মোরেলগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক সংকট থাকলেও থেমে নেই স্বাস্থ্য সেবা

এফএনএস (শেফালী আক্তার রাখি; মোরেলগঞ্জ, বাগেরহাট): | প্রকাশ: ৯ জুলাই, ২০২৬, ০৬:২২ পিএম
মোরেলগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক সংকট থাকলেও থেমে নেই স্বাস্থ্য সেবা

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কার্যক্রম চলছে ১৯ শয্যার ভবনে। ডাক্তার সহ জনবল সংকটের মধ্যেও হাসপাতালের রোগীদের সেবার মান বৃদ্ধিতে তৎপরতায় চিকিৎসকরা। এ হাসপাতালের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা ডা. কামাল হোসেন মুফতি গত বছরের অক্টোবর মাসে এ কর্মস্থলে যোগদানের পর থেকেই হাসপাতাল ভবনের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা রোগীদের সেবার কাজে ব্যবহৃত এক্সরে মেশিন প্যাথলজী সহ দীর্ঘদিনের বিদ্যমান সমস্যা সমাধানের নিরলসভাবে কাজ করছেন। পাশাপাশি একজন চিকিৎসক হিসাবে তিনি সাধারণ রুগীদের কাছে একজন মানবিক ডাক্তার হিসাবে স্থান করে নিয়েছে। এরই মধ্যে একটি মহল হাসপাতালের ওষুধ সংকট সহ নানাবিধ সমস্যা তুলে হাসপাতালের স্বাস্থসেবা ব্যাহত করার লক্ষে অপপ্রচার চালাচ্ছেন এমন অভিযোগ তুলে সোমবার রাতে হাসপাতাল কার্যালয় সংবাদ সম্মেলন করেছেন। এ দপ্তরের  কর্মকর্তা ডা. কামাল হোসেন মুফতি।

এদিকে সরজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপকূলীয় এ উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার সমন্বয় প্রায় ৫ লক্ষ মানুষের স্বাস্থসেবা নিশ্চিত করায় ৮০ দশক থেকে ৩১ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্সটির কার্যক্রমটি শুরু হয়। পরবর্তীতে ৩১ থেকে ৫০ শয্যা এ হাসপাতালটি রুপান্তরিত হলেও বর্তমানে ৫০ শয্যার কার্যক্রম চলছে ১৯ শয্যা ভবনে। পুরাতন ৩১ শয্যা ভবনটি নতুন করে নির্মাণ কার্যক্রম চলমান

 থাকলেও মাঝপথে থেমে যায় নতুন ভবন নির্মানের কাজ। প্রায় ২ বছর ধরে নতুন এ ভবনের কাজ বন্ধ রয়েছে। ২য় বৃহত্তম এ উপজেলার স্বাস্থসেবায় হাসপাতালে ৫১ জন চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও রয়েছেন মাত্র ১৫ জন। আবার এর মধ্যেও ৭ জন ডাক্তার রয়েছেন ডেপুটেশনে, ১ জন মাতৃত্বকালীন ছুটিতে। হাসপাতালে এখন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাসহ ৬ জন ডাক্তার দিচ্ছেন সাধারণ রোগীদের চিকিৎসা সেবা। ৩২ জন স্টাফ নার্স এর স্থলে রয়েছে ২৭ জন। টেকনোলজিস্ট ৯ জন, কর্মরত রয়েছেন ৫ জন। ৪-৫ বছর ধরে শূন্য রয়েছে পদগুলো। একইভাবে এসএমসি এম ও ১৮ জনের স্থানে কর্মরত ১১ জন। ৬ জন রয়েছে জেলা শহরের বিভিন্ন হাসপাতালের ডেপুটেশনে। ৪র্থ শ্রেনীর কর্মচারী সুইপার,ওয়ার্ডবয় ২০ জন কর্মরত থাকার কথা থাকলেও রয়েছে মাত্র ৬ জন। বছরের পর বছর ধরে পদগুলো শূন্য। দীর্ঘদিনের জনবল সংকটসহ নানাবিধ সমস্যার প্রতিকুলতার মধ্যেও সাধারণ রোগীদের সেবার মান বৃদ্ধিতে হাসপাতালের কর্মকর্তাসহ চিকিৎসকরা নিয়মিত সেবা অব্যাহত রেখেছেন। প্রতিদিন এ হাসপাতাল থেকে আউটডোরে টিকিট কেটে ২শ’ থেকে ৩শ’ রোগী সেবা পাচ্ছে ও ইনডোরেও ৪০/৫০ জন নিয়মিত রোগী থাকছেন। এদেরকে সরকারিভাবে বিনামূল্যে ৫২ প্রকারের ট্যাবলেট ক্যাপসুল ১০ প্রকারের সিরাপ সরবরাহ করা হয়ে থাকে। এছাড়াও ডায়বেটিকস, পেশার, অসংক্রমক (এনসিডি) রোগীর ব্যবস্থাপনা ২০২৫ সালে ১৭ জুন থেকে নিবন্ধিত ১৬শ’ ৩৭ জন রোগীকে প্রতি মাসেই এককালীন ঔষধ প্রদান করা হচ্ছে। এছাড়া নতুন রোগী গড়ে ৫০/৬০ জন প্রেশার ও ডায়বেটিসের রোগীরা নিবন্ধন করছেন প্রতিদিন বলে হাসপাতালের কর্মরত আর এম ও ডাঃ মোহাম্মদ সিফাত খান জানান।  

এ সম্পর্কে মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ কামাল হোসেন মুফতি বলেন, হাসপাতালের ঔষধ সংকটের কোন বিষয় নেই। একটি মহল নানামুখী ধুয়া তুলে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্ত ছড়াচ্ছে। এ ক্ষেত্রে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের স্পষ্ট বক্তব্য ভুল তথ্য দিয়ে  সাধারণ জনগন ও ডাক্তারের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করা যাবে না। একজন চিকিৎসক হিসাবে রোগীদের সেবা দেওয়া দায়িত্ব প্রতিটি ডাক্তারের। এ ক্ষেত্রে শুধু হাসপাতালেই নয়, প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানগুলোতেও নিয়ম নীতি মেনে ক্লিনিক বা হাসপাতাল পরিচালনা করতে হবে। ইতিমধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রানলয়ের চিঠি এসেছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নিয়ে প্রতিটি ক্লিনিকে অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে এ কর্মকর্তা জানান।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে