তনু হত্যা মামলায় আরও দুই সন্দেহভাজনের ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশ: ২১ জুলাই, ২০২৬, ০৭:০১ পিএম
তনু হত্যা মামলায় আরও দুই সন্দেহভাজনের ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলার তদন্তে নতুন করে আরও দুই সন্দেহভাজনের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। তাঁদের মধ্যে একজন সাবেক সেনাসদস্য। তনুর পোশাক থেকে পাওয়া ডিএনএ প্রোফাইলের সঙ্গে তাঁদের নমুনা মিলিয়ে দেখতে এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরিদর্শক মো. তারিকুল ইসলাম। আদালতের নির্দেশ পাওয়া দুই ব্যক্তি হলেন সিরাজগঞ্জের কাজীপুরের জাহিদুল ইসলাম এবং কুমিল্লার ফয়সাল আহমেদ রাব্বী।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে আবেদনে উল্লেখ করেন, তনুর জব্দ করা পোশাকের ডিএনএ প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে একাধিক পুরুষের সম্পূর্ণ ডিএনএ প্রোফাইল পাওয়া গেছে। এসব প্রোফাইল যাচাই করতেই সন্দেহভাজন দুই ব্যক্তির ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ ও তুলনামূলক পরীক্ষার অনুমতি চাওয়া হয়।

আদালত আদেশে বলেন, সুষ্ঠু তদন্ত ও তদন্তের অগ্রগতিতে ডিএনএ প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তনুর পোশাক থেকে পাওয়া ডিএনএ প্রোফাইলের সঙ্গে সন্দেহভাজনদের নমুনা তুলনা করা হলে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে। মামলাটি অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর হওয়ায় সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুমতিও দেওয়া হয়েছে।

পিবিআই পরিদর্শক তারিকুল ইসলাম বলেন, “আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। মামলাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত কাজ এগিয়ে নিচ্ছি।”

এর আগে তনু হত্যা মামলায় আরও তিন সন্দেহভাজনের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান বর্তমানে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন। অপর দুই সন্দেহভাজন সাবেক সেনাসদস্য জাহিদুজ্জামান ও শাহিনুল আলমের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলে রেড নোটিশ জারির নির্দেশও দিয়েছেন আদালত।

২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে একটি বাসায় টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন সোহাগী জাহান তনু। পরে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের অদূরে একটি ঝোপ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরদিন তাঁর বাবা ইয়ার হোসেন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন।

দীর্ঘ সময় সিআইডি মামলাটির তদন্ত করলেও কোনো কূলকিনারা হয়নি। পরে ২০২০ সালে তদন্তের দায়িত্ব পায় পিবিআই। দীর্ঘদিন পর মামলায় একের পর এক সন্দেহভাজনের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ ও তুলনামূলক পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়ায় তদন্তে নতুন করে অগ্রগতির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে