বন্যায় কৃষকের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, ক্ষতিগ্রস্থ ৩২৯৫ কৃষক

এফএনএস (বলরাম দাশ অনুপম; কক্সবাজার) : | প্রকাশ: ১৫ জুলাই, ২০২৬, ১১:১০ এএম
বন্যায় কৃষকের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, ক্ষতিগ্রস্থ ৩২৯৫ কৃষক

কক্সবাজারের টেকনাফে অতিবৃষ্টির কারণে সৃষ্ট বন্যায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বেশ কয়েকটি গ্রাম পানিতে ডুবে যাওয়ায় কৃষি ও কৃষকের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কৃষি অফিসের তথ্যানুযায়ী বন্যায় টেকনাফের কৃষকদের প্রায় আড়াই কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় মোট ৩হাজার ২শ ৯৫জন কৃষক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন। এতে পৌরসভায় ৫জন, হ্নীলায় ৬শ ৯৪জন, হোয়াইক্যংয়ে ১হাজার ৮০জন, টেকনাফ সদরে ৬শ ২৯জন, সাবরাংয়ে ৩শ ৯৬জন,বাহারছড়ায় ৩শ ৪৬জন, সেন্ট মার্টিন দ্বীপ ইউনিয়নে ১শ ৪৫জন কৃষক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্থদের মধ্যে সবচেয়ে বেশী হয়েছে হোয়াইক্যং ইউনিয়নে। কম হয়েছে পৌরসভায়। 

বিভিন্ন এলাকাঘুরে দেখা গেছে, টানা বৃষ্টির কারণে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষ যেমন পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। তেমনি বেশ কয়েকটি এলাকায় আমনের বীজতলা, আউশ ধান, সবজ্বি ক্ষেত ও পানের বরজ নষ্ট হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। কৃষকদের সাথে কথা বলে জানাগেছে, টানা বৃষ্টির ফলে আমনের বীজতলা ও পানের বরজের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অন্যদিকে সবজ্বি ক্ষেতের ক্ষতির পরিমাণও আরো বেশী বলে কৃষকরা জানিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকরা ক্ষতি পুষিয়ে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে অনেক সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন কৃষি সংশ্লিষ্টরা। এদিকে বন্যার পানিতে বীজতলা নষ্ট হওয়ায় আমনের চারা রোপনে কিছুটা বিলম্বিত হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিলেও কৃষি বিভাগ জানিয়েছেন নতুন করে বীজতলা তৈরী করার মতো এখনো সময় থাকায় কাল বিলম্ব না করে কৃষকদের দ্রুত সময়ে বীজতলা তৈরীর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। 

টানা বর্ষণের ফলে টেকনাফের বিভিন্ন এলাকায় আমনের বীজতলা নষ্ট হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। কৃষি বিভাগের তথ্যানুযায়ী ৬০হেক্টর আমনের বীজতলা নষ্ট হয়ে গেছে। এতে কৃষকের প্রায় ৪২লক্ষ টাকার অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে বলে জানাগেছে। অতিবৃষ্টির ফলে সৃষ্ট বন্যায় টেকনাফে আউশ ধানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এবারের বন্যায় অন্তত: ১০ হেক্টর আউশ ধান নষ্ট হয়ে গেছে বলে জানাগেছে। যাতে কৃষকের প্রায় ৭লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে। টানা বর্ষণের কারণে টেকনাফে সৃষ্ট বন্যায় শাক-সবজ্বির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে কৃষকরা জানিয়েছেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী বন্যায় টেকনাফ উপজেলায় ৪০হেক্টর সবজ্বি ক্ষেত নষ্ট হয়েছে। বন্যায় সবজ্বি চাষীদের অর্থনৈতিক ক্ষতি একটু বেশী হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের সরকারী ও বেসরকারীভাবে পাশে দাঁড়ানোর আহবান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। শসা, চিচিঙ্গা, মিষ্টি কুমড়া, চাল কুমড়া, কাকরোল, ঢ়েড়শসহ অন্যান্য শাক-সবজ্বিতে প্রায় ১কোটি টাকা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে কৃষি বিভাগ জানায়। এছাড়া টানা বৃষ্টির কারণে টেকনাফের বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হওয়ায় পানের বরজের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অসংখ্য পানের বরজ একেবারে নষ্ট হয়ে গেছে। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে এবারকার বন্যায় অন্তত: ৩০ হেক্টর পানের বরজ নষ্ট হয়ে গেছে। কৃষি অফিসের তথ্যানুযায়ী বন্যায় পানের বরজে কৃষকের ক্ষতির পরিমাণ প্রায় কোটি টাকারও উপরে।   হ্নীলার নাটমুরাপাড়া এলাকার কৃষক মো: সেলিম জানান, বংশ পরম্পরায় আমরা কৃষি কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছি। তিনি বলেন,তার বাবা নজু মিয়াও একজন কৃষক। চলতি মৌসুমে তাঁর পরিবার ৪একর জমিতে আমনের চাষ করার নিমিত্তে ৩শ ২০কেজি ধানের বীজতলা তৈরীর করেন। টানা বর্ষণে সৃষ্ট বন্যায় পুরো বীজতলাই একেবারে নষ্ট হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন কৃষক সেলিম।         

সময় এখনো আছে দ্রুত সময়ে পুনরায় বীজতলা তৈরীর জন্য মাঠ পর্যায়ের কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো: শফিউল আলম বলেন, কৃষি এবং কৃষকের কল্যাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনার আলোকে কৃষকদের প্রয়োজনীয় সব ধরণের সহযোগীতা দেওয়া হবে।  জানতে চাইলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো: হুমায়ুন কবির বলেন,বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকের তালিকা প্রণয়ন করে ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট পাঠানো হয়েছে। কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের প্রণোদনার দেওয়ার ব্যাপারে মাননীয় কৃষি মন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন। প্রণোদনা পাওয়া সাপেক্ষে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের সহযোগীতার কথা জানিয়েছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে