ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল-নাসিরনগর-লাখাই মহাসড়কের সরাইলের কুট্রাপাড়া ব্রীজটি এখন খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। ব্রীজটি উত্তর পাশের অংশ সড়কসহ গর্ত হয়ে নীচের দিকে ধেবে যাচ্ছে। ফলে দিনদিন সড়কটি সরূ হচ্ছে। ফলে দিনে রাতে যেকোন সময় বড় ধরণের দূর্ঘনায় প্রাণহানির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। সকল ধরণের যান বাহন এ সড়ক দিয়ে ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করছে।
সরজমিনে যাত্রী পথচারী ও যানচালক সূত্র জানায়, আজ থেকে প্রায় ৬৫-৭০ বছর আগে নির্মিত হয়েছিল কুট্রাপাড়া ব্রীজটি। তখনকার সময়ে এ ব্রীজ দিয়ে শুধু সরাইল বা নাসিরনগরের যানবাহন চলাচল করতো। কালের আবর্তে সরাইলের ধর্মতীর্থ এলাকায় পুটিয়া ব্রীজ ও ফান্দাউক এলাকায় বলভদ্র ব্রীজ নির্মিত হওয়ায় সড়কে যান চলাচল আরো বেড়ে যায়। সড়কটির গুরূত্বও পূর্বে তুলনায় বেড়ে যায়। গত প্রায় ১২-১৪ বছর আগে এ সড়ক দিয়ে ফান্দাউক লাখাই ও সিলেট এলাকার যানবাহনও চলাচল করছে। ফলে সড়কটি সরাইল-নাসিরনগর-লাখাই আঞ্চলিক মহাসড়ক নাম ধারণ করেছে। সময় বাঁচানোর জন্য সিলেট ও লাখাই এলাকার অনেক যাত্রীবাহী/পণ্যবাহী গাড়ি এ সড়কেই ঢাকায় যাতায়ত করছে। যার কারণে এই সড়কে পুর্বের তুলনায় অধিক যানবাহন চলাচল করছে। চাপ বাড়ছে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ঘেষা কুট্রাপাড়া ব্রীজের। আরো ৮-১০ বছর আগ থেকেই ব্রীজটির অবস্থা কিছুটা নড়বড়ে। রেলিং গুলোর পলেস্তরা ধ্বসে পড়েছিল। তখন সংস্কার করা হয়েছিল। লোকজন বলত, ব্রীজটির পুরাতন দাঁত ফেলে নতুন দাঁত বাঁধানো হয়েছে। এতে তো ব্রীজের পিলার বা অন্য অংশের শক্তি বাড়েনি।’ প্রায় দেড়/ দুই মাস আগেই দেখা গেছে ব্রীজটির উত্তরের অংশ কিছুটা নীচের দিকে দেবে গেছে। অধিক লোডের গাড়ি সেখানে যাওয়া মাত্র ব্রীজটি হালকা কাঁপতো। আস্তে আস্তে সেই গর্ত বড় হয়ে এখন সংলগ্ন সড়কটিও নীচের দিকে দ্রূত ধেবে যাচ্ছে। গত ৭-৮ দিনের ভারী বর্ষণে ওই গর্তের অবস্থা আরো খারাপ হয়েছে। ফলে ঝুঁকি বাড়ছে সড়কে চলাচলকারী সকল প্রকার যানবাহনের। কুট্রপাড়া গ্রামের বাসিন্দা শ্রমিকদল নেতা ও বিশিষ্ট সালিসকারক মো. আইয়ুব হোসেন বলেন, ব্রীজের উত্তর পাশের অবস্থা খুবই বিপদজনক। বর্তমানে সেখানে গাড়ি গুলো থমকে যাচ্ছে। দিনের চেয়ে রাতে ঝুঁকি বেশী। দূর্ঘটনা ঘটলে প্রাণহানি ঘটার সম্ভাবনা বেশী। দ্রূত সংস্কার প্রয়োজন। মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার জিল্লুকদার পাড়া গ্রামের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ব্রীজটির বয়স প্রায় ৬০-৬৫ বছর। এখন অনেক ওজনের বিভিন্ন ধরণের যানবাহন এটির উপর দিয়ে যাতায়ত করছে। অনেক আগেই এটি নড়বড়ে হয়ে গেছে। ব্রীজটি দ্রূত সংস্কার না করলে যেকোন সময় বড় ধরণের দূর্ঘটনা ঘটতে পারে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সওজের নির্বাহী প্রকৌশলীর মুঠোফোনে (০১৭৩০-৭৮২৬৪৭) একাধিকবার চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি জেনেছি। এটি গুরূত্বপূর্ণ। সড়ক ও জনপদের (সওজ) লোকজন আজকে (গতকাল) আসতে পারেন।