১৫ বছর লড়াই করেছেন শামীমা, স্বপ্ন দেখছেন এমপি হওয়ার

এফএনএস (মাহবুব খান বাবুল; সরাইল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া) : | প্রকাশ: ১০ এপ্রিল, ২০২৬, ০৫:২২ পিএম
১৫ বছর লড়াই করেছেন শামীমা, স্বপ্ন দেখছেন এমপি হওয়ার

চাকচিক্য, ঢাকঢোল ও রাখঢাক  নয়। কর্ম, ত্যাগ আর সেবাই এগিয়ে নিচ্ছে শামীমাকে। তৃণমূল বিএনপি’র আশা ভরসা ও আশ্রয়স্থল জেলা জিয়া পরিষদের সদস্য সচিব শামীমা আক্তার। নিজ দলের অঙ্গসংগঠনের একাধিক পদে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। সরকার বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ ও নেতা কর্মীদের পাশে থেকে আলোচনায় এসেছেন তিনি। গত ১৫ বছর ধরে ফ্যাসিস্ট সরকারের নির্যাতন নিপীড়ন জেল জুলুম হুলিয়া সহ্য করে লড়েছেন মাঠে। ২০২৪ সালের ৫ ই আগষ্টের পর নি:স্বাস ফেলেছেন। এখন তিনি স্বপ্ন দেখছেন সংরক্ষিত আসনের মহিলা এমপি হয়ে মানুষের সেবা করার। কর্মী সমর্থকরাও এমপি হিসেবে দেখতে চান এই ত্যাগী নেত্রীকে। শামীমা আক্তার ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল উপজেলার চুন্টা ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামের প্রয়াত এনামুল হকের মেয়ে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি বসবাস করছেন জেলা শহরে। কিন্তু ওয়ার্ড থেকে শুরূ করে জেলা পর্যন্ত আন্দোলন সংগ্রাম ও দলীয় কর্মসূচিতে রয়েছে উনার সরব উপস্থিতি।

সরজমিন অনুসন্ধান, দলীয় একাধিক সূত্র ও স্থানীয়রা জানায়, সরাইলের মেয়ে শামীমার রয়েছে দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ার। দুই যুগেরও অধিক সময় ধরে তিনি শহীদ জিয়ার হাতে গড়া সংগঠন জাতীয়তাবাদী দলের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়েই রাজনীতি করছেন। পরবর্তীতে বেগম খালেদা জিয়া ও তারূণ্যের অহংকার তারেক জিয়ার নেতৃত্বের প্রতি অবিচল আস্থা রেখে এগিয়ে চলছিলেন তিনি। দলের দূর্দিনেও হাল ছাড়েননি শামীমা। দলের কঠিন পরিস্থিতিতে তিনি তৃণমূল নেতা কর্মীদের পাশে থেকে ঐক্যবদ্ধ রেখেছেন। দলের প্রতি শামীমার দায়িত্ববোধ ভালোবাসা আর অবিচল শ্রদ্ধার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে একাধিকবার বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের গুরূত্বপূর্ণ একাধিক পদে সততার সাথে দায়িত্ব পালন করে আস্থা অর্জন করেছেন। সরকার বিরোধী সকল প্রকার আন্দোলন সংগ্রাম মিটিং মিছিল ও দলীয় কর্মসূচিতে সরব উপস্থিতি ছিল উনার। আর এ জন্যই গত ১৫ বছর সরকারের অত্যাচার অবিচার নির্যাতন নিপীড়ন জেল জুলুম হুলিয়া নীরবে সহ্য করতে হয়েছে তাঁকে। নির্ঘুম রাত কাটিয়েছেন বছরের পর বছর। দলের স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা মনে করেন সময় এসেছে শামীমাকে পুরস্কৃত করার। উনাকে সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি নির্বাচিত করে অত্র এলাকার মানুষের ইচ্ছা আকাঙ্খার সফল বাস্তবায়নের। গত ১৫টি বছর তিনি দলের তৃণমূলকে আগলিয়ে রেখে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। এমপি হলে উন্নয়ন আর সেবার মাধ্যমে আরেকটি দৃষ্টান্ত তৈরী করবেন। তাই আমরা সকলে শামীমাকে মহিলা এমপি হিসাবে পেতে চাই।  সরাইল উপজেলা জিয়া পরিষদের সভাপতি মো. আব্বাস উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর মিয়া বলেন, গত ১৫-১৬ বছর এই আসনের বিএনপি ও দলটির অঙ্গসহযোগি সংগঠনের নেতা কর্মীরা ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের নানা দমনপীড়ন, অত্যাচার, নির্যাতন, জেল, জুলুম সহ্য করেছেন। এখন দল ক্ষমতায় অথচ এখানে দলীয় এমপি নেই। নেতাকর্মীদের যাওয়ার ও দাঁড়াবার কোন জায়গা নেই। আমাদের ভরসা এখন শামীমা আপা। আমরা উনাকেই এখানে মহিলা এমপি দেখতে চাই। উনি দীর্ঘদিন ধরে দলের জন্য কাজ করছেন। রাজপথে লড়াই সংগ্রাম করছেন। তাই দলের কাছে এখন উনি এ পদটি প্রত্যাশা করতেই পারেন। আমরা সরাইল আশুগঞ্জবাসী প্রত্যাশা করছি বিষয়টি দলীয় হাইকমান্ড গুরূত্ব দিয়ে বিবেচনা করবেন। আশুগঞ্জ উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক মো. হাবিবুর রহমান বলেন, দলীয় এমপি বিহীন সরাইল-আশুগঞ্জ এলাকার মহিলা এমপি হিসাবে আমরা শামীমাকেই চাই। শামীমা দলের জন্য বরাবরই নিবেদিত ও ত্যাগী। দুই উপজেলায় বিএনপি’র একনিষ্ঠ ও পরিক্ষীত কর্মী শামীমাই দলের প্রার্থী।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে