নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের মুন্সিপাড়া বাহাদুর পুকুরটি ছিল এনিমি (অর্পিত) সম্পত্তি। সৈয়দপুর মহিলা ডিগ্রি মহাবিদ্যালয় সংলগ্ন বাহাদুর নামে ওই পুকুরটি এখন আর নেই। কতিপয় ব্যক্তি সরকারি ওই পুকুরটি দখলে নিয়ে তা ভরাট করে স্থাপনা নির্মাণ করেন। আবার কেউ কেউ দখল করা জমি মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে পজেশন হস্তান্তর করেন।
জানা যায়, কোন প্রকার লিজ ছাড়াই অবৈধভাবে দখল করে কিছু অংশ বিক্রির অভিযোগ উঠেছে এক কলেজ শিক্ষক মোছাঃ সালেহা খাতুনের নামে। স্থানীয়দের দাবি, ওই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে সরকারি নিয়ন্ত্রণাধীন সম্পত্তি দখল করে স্থাপনা নির্মাণের মাধ্যমে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। অভিযোগ থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান পদক্ষেপ না থাকায় উদ্বেগ বাড়ছে।
সূত্র জানায়, সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী লিজ বা অনুমোদন ছাড়া এনিমি সম্পত্তি হস্তান্তর কিংবা বিক্রির সুযোগ নেই। অথচ মুন্সিপাড়া এলাকায় কিছু ব্যক্তি নিজেদের মালিকানা দাবি করে এসব জমি অন্যের কাছে বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ ওঠে। এতে প্রকৃত আইনি অবস্থা সম্পর্কে অজ্ঞ ক্রেতারাও প্রতারণার ঝুঁকিতে পড়ছেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে মৌখিকভাবে জানানো হলেও কার্যকর তদন্ত কিংবা উচ্ছেদ অভিযান হয়নি। ফলে অবৈধ দখল ও বিক্রির প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে। সচেতন ব্যক্তিরা বলছেন, এনিমি বা সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় দ্রুত ভূমি প্রশাসন, জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত তদন্ত প্রয়োজন। তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অবৈধ দখলমুক্ত করে সরকারি সম্পত্তি সংরক্ষণের দাবি জানান তারা। উল্লেখ্য, সৈয়দপুরের বিভিন্ন এলাকায় সরকারি সম্পত্তি অবৈধভাবে বিক্রির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। মুন্সিপাড়াসহ একাধিক এলাকায় এমন অভিযোগ বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমেও উঠে এসেছে। এ ব্যাপারে সালেহা খাতুনের সাথে যোগাযোগ করতে তার কর্মস্থলে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। ফলে তার মতামত প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি।