কালিগঞ্জে অপহৃত শিশুর মিলল মরদেহ, জনতার পিটুনিতে অভিযুক্তের মৃত্যু

এফএনএস (এস.এম. শহিদুল ইসলাম; সাতক্ষীরা) : | প্রকাশ: ২১ জুলাই, ২০২৬, ১১:৪৭ এএম
কালিগঞ্জে অপহৃত শিশুর মিলল মরদেহ, জনতার পিটুনিতে অভিযুক্তের মৃত্যু

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে নিখোঁজের ১০ ঘণ্টা পর ৯ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার রাতে উপজেলার কাজলা এলাকার একটি বসতঘরের ফ্রিজ থেকে লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ। এদিকে মর্মান্তিক এই হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ জনতা প্রধান অভিযুক্ত এক নারীকে পিটিয়ে হত্যা করেছে।

নিহত ওই শিশুর নাম ফারজানা সুলতানা। সে কাজলা মাঝেরপাড়া গ্রামের লতিফ উদ্দিনের মেয়ে এবং কাজলা কাশিবাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গণপিটুনিতে নিহত নারীর নাম সুমাইয়া (২৬)। তিনি কাশিবাটি গ্রামের মীরের মাঠের কোণার বাসিন্দা এশার সরদারের ছোট ছেলে আমিরুলের স্ত্রী। সুমাইয়া ওই বিদ্যালয়ের সামনে ঝালমুড়ি বিক্রি করতেন।

স্বজন ও স্থানী সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সকাল সাড়ে আটটার দিকে প্রতিদিনের মতো বাড়ি থেকে স্কুলের উদ্দেশ্যে বের হয় ফারজানা। তবে ছুটির পর বিকেল গড়িয়ে গেলেও সে বাড়ি ফেরেনি। সম্ভাবনা ও আত্মীয়স্বজনের বাড়িসহ সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করে কোনো সন্ধান না পেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে কালিগঞ্জ থানায় বিষয়টি জানানো হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে শিশুটিকে খুঁজতে শুরু করে। অনুসন্ধানের একপর্যায়ে সন্দেহজনক হিসেবে বিদ্যালয়ের সামনের ঝালমুড়ি বিক্রেতা সুমাইয়ার বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। পরে সন্ধ্যা সাতটার দিকে সুমাইয়ার বসতঘরের ভেতরে থাকা একটি বন্ধ ফ্রিজের ভেতর থেকে শিশুটির নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়।

শিশুটির মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দা ও বিক্ষুব্ধ জনতার মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতা অভিযুক্ত সুমাইয়াকে ধরে গণপিটুনি দিলে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং সুমাইয়া ও ফারজানা দুজনার মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

স্থানীয়দের প্রাথমিক ধারণা, শিশু ফারজানার কানে থাকা সোনার দুল ছিনিয়ে নেওয়ার প্রলোভন থেকেই তাকে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।

কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম জানান, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও ঘটনাপ্রবাহ উদ্ঘাটনে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। শিশুটির এবং অভিযুক্ত নারীর ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ স্পষ্ট হবে। এই ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে