গাজীপুরে কয়েকটি স্থানে কথিত ‘টর্চার সেল’ গড়ে তুলে চাঁদাবাজির কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিষয়টির গুরুত্ব আরও বেড়ে যায় যখন এমন অভিযোগ উত্থাপন করেন ক্ষমতাসীন দলের একজন সংসদ সদস্য এবং তিনি প্রকাশ্য আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় এ বিষয়ে তদন্তের আহ্বান জানান। অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এখন সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত কোনো রাষ্ট্রে ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর উদ্যোগে গড়ে ওঠা অনানুষ্ঠানিক আটককেন্দ্র, নির্যাতনকেন্দ্র বা কথিত টর্চার সেলের কোনো বৈধতা থাকতে পারে না। যদি সত্যিই এমন কোনো স্থাপনা থেকে চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শন বা বেআইনি কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়ে থাকে, তবে তা শুধু ফৌজদারি অপরাধই নয়, রাষ্ট্রীয় আইনব্যবস্থার প্রতি সরাসরি চ্যালেঞ্জও বটে। তাই অভিযোগটি রাজনৈতিক বিবেচনার বাইরে রেখে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদ্ঘাটন করা জরুরি। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, অভিযোগকারী সংসদ সদস্য নিজ দলের কোনো নেতাকর্মী জড়িত থাকলেও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এটি একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করে। অপরাধের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয় নয়, আইনের সমান প্রয়োগই হতে হবে রাষ্ট্রের মূলনীতি। একই সঙ্গে নির্দোষ ব্যক্তি যাতে হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও তিনি যে সতর্কতা দিয়েছেন, তা সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। গাজীপুর দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পাঞ্চল। এখানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি শুধু স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তাকেই প্রভাবিত করে না, বরং বিনিয়োগ পরিবেশ, শিল্প উৎপাদন এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই চুরি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি কিংবা সংঘবদ্ধ অপরাধের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ সময়ের দাবি। জেলা প্রশাসকের বক্তব্যেও বিষয়টির গুরুত্ব প্রতিফলিত হয়েছে। তিনি অভিযোগ খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে শুধু নির্দেশনা নয়, তদন্তের অগ্রগতি ও ফলাফল জনসমক্ষে তুলে ধরার মধ্য দিয়েই প্রশাসনের জবাবদিহি ও জনগণের আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। আর অভিযোগ অসত্য হলে তাও স্পষ্টভাবে জানাতে হবে। কারণ গুজব, অনিশ্চয়তা ও আইনের বাইরে শক্তি প্রয়োগের সংস্কৃতি কোনো সভ্য সমাজের জন্য গ্রহণযোগ্য নয়। রাষ্ট্রের একমাত্র বৈধ কর্তৃত্ব আইনের হাতে-এই নীতিই সর্বক্ষেত্রে নিশ্চিত করতে হবে।