ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলায় পুলিশের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণও সোচ্চার হয়ে উঠেছে। এতে করে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীরা রয়েছে আতঙ্কে। সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকায় সচেতন জনগণ মাদক কারবারি ও মাদক সেবিদের হাতেনাতে ধরে পুলিশে সোপর্দ করছে। পাশাপাশি কালীগঞ্জ থানা পুলিশও মাদকের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। প্রযুক্তির অপব্যবহার, মাদকের সহজলভ্যতা এবং সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ের কারণে তরুণদের একটি অংশ বিপথগামী হচ্ছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে বর্তমানে শুধু আইন প্রয়োগ নয়, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে দেখা যাচ্ছে।
কালীগঞ্জ থানা পুলিশ জানান, ২০২৬ সালের শুরু থেকে আদ্যবধি ৪২ টি মাদক মামলায় ৫৪ জন মাদক কারবারিকে আটক করা হয়েছে। জব্দ করা হয়েছে প্রায় ৫ কেজি গাঁজা, নিষিদ্ধ ইয়াবা ট্যাবলেট ১৩৭২ পিস,ট্যাফেন্ডাল ট্যাবলেট ১১৪ পিস ফেনসিডিল (যৌথ অভিযান সহ) ৩৪৭ বোতল ও চোলাই মদ ১০০০ লিটার। কালীগঞ্জ উপজেলা জুড়ে রয়েছে শতাধিক মাদক স্পট। এ সকল স্পট গুলোয় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে মাদক কারবারি ও মাদক সেবীদের আইনের আওতায় আনার ক্ষেত্রে থানা পুলিশকে আরো অগ্রনী ভূমিকা রাখতে হবে বলে স্থানীয় জনগণ মনে করেন। মাদক নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় জনতা ও থানা পুলিশের যৌথ পদক্ষেপ সবচেয়ে কার্যকর। স্থানীয় জনতা নিজস্ব এলাকায় মাদক বিরোধী সচেতনতা ও নজরদারি গড়ে তুলে অপরাধীদের তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহায়তা করলে মাদক অভিযান কার্যকরী হবে। তবে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া যাবে না; মাদক বিক্রেতা বা আসক্তদের বিরুদ্ধে সরাসরি ব্যবস্থা নিতে হবে থানা পুলিশের মাধ্যমে। যখন সমাজ মাদকের বিস্তার নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাচ্ছে, তখন পুলিশ আইনের যথাযথ প্রয়োগ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে। মাদক অভিযানে মাঠ পর্যায়ে অনেক ক্ষেত্রে পুলিশ সদস্যরা ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন বলেও পুলিশ সদস্যদের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জেল্লাল হোসেন বলেন, মাদকের ব্যাপারে থানা পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করে কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু লক্ষ করা যাচ্ছে, মাদক অভিযানকে কেন্দ্র করে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার চেষ্টা শুধু পুলিশের মনোবল নয়,সামগ্রীক আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতিকেই দুর্বল করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে একটি মহলের পক্ষ থেকে। তবে মাদক অভিযানে অনিয়ম বা আইনের ব্যাত্তায় ঘটলে তার সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রমান পেলে দায়িদেরর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মূলত স্থানীয় ভাবে যারা আগে অনৈতিক সুবিধা পেতেন, বর্তমানে তা বন্ধ হওয়ায় প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসেবে এ ধরনের প্রচারনা চালানো হচ্ছে বলেও তিনি মনে করছেন। মূলত মাদক বিরোধী অভিযানের সফলতা নির্ভর করে জনসমর্থন ও তথ্যের সত্যতার ওপর। বিভ্রান্তিকর তথ্য যাচাই না করে প্রচার করলে অপরাধীরাই সুবিধা পায়। এ অবস্থায় সত্য তথ্য যাচাই, গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দায়িত্বশীল আচরণ এবং পুলিশের সঙ্গে জনগণের সহযোগিতা জরুরি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।মাদকমুক্ত কালীগঞ্জ গড়তে পুলিশের পাশাপাশি সচেতন নাগরিক সমাজের সক্রিয় ভূমিকা এখন সময়ের দাবি।