প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সীতাকুণ্ড বন্যা দুর্গতদের ত্রাণসামগ্রী বিতরণ

এফএনএস (জহিরুল ইসলাম; সীতাকুণ্ড, চট্টগ্রাম) : | প্রকাশ: ১৯ জুলাই, ২০২৬, ০৬:৪৮ পিএম
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সীতাকুণ্ড বন্যা দুর্গতদের ত্রাণসামগ্রী বিতরণ

টানা বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও জোয়ারের পানিতে বিধ্বস্ত চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলা। পানি নামতে শুরু করলেও বহু পরিবার এখনো ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। কোথাও কাদায় ঢেকে আছে বসতঘর, কোথাও রান্নার চুলা এখনো জ্বলেনি, আবার কোথাও কর্মহীন হয়ে পড়া পরিবারগুলো দিন কাটাচ্ছে খাদ্যসংকটে। এমন বাস্তবতায় বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপি এবং এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠন। দলীয় সূত্র জানায়, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনায় পরিচালিত এ ত্রাণ কার্যক্রমের সমন্বয় করছেন দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক আসলাম চৌধুরী এফসিএ।

শনিবার (১৮ জুলাই) দিনব্যাপী উপজেলার মুরাদপুর, বাড়বকুণ্ড, বাঁশবাড়িয়া ও কুমিরা ইউনিয়নে পর্যায়ক্রমে বন্যাদুর্গত পরিবারের মাঝে চাল, ডাল, তেল, আলু, শুকনো খাবারসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ভাটিয়ারী, সলিমপুর ও জঙ্গল সলিমপুরের দুর্গম এলাকায় গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাতে সহায়তা পৌঁছে দেন। মুরাদপুর ইউনিয়ন পরিষদ, বাড়বকুণ্ড কাকলি ক্লাব, বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ ও কুমিরা ইউনিয়নে অনুষ্ঠিত পৃথক কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক আসলাম চৌধুরী।

ত্রাণ বিতরণকালে তিনি দুর্গত মানুষের খোঁজখবর নেন এবং তাদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় তিনি বলেন, দুর্যোগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, এটি মানবিক ও নৈতিক দায়িত্ব। দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল বিপন্ন মানুষের জন্য আমাদের কাজ করতে হবে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনা হলো, সীতাকুণ্ডের প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে যেন একজন মানুষও সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

তিনি বলেন, বাঁশবাড়িয়া জেলেপাড়াসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। এ কারণে দুর্গত মানুষের দোরগোড়ায় সরাসরি ত্রাণ পৌঁছে দেওয়াকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. মোরসালিন বলেন, বন্যার শুরু থেকেই উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে জেলেপাড়া, ত্রিপুরা পল্লীসহ দুর্গম এলাকায় ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে, যাতে কোনো পরিবার বাদ না পড়ে।

ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচিতে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ডা. কমল কদর, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জহুরুল আলম জহুর, যুগ্ম আহ্বায়ক সালামতুল্লাহ, সদস্য সচিব মো. মোরসালিন, যুগ্ম সদস্য সচিব ফজলুল করিম চৌধুরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা মহররম আলী, মোস্তাফিজুর রহমান হিরু, আবুল বশর ভূঁইয়া, ইদ্রিস মেম্বার, মুনসুর মেম্বার, ত্রাণ কার্যক্রম কমিটির আহ্বায়ক নুরুল আনোয়ার চেয়ারম্যানসহ উপজেলা, ইউনিয়ন ও বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন। উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জহুরুল আলম জহুর বলেন, অধ্যাপক আসলাম চৌধুরীর নির্দেশনায় দুর্যোগের শুরু থেকেই নেতাকর্মীরা মাঠে রয়েছেন। এ কারণে প্রত্যন্ত অঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও দ্রুত ত্রাণ সহায়তা পাচ্ছেন।

ত্রাণ গ্রহণকারী একাধিক বাসিন্দা জানান, কয়েকদিন ধরে পানিবন্দি অবস্থায় কর্মহীন হয়ে পড়ায় তাদের অনেকেই খাদ্যসংকটে ছিলেন। বাড়িতে ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ায় তারা স্বস্তি পেয়েছেন। একজন বলেন, বিপদের সময় যারা মানুষের পাশে দাঁড়ায়, মানুষ তাদের কথা মনে রাখে।আরেকজন বলেন, তারা শুধু ত্রাণই দেননি, আমাদের খোঁজখবর নিয়ে সাহসও দিয়েছেন। এই কারণে আসলাম চৌধুরী প্রশংসায় ভাসছেন। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার মতে, প্রত্যন্ত অঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দোরগোড়ায় গিয়ে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ তাৎক্ষণিক দুর্ভোগ কমাতে সহায়ক হয়েছে।  এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম দুর্গত মানুষের মধ্যে নতুন করে আশা ও আস্থার সঞ্চার করেছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে