দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে পিতা ও সৎ ভাইকে হত্যার ঘটনায় চট্রগ্রাম থেকে হত্যাকারি ২ ভাইকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। গ্রেফতারকৃতরা হলো- মোঃ সাদেকুল ইসলাম (৩০) ও তার ছোট ভাই মোঃ সাকিব (১৯)। তারা উপজেলার উত্তর পলাশবাড়ী টেপাপাড়া গ্রামের মৃত শহিদুল হক দুলুর ছেলে।
র্যাব-১৩ জানায়, চিরিরবন্দর থানার আবেদনের প্রেক্ষিতে মামলাটির গুরুত্ব বিবেচনায় র্যাব ১৩, সিপিসি-১, দিনাজপুর ক্যাম্প এবং র্যাব ৭ চট্টগ্রামের সদর কোম্পানির যৌথ অভিযানে ২৯ জুন সোমবার দুপুরে চট্টগ্রাম মহানগরীর ইপিজেড থানাধীন আকমল আলী রোড এলাকার একটি রিকশা গ্যারেজ থেকে হত্যাকারি প্রধান আসামি সাদেকুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। একই দিন তার দেয়া তথ্যমতে রাত ৯টা ১০ মিনিটে ইপিজেড থানাধীন হোটেল বুলু-সোম ইন্টারন্যাশনালের সামনে পৃথক অভিযানে মামলার ২য় হত্যাকারি আসামি সাকিবকে গ্রেফতার করা হয়।
থানায় দায়েরকৃত মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নিহত শহিদুল হক দুলুর প্রথম স্ত্রীর দুই ছেলে হাবিল ও কাবিল এবং দ্বিতীয় স্ত্রীর দুই ছেলে সাদেকুল ইসলাম ও সাকিব ইসলামের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জমিজমার ভাগবাটোয়ারা ও মালিকানা নিয়ে পরিবারের দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। গত ১৩ মে সকালে বাড়ির পাশের ভুট্টাখেতে ভুট্টা ছেঁড়াকে কেন্দ্র করে সাদেকুল ইসলামের সঙ্গে তার বাবা শহিদুল হক দুলুর বাকবিতন্ডা শুরু হলে একপর্যায়ে সাদেকুল বাড়ি থেকে বল্লম ও ছুরি এনে বাবার বুকে আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন। এ সময় সৎভাই কাবিল বাবাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তাকেও ছুরিকাঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা সৎভাইকে সৈয়দপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকেও মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নিহতের প্রথম স্ত্রীর ছেলে হাবিবুর রহমান (হাবিল) বাদী হয়ে চিরিরবন্দর থানায় সৎভাই, সৎমা ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পর থেকেই হত্যাকারিরা আত্মগোপনে পালিয়ে ছিল।
থানার অফিসার ইনচার্জ মাহমুদুন নবী বলেন, গ্রেফতারকৃতদের পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। একই সঙ্গে মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।