মোল্লাহাটে নববধূর লাশ হাসপাতালে রেখে স্বামী পক্ষের পালায়ন

এফএনএস (এম এম মফিজুর রহমান; মোল্লাহাট, বাগেরহাট) : | প্রকাশ: ২১ জুন, ২০২৬, ০৬:২৩ পিএম
মোল্লাহাটে নববধূর লাশ হাসপাতালে রেখে স্বামী পক্ষের পালায়ন

বাগেরহাটের মোল্লাহাটে নববধূ রূপালী ওরফে লতিফা (১৫)-এর মৃত্যুকে ঘিরে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। মাত্র তিন মাসের সংসারে নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা, নাকি তাকে হত্যা করে আত্মহত্যার ঘটনা হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা-এ নিয়ে আলোচনা চলছে উপজেলার টাকিয়ারকুল ও আশপাশের এলাকায়। শনিবার (২০ জুন) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার টাকিয়ারকুল গ্রামে স্বামীর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত লতিফা মোল্লাহাট উপজেলার কুলিয়া গ্রামের শের আলী শেখ ও রেশমা দম্পতির মেয়ে।

নিহতের বাবা শের আলী শেখ ও মা রেশমা অভিযোগ করে বলেন, প্রায় তিন মাস আগে টাকিয়ারকুল গ্রামের মিজানুর মোল্লা ও মাফরুজা দম্পতির ছেলে রানা মোল্লার সঙ্গে পারিবারিকভাবে লতিফার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তাদের মেয়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছিল। সংসারের বিভিন্ন কাজের পাশাপাশি স্বামীর পরিবারের সদস্যদের সন্তানদের দেখাশোনার চাপও তাকে দেওয়া হতো বলে অভিযোগ করেন তারা।

তারা আরও অভিযোগ করেন, লতিফাকে হত্যা করা হয়েছে এবং বিষয়টি ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তাদের দাবি, যদি এটি আত্মহত্যাও হয়ে থাকে, তবে দীর্ঘদিনের নির্যাতনের কারণেই সে এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হতে পারে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন তারা। অন্যদিকে নিহতের শাশুড়ি মাফরুজা বলেন, ঘটনার সময় তিনি রান্না করছিলেন। তার ছেলে রানা মোল্লা ও স্বামী মিজানুর মোল্লা দুটি ভ্যান নিয়ে বাইরে চলে যান। এ সময় লতিফা ঘুম থেকে উঠে দাঁত ব্রাশ করে গোয়াল ঘরে গরুর যত্ন নেওয়ার পর নিজের ঘরে যায়। কিছুক্ষণ পর খাবার খেতে ডাকলেও কোনো সাড়া না পাওয়ায় দরজা ধাক্কা দেওয়া হয়। দরজা ভেতর থেকে বন্ধ থাকায় একটি দরজা ভেঙে ঘরে ঢ়ুকে লতিফাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান বলে জানান তিনি।

পরে রানা মোল্লাসহ কয়েকজন তাকে উদ্ধার করে মোল্লাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর নিহতের স্বজনরা রানা মোল্লাদের বাড়িতে হামলা করে দুটি ভ্যান নিয়ে গেছে বলেও পাল্টা অভিযোগ করেন লতিফার শাশুড়ি।

পুলিশ জানায়, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মোল্লাহাট থানার অফিসার ইনচার্জ কাজী রমজানুল হক বলেন, "ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।" এদিকে নববধূর মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোকের পাশাপাশি নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে