিয়ে শোকে পাথর এই বাবা-মা জানিয়েছেন, “আমাদের একমাত্র কলিজার টুকরোকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমরা খুনি আবু তাহেরের সর্বোচ্চ শাস্তি অর্থাৎ ফাঁসি চাই, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো মায়ের বুক এভাবে খালি না হয়।” রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পিপি অ্যাডভোকেট আকিদুল ইসলাম জানান, “আমরা আদালতে আসামির বিরুদ্ধে অপরাধের সব তথ্য-প্রমাণ ও ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নিখুঁতভাবে উপস্থাপন করতে পেরেছি। আমরা আশাবাদী, সোমবার আদালতের রায়ে ভুক্তভোগী পরিবারটি সর্বোচ্চ ন্যায়বিচার পাবে।”