পলাশবাড়ী খাল পুনঃখনন প্রকল্পের কাজ শেষ করে

৪২ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়েছে প্রশাসন

এফএনএস (মোঃ শামিম উল হক শাহিন; গাইবান্ধা) :
| আপডেট: ২২ জুলাই, ২০২৬, ০৫:০৮ পিএম | প্রকাশ: ২২ জুলাই, ২০২৬, ০৫:০৮ পিএম
৪২ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়েছে প্রশাসন

গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার নাকাই খাল পুনঃখনন প্রকল্পের কাজ শেষ করে অব্যয়িত প্রায় ৪২ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। সঠিক পরিকল্পনা, ব্যয়ের স্বচ্ছতা এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বয়ে বরাদ্দের তুলনায় কম ব্যয়ে মানসম্মতভাবে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হওয়ায় এ অর্থ সাশ্রয় হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমিনুল ইসলাম বুলবুল।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার হরিনাথপুর ইউনিয়নের নাকাই খাল পুনঃখননের জন্য সরকার মোট ২ কোটি ৬ লাখ ৩ হাজার ৮০ টাকা বরাদ্দ দেয়। এর মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হয়েছে ১ কোটি ৬৪ লাখ ১২ হাজার ২৫২ টাকা। অবশিষ্ট ৪১ লাখ ৯০ হাজার ৮২৮ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় ৪ দশমিক ৯২০ কি: মি: খাল পুনঃখনন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে খালে পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক করা, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নত করা, কৃষিজমির উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। পাশাপাশি খালের দুই পাড়ে নারিকেল, জাম, আম ও নিমগাছসহ মোট ১ হাজার ৪৪০টি গাছ রোপণ করা হয়েছে।

চলতি বছরের ১২ মে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। প্রকল্প চলাকালে উপজেলা প্রশাসন নিয়মিত কাজের অগ্রগতি ও মান তদারকি করে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রকল্প বাস্তবায়নের পুরো সময়জুড়ে ব্যয়ের বিভিন্ন খাত এবং কাজের গুণগত মান নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়। ফলে নির্ধারিত মান বজায় রেখেই তুলনামূলক কম ব্যয়ে প্রকল্পের কাজ শেষ করা সম্ভব হয়। প্রায় তিন মাসব্যাপী খননকাজ শেষে শ্রমিকদের মজুরি, যন্ত্রপাতি ব্যবহার,পরিবহন সহ সব ধরনের বিল পরিশোধের পরও ৪১ লাখ ৯০ হাজার ৮২৮ টাকা অব্যয়িত থাকে। বিধি অনুযায়ী ওই অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়।

প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) একাধিক সদস্য জানান, সদ্য বিদায়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ জাবের আহমেদ নিয়মিত প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করেছেন। তিনি কাজের স্থান পরিদর্শনের পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন, যাতে নির্ধারিত মান বজায় রেখে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা যায়। তাঁর তদারকি ও পরামর্শে প্রকল্পটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

পুনঃখননের ফলে খালটিতে পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক হয়েছে। স্থানীয় কৃষকরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে খালটি দখল ও ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানিপ্রবাহ ব্যাহত হচ্ছিল। এতে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচসংকট দেখা দিত। খাল পুনঃখননের ফলে কৃষিকাজে সুবিধা বাড়বে এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

এলাকাবাসীর দাবি, এই খাল দিয়ে অন্তত ২০টির বেশি বিলের পানি নিষ্কাশন হয়। আগে জলাবদ্ধতার কারণে অনেক বিলে আমন ধান চাষ করা সম্ভব হতো না। খাল পুনঃখননের পর পানিপ্রবাহ বেড়েছে এবং জলাবদ্ধতা কমেছে। খালটি সচল থাকলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি মাছের প্রাকৃতিক আবাসস্থলও পুনরুদ্ধার হবে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বুলবুল বলেন, সরকারি অর্থ জনগণের আমানত। তাই এ অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও দায়িত্বশীলতা প্রয়োজন। প্রতিটি প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়। প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করার পর যে অর্থ অবশিষ্ট ছিল, তা বিধি অনুযায়ী সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য সরকারি সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। জনগণের কল্যাণে বরাদ্দকৃত প্রতিটি টাকার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করাই প্রশাসনের অঙ্গীকার।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে