সবার ডিমেনশিয়া হলে তবেই আওয়ামী লীগ বড় গলায় কথা বলতে পারবে: তথ্য উপদেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশ: ২৩ জুন, ২০২৬, ০১:৩৩ পিএম
সবার ডিমেনশিয়া হলে তবেই আওয়ামী লীগ বড় গলায় কথা বলতে পারবে: তথ্য উপদেষ্টা

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে নিয়ে কড়া মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেছেন, আওয়ামী লীগের অনেক কিছু করে ফেলার নৈতিক সাহস নেই। দেশের মানুষ সব ভুলে গেলে, অর্থাৎ “সবার ডিমেনশিয়া হলে” হয়তো দলটি আবার বড় গলায় কথা বলতে পারবে। একই সঙ্গে তিনি জানান, আওয়ামী লীগ দল হিসেবে নিষিদ্ধ হবে কি না, সে সিদ্ধান্ত আদালতই নেবে।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি। আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং দলটির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠলে জাহেদ উর রহমান বলেন, বর্তমানে দলটির কার্যক্রম সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় নিষিদ্ধ রয়েছে। ফলে কোনো কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামলে সেটি আইনভঙ্গ হিসেবে বিবেচিত হবে এবং সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ দল হিসেবে নিষিদ্ধ হবে কি না, সেটা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার শেষে নির্ধারিত হবে। মানবতাবিরোধী অপরাধে দলটি জড়িত ছিল কি না, আদালত সেটাই বিবেচনা করবে।”

রাজনৈতিক দলগুলোর মাঠে অবস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগকে ঘিরে অন্য দলগুলোর তৎপরতা মূলত প্রতীকী। কারণ, নিষিদ্ধ কার্যক্রম থাকা অবস্থায় আওয়ামী লীগের প্রকাশ্য রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ নেই। তবে কিছু এলাকায় সম্ভাব্য ঝুঁকির কারণে জননিরাপত্তার স্বার্থে সেনা মোতায়েন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

আওয়ামী লীগের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, “সেনাবাহিনী দেওয়ার মানে এই নয় যে আওয়ামী লীগ অনেক কিছু করে ফেলবে। অনেক কিছু করে ফেলার নৈতিক সাহস তাদের আছে বলে আমি মনে করি না। দেশের সবার ডিমেনশিয়া হলে তখন হয়তো আওয়ামী লীগ বড় গলায় কথা বলতে পারবে। এর আগে মনে হয় না।”

তিনি আরও বলেন, “মাফিয়া, চোর-বাটপার, লুটপাটকারীদের খুব বেশি নৈতিক সাহস থাকে না। ছোটখাটো নাশকতার সক্ষমতা হয়তো তাদের থাকতে পারে, কিন্তু আওয়ামী লীগ অনেক কিছু করতে পারবে, সরকার এমনটা মনে করে না।”

আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক দল নয়, “মাফিয়া দল” হিসেবে উল্লেখ করে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, জুলাই মাসের মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় দলটি সংগঠন হিসেবে জড়িত ছিল কি না, তা বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে। আদালত যদি মনে করে সংগঠন হিসেবে দায় রয়েছে, তাহলে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তও আদালতই নেবে।

ব্রিফিংয়ে তিনি সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন। জানান, সেপ্টেম্বর অথবা অক্টোবর থেকে ধাপে ধাপে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে এবং এক বছরের মধ্যে সব নির্বাচন সম্পন্ন করার চেষ্টা থাকবে। এছাড়া প্রতিটি গণপরিবহনে জিপিএস সংযুক্ত করা, নতুন জেলায় রেল যোগাযোগ সম্প্রসারণ, স্বাধীন মিডিয়া কমিশন গঠন এবং সমুদ্র গবেষণার জন্য দেশের প্রথম গবেষণা জাহাজ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

মালয়েশিয়া সফর প্রসঙ্গে জাহেদ উর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফর ফলপ্রসূ হয়েছে। শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে এবং দ্রুতই এ বিষয়ে সুখবর আসতে পারে। পাশাপাশি বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

সিলেটের জেলা প্রশাসক পরিবর্তনের প্রসঙ্গেও কথা বলেন তিনি। এ বিষয়ে তিনি বলেন, মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে তথ্য চাওয়ার কারণেই ডিসিকে সরানো হয়েছে, এমন ধারণা সঠিক নয়। রাষ্ট্রের কিছু সিদ্ধান্তের পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। তবে ব্যক্তিগতভাবে তিনি সব মাজারের দানের অর্থের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা চান বলে মন্তব্য করেন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে