কুমিল্লার হোমনা পৌরসভায় এ মাসের শুরুতেই পাগলা কুকুরের কামড়ে দুই দিনে অন্তত ৩০ জন আহত হওয়ার ঘটনার পর, অবশেষে আজ সোমবার থেকে শুরু হয়েছে ব্যাপক টিকাদান কর্মসূচি। সে সময় পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ডে কুকুরের অতর্কিত আক্রমণে এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল এবং হাসপাতালে ভ্যাকসিন সংকটের কারণে আক্রান্তদের বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে হয়েছিল। তৎকালীন এই জনদুর্ভোগ নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর প্রশাসনের বিশেষ নজরে কাড়ে। তারই প্রেক্ষিতে আজ থেকে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের যৌথ উদ্যোগে কুকুরের টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম ও প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. শফিকুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে এই বিশেষ কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে। এলাকাবাসীর সুরক্ষায় উপজেলার প্রায় ৮০০ কুকুরকে এই ভ্যাকসিনের আওতায় আনা হবে। কার্যক্রমটি দ্রুত সম্পন্ন করতে মাঠে নেমেছে দুইটি বিশেষ টিম, যার প্রতিটি দলে ২ জন ডগ ক্যাচার ও ১ জন ভ্যাকসিনেটর কাজ করছেন। প্রশাসনের নেওয়া এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় আতঙ্কিত বাসিন্দারা। এই উদ্যোগ নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, এ মাসের শুরুর ঘটনার পর জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা এই উদ্যোগ নিয়েছি। উপজেলার প্রায় ৮০০ কুকুরকে ভ্যাকসিনের আওতায় এনে হোমনাকে জলাতঙ্কমুক্ত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. শফিকুল আলম জানান, দক্ষ ডগ ক্যাচার ও ভ্যাকসিনেটরদের নিয়ে দুইটি টিম মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করেছে। সুপরিকল্পিতভাবে এই টিকাদান সম্পন্ন করে কুকুরের মাধ্যমে জলাতঙ্ক ছড়ানোর ঝুঁকি পুরোপুরি দূর করা হবে।