সৈয়দপুরে বেশ কয়েক দিন থেকে ভ্যাপসা গরম পড়েছে। রোদের প্রখর তাপের সাথে অসহ্য গরম। আবার বিদ্যুতের ঘন ঘন লোডশেডিং। দিনে রাতে কতবার যে বিদ্যুৎ যায় আর আসে তার ইয়াত্তা নেই। গরম আর লোডশেডিং মিলে মানুষকে ফেলেছে চরম অস্বস্তিতে। সৈয়দপুর বিদ্যুৎ বিভাগ জানায়, চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ ঘাটতি। তাছাড়া পুরনো ট্রান্সমিটার ঠিকমত চলে না। মাঝে মাঝে এগুলো বিকল হয়ে পড়ে। তখন বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। বিষয়গুলো উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। সমস্যার সমাধান মিলতে সময় লাগবে। জেলার একমাত্র তামান্না সিনেমা হলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মাহবুব আলম ঝন্টু বলেন, এমনিতে এখন আর মানুষ সিনেমা দেখে না। হলে ভাল ছবি এলে কিছুটা দর্শক মেলে।
কিন্তু ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় আমি পড়েছি চরম বিপাকে। বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের কারণে ছবিতে আমাকে লোকসান গুনতে হচ্ছে। ক্ষুদ্র শিল্ক মালিক জনি জানান, ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় কারখানায় উৎপাদন হচ্ছে না। অথচ শ্রমিকদের দিন শেষে ঠিকই মজুরী দিতে হচ্ছে। কবে যে বিদ্যুতের এ সমস্যার সমাধান হবে তা জানি না। সৈয়দপুর বিমানবন্দর আবহাওয়া অফিস সূত্র জানায়, মাঝে মধ্যে বৃষ্টি হচ্ছে কিন্তু গরম কমছে না। সুর্যের তাপমাত্রা কম হলেও গরম পড়ছে অসয্য। অটো চালক রবিউল জানান, প্রচন্ড গরমে গাড়ি চালাতে পারি না। প্রায়ই সময় গা ঘেমে গোটা শরীর ভিজে যায়।
রিকশা চালক মবদুল জানান,আষাঢ় মাসে পানিতে ঘর থেকে গাড়ি নিয়ে বের হতে পারি না। কিন্তু এখন উল্টো আবহাওয়ার কারণে আষাঢ়েও পানি নেই। তাই গরমের হাত থেকে নিজেকে কিছুটা শীতল রাখতে ঘারে গামছা পেঁচিয়ে নিয়েছি। ওই গামছা দিয়ে শরীরের ঘাম মুছে থাকি। সৈয়দপুর শহরের পাঁচমাথা মোড়ে ফুটপাতে জুতা স্যান্ডেল সেলাই করেন জাফর ইকবাল। তিনি জানান, অতি গরমে দোকানে বসে থাকতে পারি না। তবুও পেটের দায়ে সব সহ্য করছি। তিনি আরো জানান,গরমের কারণে তার ব্যবসায় ভাটা পড়েছে। কারণ এ গরমে কেউ বাসা থেকে শহরে আসছেন না। তাই দোকানে তেমন একটা কাজ নেই।