রাঙ্গামাটিতে পালিত হচ্ছে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের আষাঢ়ী পূর্ণিমা

এফএনএস (মিল্টন বাহাদুর; রাঙ্গামাটি) : | প্রকাশ: ২৯ জুলাই, ২০২৬, ০৩:১৬ পিএম
রাঙ্গামাটিতে পালিত হচ্ছে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের আষাঢ়ী পূর্ণিমা

পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটিতে যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদা, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ও নানা আয়োজনের মধ্যদিয়ে পালিত হচ্ছে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম পবিত্র ধর্মীয় উৎসব আষাঢ়ী পূর্ণিমা। বুধবার (২৯ জুলাই) সকাল থেকে রাঙ্গামাটির রাজ বন বিহার, আনন্দ বিহার, মৈত্রী বিহার, বুদ্ধাঙ্কুর বৌদ্ধ বিহারসহ বিভিন্ন বৌদ্ধ বিহারে নানা ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে পালন করা হচ্ছে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা আষাঢ়ী পূর্ণিমা। আর জেলার বিভিন্ন বৌদ্ধ বিহারে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী নারী-পুরুষদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। দিনব্যাপী ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে বুদ্ধ বন্দনা, ত্রিশরণ ও পঞ্চশীল গ্রহণ, সূত্রপাঠ, ধ্যান, দেশনা এবং সংঘদান অনুষ্ঠিত হয়। এসময় বৌদ্ধ বিহার আসা পূর্ণার্থীরা বৌদ্ধ ভিক্ষুদের কাছ থেকে স্বধর্ম দেশনা শ্রবণ করেন। পাশাপাশি বিশ্বশান্তি, দেশের সমৃদ্ধি ও সকল প্রাণীর কল্যাণ কামনায় বিশেষ প্রার্থনা করা হয়।

ধর্মপ্রাণ বৌদ্ধ নর-নারীরা ঐতিহ্যবাহী পোশাকে বিহারে এসে ফুল, ফল, প্রদীপ ও বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে পূজা অর্চনায় অংশ নেন। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে প্রবীণরাও উৎসবকে ঘিরে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতায় অংশগ্রহণ করেন। আর সন্ধ্যায় বুদ্ধ মুর্তি স্মান, ধর্মদেশনা, হাজার প্রদীপ প্রজ্জলন ও দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনায় প্রার্থনার মধ্যদিয়ে শেষ হয় আষাঢ়ী পূর্ণিমার আয়োজন।

বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস অনুযায়ী, আষাঢ়ী পূর্ণিমার দিনেই গৌতম বুদ্ধ বোধিলাভের পর প্রথম ধর্মদেশনা প্রদান করেন এবং এ দিন থেকেই বর্ষাবাসের সূচনা হয়। ফলে দিনটি বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও পবিত্র। এদিকে উৎসব উপলক্ষে রাঙ্গামাটির বিভিন্ন বৌদ্ধ বিহারে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন সামাজিক-ধর্মীয় সংগঠনের সদস্যরা সার্বিক ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা করছেন। ধর্মীয় সম্প্রীতি ও শান্তির বার্তা ছড়িয়ে দিতে প্রতিবছরের মতো এবারও উৎসবটি উৎসাহ-উদ্দীপনা ও ভক্তিপূর্ণ পরিবেশে পালিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা। আষাঢ়ী পূর্ণিমা উপলক্ষে তিন মাস বর্ষাবাস পালন করবে বৌদ্ধ ভিক্ষুসহ অন্যান্য বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা। এসময় সংযম পালনের মধ্যদিয়ে ন্যায়, সৎ পথে চলা, বুদ্ধের জীবনানুসারণ ও পরোপকারে তিন মাস অতিক্রম করবে প্রতিটি বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী পরিবার। আর তিন মাস বর্ষাবাস শেষ হওয়ার পর প্রবারণা পূর্ণিমা উদযাপনের মধ্যদিয়ে শুরু হবে মাসব্যাপী কঠিন চীবর দানোৎসব।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে