গত রবিবার দিবাগত রাতে কুমিল্লার হোমনায় অসহায় শারীরিক প্রতিবন্ধী লুৎফর রহমান লুতুর একমাত্র জীবিকা নির্বাহের সম্বল টং দোকানটিতে চুরির ঘটনা ঘটে। দোকানের ছোট দরজা ভেঙে মালামাল ও নগদ টাকা চুরি হয়ে যাওয়ায় সর্বস্ব হারিয়ে চরম দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন এই শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যবসায়ী। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে তা স্থানীয় সুশীল সমাজ ও প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের সূত্র ধরে এবং স্বাবলম্বী হওয়ার আকুতি নিয়ে আজ বুধবার লুৎফর রহমান লুতু তার বড় বোনকে সঙ্গে নিয়ে প্রথমে হোমনা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) টমাস বড়ুয়ার সঙ্গে দেখা করে ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও সহায়তার আকুতি জানান। পরবর্তীতে তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শহিদুল ইসলামের কার্যালয়ে হাজির হয়ে তার বর্তমান অসহায় পরিস্থিতি ও আর্থিক সংকটের কথা বিস্তারিত তুলে ধরেন।
সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য এবং লুতুর দুরবস্থার কথা শুনে হোমনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শহিদুল ইসলাম তাৎক্ষণিকভাবে মানবিক সহানুভূতি প্রকাশ করেন এবং তাকে পুনরায় ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শহিদুল ইসলাম জানান, একজন প্রতিবন্ধী মানুষ কারও কাছে হাত না পেতে কষ্ট করে নিজের জীবিকা নির্বাহ করছিলেন। তার টং দোকানে চুরির ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। গণমাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরে এবং আজ তার সঙ্গে কথা বলে আমরা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে আর্থিক সহায়তা দিয়েছি, যাতে তিনি আবারও তার ব্যবসা শুরু করে স্বাবলম্বী হতে পারেন। এ বিষয়ে হোমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) টমাস বড়ুয়া জানান, চুরির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
প্রশাসনের এমন দ্রুত ও মানবিক পদক্ষেপে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন অসহায় লুৎফর রহমান লুতু ও তার পরিবার। লুতু কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “ বারবার দোকানে চুরি হইয়া যাওয়ার পর আমি একদম ভাইঙ্গা পড়ছিলাম। খবর প্রকাশের পর আর আজ ইউএনও স্যার সাহায্য করায় আমি আবার ঘুরে দাঁড়ানোর সাহস পাইতেছি।"