মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার ইমামপুর ইউনিয়নের করিমখাঁ গ্রামে নির্মিত একটি ব্রিজের অ্যাপ্রোচে মাটি ভরাট না করায় ভোগান্তিতে পড়েছেন প্রায় ৫ হাজার মানুষ। বিশেষ করে ব্রিজের পাশেই করিমখাঁ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় অবস্থিত হওয়ায় প্রতিদিন কয়েক শতাধিক কোমলমতি শিক্ষার্থী বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছে। বর্ষার শুরুতেই চলাচলের একমাত্র পথটি কর্দমাক্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠায় স্থানীয়দের জন্য মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।
গতকাল সোমবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা গেছে, করিমখাঁ গ্রামের উত্তর-পূর্ব পাড়ার মাঝ দিয়ে প্রবাহিত খালের ওপর নির্মিত ব্রিজের পূর্ব-পশ্চিম কোনো পাশেই অ্যাপ্রোচে মাটি নেই। চলাচলের বিকল্প কোনো রাস্তা না থাকায় এলাকাবাসী ও স্কুলগামী শিশুরা খালের কর্দমাক্ত অংশ দিয়ে ব্রিজের নিচ দিয়ে কোনোমতে পারাপার হচ্ছে। যাতায়াত করতে গিয়ে ইতিমধ্যে একাধিক কোমলমতি শিক্ষার্থী পড়ে গিয়ে আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমাদের দীর্ঘদিনের দাবির মুখে এই ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু সংযোগ সড়কে মাটি না থাকায় সেটি এখন কোনো কাজেই আসছে না। পুরোপুরি বর্ষা নামার আগেই জরুরি ভিত্তিতে মাটি ভরাট করে ব্রিজটি চলাচলের উপযোগী করার দাবি জানাচ্ছি। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ৩৪ লাখ ৭২ হাজার টাকা ব্যয়ে ৯.৭৫ মিটার দীর্ঘ এই ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়। পুরানো ব্রিজ ভেঙে নতুনটি নির্মাণের দায়িত্ব পায় ‘ইমন বিল্ডার্স ডিজাইন ডেভলোপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন কনসালটেন্ট’। চলতি বছরের কোরবানি ঈদে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি ব্রিজের কাজ শেষ করলেও সংযোগ সড়কে মাটি ভরাট করেনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অ্যাপ্রোচ সড়কে মাটি ভরাটের জন্য সরকারি উদ্যোগ নেওয়া হলেও কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তির আপত্তির কারণে কাজটি মাঝপথে আটকে যায়। ফলে সৃষ্টি হয় চরম বিপত্তি। এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ফজলুল করিম বলেন, ইমামপুর ইউনিয়নের করিমখাঁ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন খালের ওপর নির্মিত ব্রিজটির অ্যাপ্রোচ সড়কের মাটি ভরাটের কাজটি আরও দুই-তিন সপ্তাহ আগেই সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল। ঠিকাদার মেশিন দিয়ে কাজ শুরুও করেছিলেন। কিন্তু ব্যক্তিমালিকানাধীন জায়গা থেকে মাটি কাটা নিয়ে পাশের বাড়ির লোকজনের আপত্তির কারণে সাময়িক অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। আমরা স্থানীয় কোনো বিরোধ চাচ্ছিলাম না বলে ঠিকাদারকে সাময়িক ভাবে কাজ বন্ধ রাখতে বলেছিলাম। তিনি আরও যোগ করেন, যেহেতু বর্ষা শুরু হয়ে গেছে এবং জোয়ারের পানি বাড়ছে, তাই জনসাধারণের দুর্ভোগের বিষয়টি আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছি। পূর্বের ওই বিতর্কিত জায়গা থেকে মাটি তোলার পরিকল্পনা বাদ দেওয়া হয়েছে। এখন অন্য জায়গা থেকে মাটি এনে দ্রুততম সময়ের মধ্যে অ্যাপ্রোচ সড়কটি ভরাট করার জন্য ঠিকাদারকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আশা করছি, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে এই কাজ সম্পন্ন হবে এবং জনসাধারণের যাতায়াতের জন্য ব্রিজটি উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।