বরিশালের গৌরনদীতে এক নারী নেত্রীর পৈত্রিক সম্পত্তির ওপর দিয়ে জোরপূর্বক ইট সলিং রাস্তা নির্মানের অভিযোগ পাওয়া গেছে সংরক্ষিত ইউপি সদস্য ও ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়কের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবারের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি উপজেলার বাটাজোর ইউনিয়নের নোয়াপাড়া গ্রামের। ওই গ্রামের মৃত আব্দুল হক সরদারের মেয়ে পদবিহীন বিএনপি নেত্রী রেবেকা সুলতানা রিয়া বৃহস্পতিবার বিকেলে অভিযোগ করে বলেন, আমার পৈত্রিক পুকুর পাড় দিয়ে প্রতিবেশি ছত্তার ফকিরের দোকান পর্যন্ত ১২ টি পরিবারের লোকজন চলাচল করেন। এতে আমরা কখনো বাঁধা দেইনি। সম্প্রতি আমাদের পরিবারের কাউকে না জানিয়ে আমাদের পুকুর পাড় দখল করে জোরপূর্বক সরকারি প্রকল্পের মাধ্যমে ইট সলিং রাস্তা নির্মানের কাজ শুরু করেন বাটাজোর ইউনিয়নের সংরক্ষিত সদস্য পারভীন বেগম এবং ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক আজাদ প্যাদা।
তিনি আরও বলেন, বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন এবং উপজেলা বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দকে অবহিত করা হলে তারা নির্মান কাজ বন্ধ রাখতে বলেন। কিন্তু তাদের নির্দেশ উপেক্ষা করে রাস্তা নির্মান কাজ অব্যাহত রেখেছেন ইউপি সদস্য পারভীন এবং আজাদ প্যাদা। পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে বিভাগীয় কমিশনারের কাছে অভিযোগ দায়েরের পর তারা নির্মান কাজ বন্ধ করতে বাঁধ্য হয়েছেন।
অভিযোগ করে তিনি আরও বলেন, যেখান থেকে রাস্তা নেওয়া হচ্ছে তার পাশেই যাদের জন্য রাস্তা নেওয়া হচ্ছে তাদের জমি রয়েছে। এজন্য উভয়পক্ষের জমির ওপর দিয়ে রাস্তা নেওয়ার জন্য আমরা অনুরোধ করেছি। কিন্তু আজাদ প্যাদা চেয়ারম্যান নির্বাচন করবেন তাই আমার প্রতিবেশীদের বাড়িতে ভোটার বেশি হওয়ায় তাদের খুশি করার জন্য পুরো রাস্তা আমাদের জমির ওপর দিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। পুরো রাস্তা আমাদের জমির ওপর দিয়ে নেওয়া হলে আমাদের পরিবারের কমপক্ষে আট শতক জমি বিনষ্ট হবে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে বাটাজোর ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক মো. আজাদ প্যাদা বলেন, ওই রাস্তার আমি ঠিকাদার কিংবা বাস্তবায়নকারী কোনটাই না। তবে রাস্তাটি একশ’ বছরের পুরনো। এজন্য রাস্তাটি যাতে ইট সলিং হয় সেজন্য সুপারিশ করেছি। বাটাজোর ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত সদস্য এবং রাস্তা নির্মানের প্রকল্প সভাপতি পারভীন বেগম এ ব্যাপারে কোন কোন বক্তব্য দিতে রাজি হয়নি। গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইব্রাহীম বলেন, আপাতত নির্মান কাজ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। বিষয়টি সরেজমিন পরিদর্শন করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।