শ্রেণিকক্ষের জানালার ওপর স্থাপিত একটি লোহার গ্রিল খুলে পরে পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী গুরুত্বর আহত হয়েছে। ঘটনাটি বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার চরাদী ইউনিয়নের মকিমাবাদ নজিমুন্নেসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। তবে ঘটনার পর বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিষয়টি ধামাচাঁপা দেয়ার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের ভবনের নির্মাণের সময় নিন্মমানের সমগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অপরদিকে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
আহত শিক্ষার্থী আরাফাত বর্তমানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে। আরাফাতের পরিবারের দাবি, সপ্তাহ খানেক আগে স্কুলের ভবনের জানালার ওপরের ফাঁকা অংশে লাগানো লোহার গ্রিলটি নিন্মমানের নির্মাণ সামগ্রী ও ত্রুটিপূর্ণভাবে স্থাপন করায় সেটি একটি ছোট বাচ্চা গ্রিলটি ধরার সাথেই খুলে গিয়ে আরাফাতের শরীরের ওপর পরে। এতে সে গুরুত্বর আহত হয়ে বর্তমানে শয্যাশয়ী রয়েছে। আহতের মা ফারজানা আক্তার অভিযোগ করে বলেন, একটি শিশু যদি দেয়ালের ওপরে এক মন ওজনের লাগানো একটি গ্রিল স্পর্শ করতেই খুলে পরে যায়, তাহলে ভবনের অন্যান্য অংশ কতোটা নিরাপদ সেটি সহজেই অনুমান করা যায়। আমার সন্তান স্কুলে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। অথচ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তার চিকিৎসা, খোঁজ খবর বা প্রয়োজনীয় সহযোগিতায় কোনো দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেনি।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার তিন দিন পর বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক শুধু ফোন করে আরাফাতের খোঁজ নেন। কিন্তু দুর্ঘটনার পরপরই কেন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়নি, সেটি আমার কাছে বড় প্রশ্ন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘটনার পর বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক ফেরদৌসি বেগম বিষয়টি গোপন রাখার চেষ্টা করেন। তবে স্থানীয় বাসিন্দা ও সংবাদকর্মীরা ঘটনাটি জানতে চাইলে বিষয়টি আর ধামাচাপা দেওয়া সম্ভব হয়নি। এদিকে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের দাবি, বিদ্যালয়ের ভবনের নির্মাণকাজের মান, ব্যবহৃত নির্মাণসামগ্রীর গুণগত মান এবং সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি সরকারিভাবে স্কুলে বরাদ্দকৃত খাবারের মানও নিন্মমানের। শিক্ষার্থীদের মাঝে সঠিকভাবে বন্টন করা হচ্ছে না বলেও তারা অভিযোগ করেন। একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের দুর্ঘটনা ভবিষ্যতে আরও বড় বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি করছে। বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক ফেরদৌসি বেগমের প্রথমে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করলেও পরে সংবাদকর্মীরা তার প্রমান দেখালে বিষয়টি ছোট বলে বর্ননা দেন। তিনি আরো বলেন, বিরতির সময় শিক্ষার্থীরা বল খেলতে ছিলো। তখন আরাফাত নিচে চলে গিয়ে জানালার উপরে লোহার গ্রিল ধরলেতিা ছুটে গিয়ে গায়ে পরে আহত হয়েছে। তবে বড় কোন দূঘর্টনা ঘটেনি। তবে কমিটি এবং উধ্বর্তন কর্মকর্তাদের কেন জানালেন না সে বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধানশিক্ষিকা বলেন, ঘটনাটি ছোট তাই জানানো প্রয়োজন মনে করিনি। বাকেরগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রুহুল আমিন বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। তবে এরকমের কোন ঘটনা ঘটলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। স্থানীয় অভিভাবকরা দ্রুত ভবনটির কারিগরি পরীক্ষা, দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিদ্যালয়ের সব অবকাঠামো নিরাপদ কিনা তা যাচাই করে শিক্ষার্থীদের জন্য ঝুঁকিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।