বন্যায় বিপর্যস্ত কৃষকদের পুনর্বাসনে বীজ ও কৃষি সহায়তার ঘোষণা

এফএনএস (জহিরুল ইসলাম; সীতাকুণ্ড, চট্টগ্রাম) : | প্রকাশ: ২০ জুলাই, ২০২৬, ১১:৫১ এএম
বন্যায় বিপর্যস্ত কৃষকদের পুনর্বাসনে বীজ ও কৃষি সহায়তার ঘোষণা

বন্যার পানি নামতে শুরু করলেও সীতাকুণ্ডের কৃষকের সংকট কাটেনি। তলিয়ে গেছে বীজতলা, নষ্ট হয়েছে শত শত একর সবজিখেত ও আবাদি জমি। ফসল হারিয়ে অনেক কৃষক নতুন করে চাষাবাদ শুরু করার সামর্থ্যও হারিয়েছেন। এমন বাস্তবতায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসনে ধানের বীজ, কৃষি উপকরণসহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক আসলাম চৌধুরী এফসিএ। গত শুক্রবার ও শনিবার দুই দিনব্যাপী সীতাকুণ্ড উপজেলার বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণকালে তিনি এ ঘোষণা দেন। বিএনপির চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় পরিচালিত এ কর্মসূচির আওতায় সৈয়দপুর, বারৈয়াঢালা, সীতাকুণ্ড পৌরসভা, মুরাদপুর, বাড়বকুণ্ড, বাঁশবাড়িয়া ও কুমিরা ইউনিয়নে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি ভাটিয়ারী, সলিমপুর ও জঙ্গল সলিমপুরের দুর্গম এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে ত্রাণ পৌঁছে দেন উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, অতিবৃষ্টি ও বন্যায় উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকার সবজিখেত, বীজতলা ও আবাদি জমি ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। অনেক কৃষক বীজ, সার ও চাষাবাদের পুঁজি হারিয়ে অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন। ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করতেই বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেন অধ্যাপক আসলাম চৌধুরী এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সঙ্গে কথা বলেন।

তিনি বলেন, দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ানো মানবিক ও নৈতিক দায়িত্ব। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী কোনো ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সহায়তার বাইরে রাখা হবে না। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম চলবে।

তিনি আরও বলেন, এবারের বন্যায় সবচেয়ে বড় ক্ষতির শিকার কৃষক। অনেকের বীজতলা, সবজিখেত ও আবাদি জমি সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। তাদের হাতে ধানের বীজ, কৃষি উপকরণ এবং পুনরায় চাষাবাদের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা পর্যায়ক্রমে পৌঁছে দেওয়া হবে। কৃষক মাঠে ফিরলে শুধু একটি পরিবার নয়, পুরো এলাকার অর্থনীতিই ঘুরে দাঁড়াবে।

আসলাম চৌধুরী জানান, বন্যায় অনেক সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে দুর্গম এলাকার কোনো পরিবার বঞ্চিত না হয়।

উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. মোরসালিন বলেন, বন্যার শুরু থেকেই প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে দুর্গম এলাকায় ত্রাণ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করে খাদ্য সহায়তার পাশাপাশি কৃষকদের পুনর্বাসনের উদ্যোগও বাস্তবায়ন করা হবে।

ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচিতে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ডা. কমল কদর, সিনিয়র যুগ্ন আহবায়ক জহুরুল আলম জহুর, যুগ্ম আহ্বায়ক সালামতুল্লাহ, যুগ্ম সদস্য সচিব ফজলুল করিম চৌধুরী, নুরুল আনোয়ার চেয়ারম্যান, বদিউল আলম বদরুল, আওরঙ্গজেব মোস্তফা, মুক্তিযোদ্ধা মহররম আলী, মোস্তাফিজুর রহমান হিরু, ওহিদুর নবী শরিফ, আলা উদ্দিন মাসুম, আবুল কালাম আজাদ, শাহাবুদ্দিন রাজু, লোকমান হাকিম, মোঃ ইসমাইল হোসেন, আবু জাফর, শাহাবুদ্দিনসহ উপজেলা, ইউনিয়ন ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

ত্রাণপ্রাপ্ত বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন পানিবন্দি থাকার কারণে তারা কর্মহীন হয়ে পড়েছিলেন। বাড়িতে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ায় তাৎক্ষণিক সংকট কিছুটা কমেছে। আর কৃষকদের জন্য বীজ ও কৃষি সহায়তার ঘোষণায় নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর আশা দেখছেন তারা।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে