কালীগঞ্জে তাল গাছের পাতা কেটে সাবাড় করে দিচ্ছে

এফএনএস (টিপু সুলতান; কালীগঞ্জ, ঝিনাইদহ) : | প্রকাশ: ২১ জুলাই, ২০২৬, ১১:৩৮ এএম
কালীগঞ্জে তাল গাছের পাতা কেটে সাবাড় করে দিচ্ছে

ঝিনাইদহ কালীগঞ্জে প্রতি বছর জলবায়ুর বিরুপ প্রভাব মোকাবিলা ও বজ্রপাত থেকে রক্ষার জন্য বিভিন্ন সড়কের দু,পাশে তালগাছ লাগানো হয়েছিল। ইতি মধ্যে গাছগুলো পরিপক্ব বড় আকারের। কিন্তু এক শ্রেনির অসত ব্যাক্তিরা তাল পাখা তৈরির জন্য চুরি করে ছোট বড় গাছে পাতা কেটে সাবাড় করে দিচ্ছে।এভাবে প্রায় শতাধিক গাছের পাতা কেটে নিয়ে গেলে ও কেউ দেখার নেই।যে কারনে যে যার মতন পারছে তাল গাছের পাতা কেটে নিয়ে পাখা তৈরি করে বিক্রি করছে।

সরেজমিনে দেখা যায়,কালীগঞ্জ উপজেলার কামালহাট দৌলতপুর রাস্তার দুই পাশে,কোলা কাদেডাঙ্গা,দৌলতপুর মাদ্রাসার পাশ ও খালে পাশ ধেকে প্রতিটি তাল গাছের পাতা কেটে নিয়ে গেছে।বিশেষ করে এসব তাল গাছেন পাতা কেটে অসত ব্যাক্তিরা তালপাখা তৈরি করে ৩০/৩৫ টাকা করে বিক্রি করছে।অথচ তাল গছের মাথা ন্যাড়া হয়ে যাচ্ছে সেদিকে তাদের কোন নজর নেই।এদিকে কামালহাট এলাকায় অন্তত ৩০টি তালগাছের সাবাড় করে দিয়েছে, আবার পারিয়াট এলাকায় প্রায় ৭০/৮০টি তাল গাছের মাথা সাবাড় করে নিয়েছে। গ্রামগঞ্জে তালগাছ না থাকার কারণে কিন্তু প্রারদিনই মানুষ মারা যাচ্ছে বজ্রপাত। তালগাছ থাকলে ওই এলাকায় বজ্রপাত হলে তালগাছ কিন্তু সেটিকে টেনে নেবে। এজন্য আগে প্রতিটি গ্রামে একসঙ্গে অনেক গুলো তালগাছ এক জায়গায় দেখা যেতো। আজকে সেটি নেই।কালীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন রাস্তায় অবস্থিত দর্শনীয় তাল গাছের সারি ধরে মাথার পাতা কেটে নিয়ে গেছে। তাল গাছের মাথা কাটলে গাছ বাঁচে না এগুলো কি অন্যায় নয় ?এমনটি জানা থাকলে অসতব্যাক্তিরা এমনটা ভাবে চুরি করে তাল পাতা কেটে নিতে পারতো না। অনেকে বলছেন সব গাছ গুলো তীলে তীলে মারা যাবে।এই তাল গাছ এত বড় হতে কত বছর লেগেছে ওরা জানে না ফলে বলা যায় প্রকৃতির সাথে এটা জুলুম করা হচ্ছে।

শিক্ষক ও সামাজিক ব্যাক্তিত্ব এমদাদ হোসেন বলেন.এই গাছগুলো আমাদের ছায়া দিত, ফল দিত এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করত।কিন্তু এভাবে তালগাছের পাতা কেটে এভাবে সাবাড় করে দিবে চিন্তাই করা যায়নি। এমদাদ হোসেন নিজে বিভিন্ন সড়কের পাশে তাল বিজ রোপন করেছেন। কিন্তু এগুলো সংশ্লিষ্ট বিভাগ রক্ষা করতে কোন উদ্যোগ নেই। তিনি বলছেন তালপাখা তৈরির জন্য যারা পাতা কেটে নিয়ে যাচ্ছে পুরো গাছের মাথা কেটে সাবাড় করা কোনো ভাল কাজ নহে। এতে গাছগুলো স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। অনেক গাছ মারা যেতে পারে হয়তো আর ফল ধরবে না। এতে পরিবেশের পাশাপাশি আমাদের আর্থিক ক্ষতিও হচ্ছে।গাছ কেটে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করায় মানবজাতির নতুন নতুন দুর্যোগ তৈরি হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, আগে গরুকে মাস্ক পরাতাম, আজ আমরা মাস্ক পড়ছি। বনকে রক্ষা করেই শহরায়ন করা যায়। গাছকে রক্ষা করতে হবে। সবুজ পরিবেশ তৈরি করতে হবে।বাংলাদেশ একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রবল দেশ প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে ঘন ঘন বজ্রপাত হয়ে থাকে, যা প্রানহানীর অন্যতম কারণ হয়ে দাড়িয়েছে। বিশেষ করে খোলা মাঠে কাজ করা কৃষক, গবাদিপশু, শিশু-কিশোর, এমনকি পথচারীরাও বজ্রপাতের শিকার হন। বজ্রপাত হলো একধরনের প্রাকৃতিক বৈদ্যুতিক নির্গমন, যা মেঘ ও মাটির মধ্যে বা দুটি মেঘের মধ্যে ঘটে।সাধারণত বজ্রপাতের সময় অনেক বেশি শক্তিশালী বৈদ্যুতিক চার্জ আকাশ থেকে মাটিতে নেমে আসে। এই বিদ্যুৎচমক যখন মাটিতে আঘাত হানে, তখন তা প্রানঘাতী হতে পারে।খোলা মাঠে দাড়িয়ে থাকা মানুষ, বিশেষত যাদের শরীর বা ব্যবহার্য জিনিসপত্রে ধাতব উপাদান থাকে, তারা ঝুঁকির মুখে পড়েন।তালগাছের উচ্চতা অনেক বেশি, এবং এর র্কাড দীর্ঘ ও সোজা হওয়ায় এটি সহজেই বজ্রপাতের আঘাত গ্রহন করে। অর্থাৎ তালগাছ নিজে বজ্রপাতকে আকর্ষণ করে ও তা মাটিতে পৌঁছে দিতে সহায়তা করে। ফলে তালগাছের আশেপাশে থাকা মানুষ ও গবাদিপশু অনেকাংশে নিরাপদ থাকে। 

কালীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় যেভাবে তাল গাছেন পাতা কাটা হচ্ছে তাতে করে এসব গাছ ক্রমান্বয়ে মারা যাবে। এসব গাছের বয়স মাত্র ৩ থেকে ৬ বছর হলেও পাখা তৈরি কারিদের পাতা কাটতে কোন প্রকার দ্বিধাবোধ করে না।

এ ব্যাপারে কালীগঞ্জ উপজেলা বনবিভাগের কর্মকর্তা ফারুক হোসেন বলেন,এসব গাছ আমরা রোপন করি নাই ও এভাবে তাল গাছের পাতা কেটে নিয়ে যাচ্ছে আমাদের কেউ অবহিত করেনি।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে