‘সকলের জন্য বৈষম্যহীন বাংলাদেশ কি তৈরী করতে পেরেছি?’

এফএনএস (মাহবুব খান বাবুল; সরাইল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া) : | প্রকাশ: ৫ আগস্ট, ২০২৬, ০৭:১৭ পিএম
‘সকলের জন্য বৈষম্যহীন বাংলাদেশ কি তৈরী করতে পেরেছি?’

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের সংবর্ধনা ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় এমপি ব্যারিষ্টার রূমিন ফারহানা বলেন, অভ্যুত্থান ছিল অন্যায় নিপিড়ন, গুম, বিচার বহির্ভূত হত্যা ও হেফাজতে নিয়ে নির্যাতনের বিপক্ষে। অভ্যুত্থান ছিল গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পক্ষে। সাধারণ মানুষ একটা বৈষম্যহীন সমাজ চেয়েছিল। এই বৈষম্য ১৮ কোটি মানুষের এক অংশের সাথে আরেক অংশের বৈষম্য। চাকরীতে কোটার বৈষম্য, সমাজের নারী পুরূষের বৈষম্য,ধর্ম সংখ্যা গুরূর সংগে সংখ্যা লঘুর বৈষম্য, বাঙ্গালীর বিরাট জনগোষ্ঠীর সংগে আদিবাসি প্রান্তিক জনগোষ্ঠির বৈষম্যের বিপক্ষে। আজকে যদি আমি প্রশ্ন করি গণ অভ্যুত্থানের দুই বছর পর হয়েছে। আমরা সেই রকম একটি বাংলাদেশ রচনা করতে পেরেছি? সকলের জন্য, সবাইকে নিয়ে বাংলাদেশ তৈরী করতে পেরেছি? তাহলে কি এটি কেবল মাত্র একটি সরকারের পরিবর্তে আরেকটি সরকার, কিছু সুবিধা ভোগির পরিবর্তে নতুন কিছু সুবিধা ভোগি তৈরীর আন্দোলন ছিল? যদি তাই হয় তবে ৮ শত মানুষ কেন জীবন দিল? কয়েক হাজার মানুষ কেন চিরতরে পঙ্গু হয়ে গেল? আহত হলো, চোখ হারাল? এমন তো হওয়ার কথা ছিল না। আমার আহবান থাকবে আগামী দিন গুলিতে আমরা যোগ্যতা ও মেধার ভিত্তিতে, কোন বিশেষ দল মতের ভিত্তিতে নয়, বিশেষ জাতি গোষ্ঠীর পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়। সবাইকে নিয়ে সবার জন্য সবার সমান অধিকারের একটি বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে তিনি বলেন, কেবল ২৬টি চ্যানেল নিয়েই গণমাধ্যম নয়। যারা শুনতে চান, তারা শুনতে পারবেন। নিষেধাজ্ঞা দিয়ে প্রচার বন্ধ রাখা যায় না। হাসিনার আমরা তারেক রহমানের বক্তব্যও কোর্টের আদেশ দিয়ে নিষিদ্ধ করতে দেখেছি। সেইটা যদি গণতন্ত্র না হয়, তবে এটা কীভাবে গণতন্ত্র হবে? শেখ হাসিনার দেশে ফেরা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তিনি (শেখ হাসিনা) বাংলাদেশের নাগরিক। এই দেশের রাজনীতিতে উনার পরিবার ও উনার দীর্ঘদিনের অবদার রয়েছে। উনার পরিবারকে সপরিবারে হত্যা করা হয়েছে। দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে তখন আওয়ামী লীগ ছিল একমাত্র দল। উনার অনেক বয়সও হয়েছে। উনি যদি দেশে ফিরে না আসেন, দলের অবস্থা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে? উনার এত দিনের যে রাজনৈতিক ইতিহাস সেইটারই বা কী হবে? সবকিছু বিবেচনায় আমার কমনসেন্স বলে উনি ফিরে আসবেন। সম্প্রতি ছাত্রদল ও শিবিরের সংঘর্ষ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এতে প্রতীয়মান হয় যে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি খুবই নাজুক। দলগুলোর তাদের ছাত্র সংগঠন গুলোর উপর কোন ধরণের নিয়ন্ত্রণ নেই। দিনশেষে আমরা যে আবারও পুরনো রাজনীতিতেই ফিরে যাচ্ছি এ গুলো সেটিরই ইঙ্গিত দিচ্ছে। রূমিন ফারহানাকে প্রধান অতিথি করায় ওই অনুষ্ঠানে আসেননি স্থানীয় বিএনপি ও সংগঠনের কোন নেতা কর্মী। এ বিষয়ে রূমিন ফারহানা বলেন, বিএনপিকে তো মানতে হবে মানুষ আমাকে ভোট দিয়ে এমপি নির্বাচিত করেছেন। এই কঠিন সত্যটা বিএনপিকে মেনে নিতে হবে। কারণ উনারা তো জনগণের জন্য রাজনীতি করেন। সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. পারভেজ আহমেদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন- সরাইল উপজেলা জামায়াতের আমীর মো. এনাম খাঁ, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন, সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনজুর কাদের ভূঁইয়া, সরাইল মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ বদর উদ্দিন, সরাইল সদর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল জব্বার, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মাহফুজুর রহমান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা মইনুল ইসলাম খন্দকার, এনসিপির উপজেলা সমন্বয়ক মো. মোবারক হোসেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সরাইল উপজেলা শাখার সভাপতি হাজী সাইফুল ইসলাম, জুলাই শহীদ মোবারক হোসেনের পিতা রমজান আলী, আহত ইয়াছিন মাহমুদ, জুলাই যোদ্ধা আলীফ মাহমুদ নাহিদ প্রমূখ। সভার শুরূতে জুলাই যোদ্ধা ও আহতদের ফুলের শুভেচ্ছায় সিক্ত করা হয়। সভা শেষে তাদেরকে সম্মাননা স্বারক প্রদান করেছেন উপজেলা প্রশাসন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে